ধর্ষণ: উত্তরপ্রদেশে একই গাছে দুই কিশোরী বোনের ঝুলন্ত লাশ

ভারতের উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর খেরি জেলায় একই গাছের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় দুই কিশোরী বোনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের পরিবার অভিযোগ করেছে যে ঐ দু'বোনকে অপহরণ ও ধর্ষণ করে খুন করে তাদের দেহ গাছে ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছিল।

পুলিশ এপর্যন্ত ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ছয় ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে অপহরণের যে অভিযোগ পরিবারটি তুলেছে, তা মানতে চাইছে না পুলিশ।

পুলিশ কী বলছে

লখিমপুর খেরি জেলার পুলিশ সুপারিন্টেডেন্ট সঞ্জীব সুমন এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, "এই দুই বোনকে অভিযুক্তরা অপহরণ করে নি। মূল অভিযুক্ত ছেলেটি এই দুই বোনের বাড়ির কাছেই থাকে। তাদের ফুঁসলিয়ে একটা ক্ষেতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

"ওই ছেলেটিই আরও তিনটি ছেলের সঙ্গে এই দুই কিশোরীর আলাপ করিয়ে দিয়েছিল। এই চারজন ছাড়া বাকি যে দু'জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগ আছে।"

আরও পড়তে পারেন:

কী ঘটেছিল দুই কিশোরীর সঙ্গে

বুধবার সন্ধ্যায় এই ঘটনা হয়েছে নিঘাসন থানা এলাকায়। দুই কিশোরীর বয়স ১৫ আর ১৭ বছর। স্থানীয় গ্রামবাসী আর নিহতদের পরিবার বলছে, তিন ব্যক্তি কিশোরীদের ধর্ষণ করে খুন করে, পরে গাছের ডালে দেহ দুটি ঝুলিয়ে দেয়।

লক্ষ্ণৌ রেঞ্জে পুলিশের আইজি লাক্সমি সিং সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, "লখিমপুর খেরির ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে দুই কিশোরীর মৃতদেহ দুটি তাদেরই পরনের ওড়না দিয়ে ঝুলছিল। দেহ দুটিতে কোনও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায় নি। তবে ময়নাতদন্তের পরে বিস্তারিত জানা যাবে।"

ঘটনাটি সামনে আসার পরেই এলাকার মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা বিক্ষোভ প্রদর্শনও করেন, যেখানে সব অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করার দাবী ওঠে। উত্তেজিত জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে ঐ এলাকায় প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পরিবারের দাবী

নিহত দুই কিশোরীর মা স্থানীয় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তার সন্দেহ হচ্ছে যে তার মেয়েদের খুন করা হয়েছে।

তার অভিযোগ, পাশের গ্রামের তিন যুবক মোটরসাইকেলে চেপে এসেছিল। সেই সময়ে ঘরের পাশেই তার মেয়েরা খড় কাটছিল। তখনই জোর করে মেয়েদের উঠিয়ে নিয়ে যায় ওই যুবকরা।

বিরোধী দলগুলির দোষারোপ সরকারকে

রাজ্যের বিরোধী দলগুলি লখিমপুর খেরির ঘটনা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব টুইটারে এক পোস্টে লিখেছেন, "দুই দলিত বোনকে অপহরণ করে খুন করার অভিযোগ, তারপরে কিশোরীদের বাবা যেটা বলেছেন যে পঞ্চ নামা এবং পরিবারের অনুমতি ছাড়াই ময়না তদন্তের জন্য দেহ নিয়ে যাওয়া, এটা খুবই গুরুতর অভিযোগ। লখিমপুরে কৃষক হত্যার পরে এবার দলিত হত্যা হাথরাসের ঘটনার পুনরাবৃত্তি।"

দলিত নেত্রী ও রাজ্যের আরেক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতী মন্তব্য করেছেন, লখিমপুর খেরিতে মায়ের সামনেই দুই দলিত কিশোরীকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে তাদের সঙ্গে কুকর্ম করার পরে মৃতদেহ গাছে ঝুলিয়ে দেয়ার ঘটনাটি হৃদয় বিদারক। এধরনের ঘটনার যতোই নিন্দা করা হোক, তা যথেষ্ট নয়। উত্তরপ্রদেশে অপরাধীদের মনে কোনও ভয়ডর নেই, কারণ সরকারের অগ্রাধিকার তো অন্য কিছু।"

বদায়ুঁর ঘটনার সঙ্গে তুলনা

লখিমপুর খেরির ঘটনার সঙ্গে অনেকেই এর আগে ঘটা একই রকম একটি ঘটনার তুলনা টানছেন।

দু'হাজার চৌদ্দ সালে বদায়ুঁ জেলার এক গ্রামে দলিত পরিবারের দুই বোনের মৃতদেহ একই রকম ভাবে গাছের ডালে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল।

সেই ঘটনার তদন্তে নেমে কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সি সিবিআই খুঁজে পেয়েছিল যে দুই বোনকে গণধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছিল।

বিবিসি বাংলায় অন্যান্য খবর: