আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
হত্যা: মাকে গুলি করে খুন করলো ছেলে, যেভাবে ধরা হল তাকে
বাংলাদেশে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় ছেলের গুলিতে মায়ের মৃত্যুর ঘটনার পর পালিয়ে থাকা ছেলেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। পুলিশ বলছে পারিবারিক কলহের জেরে এই হত্যাকাণ্ড।
ঘটনার একদিন পর পুলিশের বিশেষ বাহিনী র্যাব তাকে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থেকে গ্রেফতার করেছে। মঙ্গলবার দুপুরে পটিয়া উপজেলা সদরের সামজার পাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে ছেলের গুলিতে নিহত হন জেসমিন আক্তার।
তিনি জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এবং পটিয়া পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান শামসুল আলমের স্ত্রী। মাত্র গত মাসেই মারা গেছেন শামসুল আলম।
যা ঘটেছিল সেদিন
ঘটনাটি ঘটেছিল একমাত্র মেয়ে শায়লা শারমিনের সামনে।
তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেন, "আমার দিকেই প্রথমে পিস্তল তাক করেছিল। কিন্তু সেই গুলিটা ফোটেনি। মাটিতে পড়ে গেছে। তারপরই সে আবার পিস্তল তাক করে এবং আম্মুর চোখে এসে গুলিটা লাগে।"
কথাগুলো বলতে গিয়ে এক পর্যায়ে কেঁদে ফেলেন শায়লা শারমিন।
"সে যখন দুপুর দেড়টার দিকে বাসায় ঢোকে তখনই সে ক্ষিপ্ত ছিল। আমি চাইনি আমার বাচ্চাটা তার এসব চেঁচামেচি দেখুক। সেজন্য মেয়েকে কাজের লোকের সাথে নিচে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। ও যে কোমরে গুঁজে পিস্তল নিয়ে এসেছে সেটা ঘুণাক্ষরেও আমার মাথায় ছিল না," বলছিলেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার প্রবাসী শায়লা শারমিন বলছিলেন, মৃত জেসমিন আক্তারকে অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে যাওয়ার জন্য ভিসার প্রক্রিয়া চলছিল।
এর আগেও তিনি মেয়ের সাথে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে থেকেছেন কিন্তু এবার পুরোপুরি মাকে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি। পরিবারের সবচেয়ে ছোট ছেলেটিও অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করছে।
মাইনুল ইসলাম কিছুদিন আগেই প্রেম করে বিয়ে করেছেন এবং অনুষ্ঠান করে স্ত্রীকে বাড়িতে নিয়ে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সেনিয়েও পরিবারের সাথে তার বিবাদ ছিল বলে পুলিশ বলছে।
ঘটনা নিয়ে পুলিশ যা বলছে
পটিয়া থানায় ছোট ভাই মাইনুল ইসলামের বিরুদ্ধে শায়লা শারমিনের দায়ের করা হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: রেজাউল করিম মজুমদার জানান, ব্যাংকে মৃত শামসুল আলমের রেখে যাওয়া অর্থ নিয়ে ঘটনার দিন মা ও বোনের সাথে বাদানুবাদ হয়েছিল পরিবারের মেজো ছেলে মাইনুল ইসলামের।
মি. আলমের মৃত্যুর পর থেকেই তাদের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলছিল বলে জানান মি. মজুমদার।
"ব্যাংকে তিন লাখ টাকা রাখা ছিল যার নমিনি ছিল মা এবং তের লাখ টাকার একটা এফডিআরের নমিনি ছিল বোন। তার মা এবং বোন সেদিন ব্যাংকে গিয়েছিল এই টাকাটা কোন প্রক্রিয়ার তারা তুলবেন সেব্যাপারে পরামর্শ করার জন্য। সে খবর পেয়েছে যে মা ও বোন মিলে টাকাগুলো তুলে নিয়ে এসেছে। টাকা নিয়ে তারা অস্ট্রেলিয়া চলে যাবে। এটা শুনে সে বাসায় আসে এবং ঝগড়ার এক পর্যায়ে গুলি করে দেয়।
"প্রথম গুলিটা মিস ফায়ার করেছে বলে বোনটি বেঁচে গেছে। এরপর সে আবার পিস্তল ঠিক করে মায়ের দিকে গুলি করে। গুলিটা গিয়ে মায়ের চোখের নিচের দিকে গিয়ে লাগে," বলছিলেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। ব্যবহৃত অস্ত্রটির লাইসেন্স ছিল না বলে জানিয়েছেন তিনি।
যেভাবে গ্রেফতার করা হল ছেলেকে
র্যাব সাতের কমান্ডার লেফটেনেন্ট কর্নেল এম এ ইউসুফ জানান, গ্রেফতার মাইনুল ইসলামের নামে অস্ত্র মামলাসহ এর আগেই আরও আটটি মামলা রয়েছে।
মাইনুল ইসলাম চট্টগ্রাম শহরে বসবাস করতেন এবং কোন পেশার সাথে যুক্ত ছিলেন না।
তার ভাষায়, "নেশা ও আচরণগত সমস্যার কারণে বাবা-মা বা পরিবারের কেউই তার উপর সন্তুষ্ট ছিল না। হয়ত এই কারণে বাবা বেঁচে থাকাকালীন তাকে নমিনি করেনি। পরিবারের সাথে কথা বলে আমাদের এরকম মনে হয়েছে।"
কীভাবে মাইনুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হল তার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, "ঘটনার পর প্রথমে সে অস্ত্রটা লুকিয়ে দোহাজারিতে গিয়ে পালিয়েছিল।
"গতকাল সে বাসে করে ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। আমাদের কাছে থাকা খবর অনুযায়ী আমরা চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ঢাকাগামী ওই বাসটি থামাই। বাস যাত্রা শুরু করার পরপরই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।"