এশিয়া কাপ ২০২২: বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দল কতটা দুর্বল? সাফল্যের সম্ভাবনা কতটা?

নতুন শুরুর কথা বলছে বাংলাদেশ- সাকিব আল হাসান অধিনায়ক হওয়ার পর একটি সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন একটা নতুন শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

তিনি নিজেই আবার বলেছেন, কয়দিন পর পরই যদি নতুন শুরু হয় তবে সেটা বাংলাদেশের জন্য ভালো কিছু না।

এই নতুন শুরুতে বাংলাদেশের দলে ঢুকেছেন সাব্বির রহমান।

তিন বছর আগে তিনি দল থেকে বাদ পড়েছিলেন, এরপর কেউই তার জায়গায় ব্যাট করে ভালো করতে পারেননি।

যিনি মূলত নিজের পারফরম্যান্সের চেয়েও দলে ঢুকেছেন অন্য ক্রিকেটারদের ব্যর্থতার কারণেই।

একই সাথে দলে ফিরেছেন নাইম শেখ, এই টি টোয়েন্টি ওপেনারের স্ট্রাইক রেট ১০৩। সাম্প্রতিক সময়ে সাব্বির বা নাইম বলার মতো কোনও টি টোয়েন্টি ইনিংসই খেলেননি।

স্থানীয় গণমাধ্যমে নির্বাচকরা বলেছেন, নাইম শেখ মূলত দলে ঢুকেছেন কারণ, তাদের হাতে উপায় নেই।

একে তো লিটন দাশের ইনজুরি, তামিম ইকবাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টি টোয়েন্টি ফরম্যাট থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

ওপেনার আছেন কেবল এনামুল হক বিজয় আর নবাগত পারভেজ ইমন।

তাই একজন ওপেনার দলে সাথে নিয়ে গেছেন তারা।

তাই এটাকে কতোটা নতুন শুরু বলা যায় তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়।

'বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের পারফরম্যান্স খারাপ', এই বক্তব্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনও স্বীকার করেছেন কিছুদিন আগে।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের পরিস্থিতি কতোটা খারাপ?

এশিয়া কাপে বাংলাদেশে নতুন করে শুরু করতেই হবে, নতুবা এই দলটির টি টোয়েন্টি ক্রিকেটে উন্নতির কোনও আশা নেই।

শেষ ১৯ ম্যাচে, মাত্র চারটিতে জিতেছে বাংলাদেশ।

টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে বাংলাদেশের খেলা ১৩১টি ম্যাচের ৮৩টিতেই হেরেছে বাংলাদেশ, জয় পেয়েছে ৪৫টিতে।

২০২১ সালে দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পর বাংলাদেশ পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ের সাথে সিরিজ হেরেছে এবং আফগানিস্তানের সাথে সিরিজ ড্র করেছে।

অর্থাৎ শেষ চারটি সিরিজে জয় পায়নি বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দল।

বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের স্ট্রাইক রেট করুণ

কিছুদিন আগেই বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কত্ব হারানো মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের স্ট্রাইক রেট ১১৭।

বর্তমান অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের স্ট্রাইক রেট ১২০।

বাংলাদেশের ওয়ানডে দলের অধিনায়ক যিনি টি-টোয়েন্টি দল থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন, তামিম ইকবালের স্ট্রাইক রেট ছিল ১১৭।

বর্তমান দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য মুশফিকুর রহিমের স্ট্রাইক রেট ১১৫।

বাংলাদেশের হার্ড হিটার হিসেবে বিবেচিত সাব্বির রহমানের টি-টোয়েন্ট স্ট্রাইক রেট ১২০।

বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের ভবিষ্যৎ ভাবা হয় আফিফ হোসেনকে, ৪৭টি টি টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার পরেও তার গড় ২০ এর নিচে, স্ট্রাইক রেট ১১৮।

টি-টোয়েন্টি দলের নিয়মিত ওপেনার নাইম শেখের স্ট্রাইক রেট ১০৩।

দলে সুযোগ পাওয়া উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান এনামুল হক বিজয়ের স্ট্রাইক রেট ১১৫।

স্লগ করতে পারেন বলে ধারণা করা হয় শেখ মেহেদি হাসান, তার স্ট্রাইক রেট ১০৪।

দেশ ছাড়ার আগে পাওয়ার ক্রিকেটের কথা বলেছেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, তার স্ট্রাইক রেট ১০৯।

বাংলাদেশের একমাত্র পেস বোলিং অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনের স্ট্রাইক রেট ১১৫, তাকেও হার্ড হিটার বিবেচনা করা হয় বাংলাদেশের ক্রিকেটে।

বাংলাদেশের তিন ফরম্যাটেই নিয়মিত ক্রিকেটার মেহেদী হাসান মিরাজের স্ট্রাইক রেট ১১৭।

যেখানে প্রতিপক্ষ দলের বাবর আজমকে ১২৮ স্ট্রাইক রেট নিয়েও সমালোচনা সইতে হয়, ভারতের লোকেশ রাহুল ১৪২ স্ট্রাইক রেট নিয়েও দলে জায়গা নিয়ে নিশ্চিত নন।

বাংলাদেশের বোলিং নিয়ে খানিকটা স্বস্তি আছে

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের একমাত্র স্বস্তির জায়গা বোলিং।

বাংলাদেশের দুজন স্পিনার নাসুম আহমেদ ও শেখ মেহেদী হাসান নিয়মিত পাওয়ার প্লেতে দলকে উইকেট এনে দিচ্ছেন।

এতে করে প্রতিপক্ষ কিছুটা হলেও বিপাকে পড়ে শুরুতেই।

কিন্তু পুরো বিশ ওভার জুড়ে ভালো বোলিং করা হয়না।

বাংলাদেশের বোলিংয়ে সবচেয়ে বড় দুর্বলতা শক্তিশালী পেস বোলিং না থাকা।

তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, সাইফুদ্দিনরা উইকেট পেলেও বেশ খরুচে বোলিং করেন।

তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বে স্পিনটা কাজে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই ধরনের উইকেটে বলে গ্রিপ পাওয়া যায়, স্পিনটাও ধরে ভালো।

নাসুম, মেহেদীরাও সুযোগ পেলে ভালো করতে পারবেন এই ধরনের কন্ডিশনে।

তবে সামগ্রিকভাবে দলের ভালো করতে হলে পেস বোলারদের যথাযথ প্রভাব ফেলা ও ব্যাটসম্যানদের রানের গতি বাড়ানোটা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হবে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে।

২৭শে অগাস্ট, আগামী শনিবার থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে শুরু হচ্ছে এশিয়া কাপ।

২০১৬ সালের মতো, এবারের এশিয়া কাপ হবে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে।