প্রবাসী বিনিয়োগ: বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে বিপাকে ৭ ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ব্যবসায়ী

    • Author, আকবর হোসেন
    • Role, বিবিসি বাংলা

বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত সাতজন ব্রিটিশ ব্যবসায়ীকে একটি মামলায় গ্রেফতার করে আটদিন কারাগারে রাখার পর বৃহস্পতিবার তারা জামিন পেয়েছেন।

বাংলাদেশে তাদের প্রতিষ্ঠিত একটি ইনস্যুরেন্স কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা বা এজিএম-এ যোগ দিতে ঢাকায় গেলে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

তাদের ইনস্যুরেন্স কোম্পানির কাছ থেকে বীমার টাকা না পেয়ে চারজন গ্রাহক মামলা করলে আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।

কিন্তু বাংলাদেশি-বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই সাতজনকে হয়রানি করার জন্যই এ মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তারা মনে করছেন, এর ফলে ভবিষ্যতে ব্রিটেন প্রবাসীরা বাংলাদেশে এসে বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত হতে পারে।

হয়রানি অভিযোগ

মাগুরার তিনজন এবং ঝিনাইদহের এক ব্যক্তি মাগুরায় মামলাটি দায়ের করেছিলেন। তাদের অভিযোগ হচ্ছে, হোমল্যান্ড লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানিতে তাদের বীমার মেয়াদ শেষ হলেও তারা টাকা পাচ্ছেন না।

হোমল্যান্ড লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানির সাতজন পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়। তারা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ ব্যবসায়ী।

সাতজন পরিচালকের আইনজীবী একেএম শফিকুজ্জামান মাগুরা থেকে বিবিসি বাংলাকে বলেন, বৃহস্পতিবার তাদের ঢাকা থেকে মাগুরার আদালতে আনা হয়। শুনানি শেষে বিচারক তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।

"যদিও এই কোম্পানির একজন চেয়ারম্যান আছে, একজন এমডি আছে, আরো তিনজন ডাইরেক্টর আছে। কারো বিরুদ্ধে মামলা করে নাই। শুধুমাত্র সাতজন লন্ডন প্রবাসীর বিরুদ্ধে মামলা করা হইছে," বলেন আইনজীবী মি. শফিকুজ্জামান।

"প্রতিপক্ষরা তাদেরকে মামলায় গ্রেফতার করাইছে এবং এ মামলাটা করাইছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে।"

তবে এখানে 'প্রতিপক্ষ' কারা সেটি ব্যাখ্যা করেননি আইনজীবী শফিকুজ্জামান।

আরও পড়তে পারেন:

ব্রিটিশ ব্যবসায়ীদের বিস্ময়

হোমল্যান্ড লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি গঠিত হয় ১৯৯৬ সালে এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় তাদের শাখা রয়েছে।

এই কোম্পানির চেয়ারম্যান ছাড়াও আরো ১০জন পরিচালক আছেন। তাদের মধ্যে সাতজন ব্রিটেনে, একজন আমেরিকায় থাকেন।

এছাড়া চেয়ারম্যান এবং আরো দুইজন পরিচালক বাংলাদেশে থাকেন।

কিন্তু বীমার টাকা না পাওয়ায় বেছে বেছে সাতজনের নামে মামলা করার বিষয়টিতে বিস্ময় প্রকাশ করছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ ব্যবসায়ীরা।

বিবিসি বাংলায় অন্যান্য খবর:

তাদের মধ্যে অন্যতম ব্যবসায়ী বজলুর রশিদ। বাংলাদেশে একটি বীমা খাতে তিনিও বিনিয়োগ করেছেন।

মি. রশিদ বলছিলেন, সাতজন পরিচালককে গ্রেফতারের বিষয়টি তার কাছে সাদামাটা মনে হচ্ছে না।

তিনি বলেন, গ্রাহকরা যদি তাদের টাকা না পায় তাহলে কোম্পানি ব্যবস্থাপনার সাথে যারা জড়িত তাদেরকে গ্রেফতার করতে হবে।

"কাউকে গ্রেফতার না করে শুধু সাতজন প্রবাসীকে গ্রেফতার করেছে। এটা আমাদের কাছে মনে হয়েছে এটা সেট-আপ (আয়োজন করা)," বলেন মি. রশিদ।

ব্রিটেন প্রবাসী বাংলাদেশী ব্যবসায়ী এবং অভিযুক্তদের আইনজীবী মনে করছেন, এই মামলার পেছনে ষড়যন্ত্র আছে।

সাতজন প্রবাসী পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলার মাধ্যমে হয়রানি করে তাদের কোম্পানি থেকে সরাতে চাইছে কেউ।

যদিও হোমল্যান্ড ইনস্যুরেন্সের সিইও বিশ্বজিত কুমার মণ্ডল বলেন, কোম্পানির পরিচালকের মধ্যে ভালো সম্পর্ক রয়েছে এবং মামলার বিষয়টি তার আগে থেকে জানতেনও না।

"আমি যখন এখানে ইন্টারভিউ দিয়েছি তখন সাবেক চেয়ারম্যান এবং বর্তমান চেয়ারম্যান - দুজনের সাথেই আমার ইন্টারভিউ হয়েছে। এরপর অন্যান্য ডিরেক্টরদের সাথেও আমার ইন্টারভিউ হয়েছে। আমেরিকায় যিনি থাকেন ওনার সাথেও আমার জুম-এ ইন্টারভিউ হয়েছে," বলেন মি. মণ্ডল।

তাছাড়া বর্তমান চেয়ারম্যানকে অন্যান্য পরিচালকরা মিলেই নির্বাচিত করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের শঙ্কা

কিন্তু যেভাবে প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাতে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অনেকে চিন্তা করবে বলে মনে করেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ ব্যবসায়ী বজলুর রশিদ।

ব্রিটেন প্রবাসী ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে এমনিতেই নানা সমস্যা আছে।

তারপরেও সেসব অতিক্রম করে তারা দেশে বিনিয়োগ করতে চান।

কিন্তু এ ধরণের মামলা হয়রানির নজীর তৈরি হলে সেটি বাংলাদেশে বিনিয়োগ পরিস্থিতির জন্যই খারাপ হবে বলে তারা মনে করেন।