বাংলাদেশে মার্কিন ডলারের অভিন্ন নতুন দর ঘোষণা করা হলো, কার্যকর সোমবার থেকেই

ছবির উৎস, Getty Images
- Author, রাকিব হাসনাত
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
বাংলাদেশে মার্কিন ডলারের দাম নিয়ে অস্থিরতা কাটাতে রেমিট্যান্স, রপ্তানি ও আমদানির ক্ষেত্রে ডলারের একটি করে একক বা অভিন্ন দর ঘোষণা করেছে অ্যাসোসিয়েশন অফ ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) ও বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ অথরাইজড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা)।
বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানা পদক্ষেপ ও সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও দেশে ডলারের বাজারের অস্থিরতার অবসান না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাথে এক যৌথ সভার পর এবিবি ও বাফেদাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো টাকার বিপরীতে ডলারের একটি অভিন্ন দাম নির্ধারণের জন্য।
নতুন ঘোষণা অনুযায়ী প্রবাসী আয় আর রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে প্রতি মার্কিন ডলারের সর্বোচ্চ দর হবে ১০৮ টাকা আর রপ্তানি বিল নগদায়ন হবে প্রতি ডলারে ৯৯ টাকা।
আর এ দুটির গড় খরচ অর্থাৎ রেমিট্যান্স আহরণ ও রপ্তানি বিল নগদায়নে ব্যাংকগুলোর গড় খরচের সঙ্গে অতিরিক্ত এক টাকা যোগ করে আমদানিকারকের কাছে ১০৪ টাকা ৫০ পয়সা দরে ডলার বিক্রি করবে ব্যাংকগুলো।
এবিবি ও বাফেদার এক বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে বাফেদার চেয়ারম্যান ও রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফজাল করিম বলেছেন এ দরের পর আগামী পাঁচদিন বাজার পরিস্থিতি দেখে আবার পর্যালোচনা সভায় বসবেন তারা।
তবে এর আগেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলারের দাম নির্ধারণ করে দিয়ে তা কার্যকর করতে পারেনি। পরে আবার তা বাজারের উপর ছেড়ে দেয়া হয়েছিলো।
বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:

ছবির উৎস, Getty Images
বাংলাদেশে গত মে মাস থেকেই ডলারের বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়। আমদানি ব্যয় এত বেড়ে গিয়েছিলো যে রেমিট্যান্স আর রপ্তানি আয় দিয়ে তা সামাল দেয়া যাচ্ছিল না।
ডলারের দাম খোলা বাজারে ১২০ টাকা পর্যন্ত উঠে গিয়েছিলো। ডলার কেনাবেচায় অতি মুনাফা করায় দেশি-বিদেশি ১৩ ব্যাংকের কাছে ব্যাখ্যাও চেয়েছিলো বাংলাদেশ ব্যাংক।
এরপর আমদানি কমাতে নানা উদ্যোগের পাশাপাশি প্রবাসী ও রপ্তানি আয় কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়াতে সংকট কিছুটা কমলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা যাচ্ছিল না।
এ অবস্থায় দর নির্ধারণ নিজের হাত থেকে ব্যাংকগুলোর হাতে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার এবিবি ও বাফেদার সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলারের বাজার পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয় যে রোববারের বৈঠকে ডলারের যে দাম নির্ধারণ হবে সেটিই সব ব্যাংক মেনে চলবে।
তবে এখন নতুন দর ঘোষণার পরও দরকার হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে হস্তক্ষেপ করতে পারবে বলে জানিয়েছেন এবিবির চেয়ারম্যান ও বেসরকারি ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর এফ হোসেন।
"তবে আমরা মনে করি এখনকার পরিস্থিতিতে এটাই ডলারের ন্যায্য দাম," বলছিলেন তিনি।
এদিকে ডলারের দাম নিয়ে এই অস্থিরতার মধ্যে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও কমেছে। বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ দিনে রিজার্ভ ছিলো ৩ হাজার ৭০৬ কোটি ডলার যা গত বছরের শেষ দিকেও ছিলো প্রায় ৪ হাজার ৮০০ কোটি ডলার।








