বাংলাদেশে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নাকচ করলো নিয়ন্ত্রক সংস্থা

গ্যাসসহ জ্বালানি সংকটের কারণে বাংলাদেশে ব্যাপক লোডশেডিং করা হচ্ছে

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, গ্যাসসহ জ্বালানি সংকটের কারণে বাংলাদেশে ব্যাপক লোডশেডিং করা হচ্ছে

বাংলাদেশে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম অপরিবর্তিত থাকবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন।

বৃহস্পতিবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বাল্ক বিদ্যুতের মূল্যহার পুনর্নির্ধারণ না করার এই ঘোষণা দেন বাংলাদেশের জ্বালানি নিয়ন্ত্রক এই সংস্থার চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল।

তিনি বলেন, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে যে দাম পুননির্ধারন করা হয়েছিল সেই দামটিই বহাল থাকবে।

সে অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে ইউনিটপ্রতি দাম থাকবে ৫ টাকা ১৭ পয়সা। আর খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৭ টাকা ১৩ পয়সা করেই থাকছে।

তবে বিইআরসির এই আদেশ পুনর্বিবেচনার জন্য ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন করা যাবে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর যে প্রস্তাব করেছিল তাতে, পাইকারি পর্যায়ে ৮ টাকার বেশি প্রস্তাব করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে বিইআরসি।

তবে বিইআরসির চেয়ারম্যান বলেন, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড যে প্রস্তাব দিয়েছিল তাতে এ খাতে সরকারের দেয়া ভর্তুকির বিষয়টি যুক্ত করা হয়নি। তিনি জানান, সরকার বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে।

গত ১২ই জানুয়ারি বিদ্যুতের দাম বাড়ানো নিয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-পিডিবি একটি প্রস্তাব দিয়েছিল।

তবে এই প্রস্তাবে পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়ানোর পর সেটি ভোক্তা পর্যায়ে কী ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে সে বিষয়ে কোন কিছু স্পষ্ট করা হয়নি বলে জানায় বিইআরসি। এ ধরণের তথ্যগত অস্পষ্টতা থাকার কারণেই বিদ্যুতের দাম পুনর্মূল্যায়ন করা হয়নি বলে জানানো হয়।

বিইআরসির একটি কারিগরি কমিটি ওই প্রস্তাবের মূল্যায়নের পর গত ১৮ই মে বিদ্যুতের দাম নিয়ে একটি গণশুনানি হয়। ওই শুনানির পর আজ বিদ্যুতের দাম অপরিবর্তিত রাখার এই ঘোষণা হলো।

সাধারণত বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের জন্য পাইকারী পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করা হয়।