ফিলিপিন: মার্কোস সিনিয়রের শাসনকালে অত্যাচারিতরা ক্ষতিপূরণ পেলেন যেভাবে - ইতিহাসের সাক্ষী

ফিলিপিনে রাজনীতির ইতিহাসে দুর্নীতির জন্য কুখ্যাত হয়ে ওঠা স্বৈরশাসক ফার্দিনান্দ মার্কোস সিনিয়ারের শাসনামলে অত্যাচার ও নির্যাতনের শিকার মানুষদের হাতে সামান্য হলেও ক্ষতিপূরণের কিছু অর্থ পৌঁছেছিল দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে লড়াইয়ের পর।

ফার্দিনান্দ মার্কোস সিনিয়র ১৯৭০ আর ৮০র দশকে তার সামরিক শাসনামলে বিপুল পরিমাণ অর্থ নয়ছয় করেছিলেন বলে কথিত আছে।

তার শাসনামলে অত্যাচার ও নিষ্ঠুরতার শিকার হাজার হাজার ফিলিপিনোর জন্য ক্ষতিপূরণের লড়াই চালিয়েছিলেন আমেরিকার ফিলাডেলফিয়ার এক মানবাধিকার আইনজীবী রবার্ট সুইফট। তার লক্ষ্য ছিল দুর্নীতির মাধ্যমে যে অগাধ সম্পত্তির মালিক মার্কোস পরিবার হয়েছিল, সেই অর্থ উদ্ধার করে অত্যাচারিতদের হাতে তুলে দেয়া।

বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মি. সুইফট বলেন, ১৯৯৩ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি ম্যানিলায় যান সাবেক স্বৈরশাসক ফার্দিনান্দ মার্কোসের বাসভবনে তার স্ত্রী ইমেল্ডা মার্কোসকে জবাবদিহিতার মুখোমুখি করতে এবং পরিবারের বিপুল সম্পত্তির উৎস খুঁজে বের করতে।

ফার্দিনান্দ মার্কোস সিনিয়র ততদিনে অবশ্য মারা গেছেন।

বিলাস সামগ্রীতে ভরা প্রাসাদ

শুরু থেকেই ছিল নানা ধরনের বিপদ সঙ্কেত।

"আমি গাড়ি নিয়ে যখন মার্কোসের বাসভবনের দিকে যাচ্ছিলাম, হঠাৎ দেখলাম ওই পথে হেঁটে চলেছে একদল লোক- তাদের হাতে ব্যানার, তাতে লেখা 'সুইফট একজন কম্যুনিস্ট'। বুঝলাম আমার কপালে দুর্ভোগ আছে," বলছিলেন রবার্ট সুইফট।

"জনা পঞ্চাশেকের বেশি লোক হঠাৎ আমাদের গাড়িটা ঘিরে ধরে গাড়িটা ঝাঁকাতে শুরু করল। ওই দলে কারা আছে- তাদের হাতে অস্ত্র আছে কিনা- কিছুই জানি না। আমরা তখন ফটকের বাইরে। মনে আছে মিনিট দশেক এভাবে কাটার পর অবশেষে রক্ষী ফটক খুলে আমাদের ভেতরে ঢুকতে দিল।"

হাজার হাজার জোড়া জুতোর মালিক হিসাবে ইমেল্ডা মার্কোসের নাম তখন বিশ্বজোড়া।

শুধু জুতোই নয় বিলাসবহুল নানা সামগ্রীতে ঠাসা তার বাসা, যার প্রমাণ রবার্ট সুইফট নিজে প্রত্যক্ষ করেছিলেন।

"ঘরের ভেতরে সারি সারি অসংখ্য তাকের ওপর সাজানো হাজার হাজার জোড়া জুতো। বল নাচের চোখ ধাঁধাঁনো সব গাউন আর বিশাল বিশাল তাকে সারি সারি সাজানো দামী দামী সব সুগন্ধি। দেখে আমার মাথা ঘুরে গিয়েছিল।"

আরও পড়তে পারেন:

গণক্ষমতার অভ্যুত্থান

ফার্দিনান্দ মার্কোস ১৯৮৬ সালে এক গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন।

জনতার সেই বিপ্লবে পথে নামেন দশ লাখের বেশি ফিলিপিনো- বিপ্লবের সেই ঢেউয়ে টিকতে পারেননি দেশটির চরম দুর্নীতিগ্রস্ত ও সবচেয়ে নিষ্ঠুর শাসক। ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন মি. মার্কোস ও তার স্ত্রী ইমেল্ডা মার্কোস।

মার্কোস-বিরোধী এক রাজনীতিক নিনয় আকিনো আততায়ীর হাতে নিহত হবার পর তার বিধবা স্ত্রী কোরি আকিনোকে বিরোধী দলগুলো মি.মার্কোসের প্রতিপক্ষ হিসাবে দাঁড় করায় ১৯৮৬ সালে আকস্মিকভাবে ডাকা এক প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে।

ওই নির্বাচনে মি. মার্কোসকে বিজয়ী ঘোষণা করায় নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ ওঠে এবং উত্তাল হয়ে ওঠে জনরোষ।

বিক্ষোভকারীদের পেছনে প্রধান সমর্থক ছিল দেশটির ক্যাথলিক চার্চ। পরে সেনাবাহিনীর উর্ধ্বতন সদস্যরাও মি. মার্কোসের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন।

বিদ্রোহী সেনা অফিসারদের সমর্থন জোগাতে রাজপথে ফিলিপিনো জনগণের ঢল নামে। প্রেসিডেন্ট মার্কোস সেনাবাহিনীকে বিক্ষোভ দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেবার নির্দেশ দেবার পরেও প্রেসিডেন্টের অনুগত সৈন্যরা জনতার ওপর গুলি চালাতে অস্বীকার করে।

প্রেসিডেন্ট মার্কোসের দুর্নীতিগ্রস্ত ও নির্মম সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পথে নেমেছিল দশ লাখের ওপর ফিলিপিনো, যেটাকে বলা হয় পিপল পাওয়ার রেভল্যুশান- গণক্ষমতার বিপ্লব।

চার দিন লাগাতার গণ বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে ফিলিপিন।

বিশ বছর দেশ শাসন করার পর জনরোষের মুখে দেশ ছেড়ে সপরিবারে আমেরিকার হাওয়াইতে পালিয়ে যান ফার্দিনান্দ মার্কোস সিনিয়র।

ফার্দিনান্দ মার্কোস সিনিয়র ছিলেন কট্টর কম্যুনিস্ট বিরোধী। ১৯৭০ ও ৮০র দশকে ফিলিপিনে সামরিক শাসনের সময় তার পেছনে ছিল আমেরিকান সরকারের মদত।

নির্মম ও অত্যাচারী শাসক হিসাবে তিনি কুখ্যাত হয়ে উঠেছিলেন। হাজার হাজার মানুষ তার শাসনামলে নির্যাতনের শিকার হয়।

মি. মার্কোস সেসময় বিরোধী দলকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছিলেন "আমি কতটা কঠোর হতে পারি তা আপনাদের জানা আছে। আমাকে চরম পথে যেতে বাধ্য করবেন না। প্রয়োজন হলে সে পথ আমি নেবই।"

চরম বিলাসী জীবন

যখন ফিলিপিনের বেশিরভাগ মানুষ চরম দারিদ্রের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন, তখন মি. মার্কোস তার এবং বিশেষ করে তার স্ত্রী ইমেল্ডার ব্যাপক বিলাসবহুল জীবনযাপনের অর্থ জোগানোর জন্য সরকারি তহবিল থেকে কোটি কোটি ডলার চুরি করছেন এমন অভিযোগ ছিল।

রবার্ট সুইফট বলছেন, মি. মার্কোসের পক্ষে এসব অর্থ সরানো সম্ভব ছিল।

"বিশেষ করে রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পে আমেরিকা বা জাপান সরকারের দেয়া অর্থ তহবিল থেকে তিনি একটা শতাংশ সরিয়ে নিতেন নিজের কাজ দেখিয়ে। সে ক্ষমতা তার ছিল। তার বিপুল অর্থের আরেকটা উৎস ছিল তার প্রশাসন থেকে যেসব ব্যক্তি লাভবান হতেন তারা তাকে উপহারস্বরূপ প্রচুর অর্থ দিতেন অথবা দলীয় তহবিলে চাঁদা দিতেন।"

মি. মার্কোস প্রচুর অর্থ ব্যয়ে বহু মূল্যবান শিল্পকর্ম কিনেছেন, আমেরিকার ম্যানহ্যাটনে অফিস ভবন কিনেছেন, স্ত্রী ইমেল্ডাকে নিয়ে চরম বিলাসী জীবন কাটিয়েছেন।

ক্ষতিপূরণ আদায়ের লড়াই

ফিলিপিনে তখন যা ঘটছিল তার ওপর ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখছিলেন আইনজীবী রবার্ট সুইফট। তাকে ভিয়েতনাম যুদ্ধে যেতে হয়েছিল। যুদ্ধ শেষে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার রাজনীতি নিয়ে তিনি আগ্রহী হয়ে ওঠেন।

ফার্দিনান্দ মার্কোস ক্ষমতাচ্যুত হবার পর তার শাসনকালে নির্যাতনের শিকার হাজার হাজার ফিলিপিনোর মানবাধিকার লংঘনের দায়ে ক্ষতিপূরণ আদায়ে তিনি তাদের হয়ে আইনী লড়াই শুরু করেন।

তিনি নির্যাতিত ফিলিপিনোদের সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করতে একটি কমিটি তৈরি করেন এবং সেই সময়ে ঘটা ভয়াবহ সব ঘটনার কথা জানতে পারেন।

ইতিহাসের সাক্ষীর পুরনো পর্ব:

"উইদলিওসো ইমেল-ছিলেন একজন কলেজ ছাত্রী। তার স্কুলের সংবাদপত্রের সম্পাদক ছিলেন তিনি। ওই পত্রিকায় মার্কোসের সমালোচনা করে একটি নিবন্ধ ছাপা হয়। মিস ইমেলকে ধরে সেনাবাহিনীর সদর দপ্তরে নিয়ে আসা হয়। তিনি প্রশ্নের জবাব দিতে অস্বীকার করলে, তার গলার ভেতর মিউরিয়েটিক অ্যাসিড ঢেলে দেয়া হয়। বীভৎসভাবে তার মৃত্যু ঘটে," বলেছেন মি. সুইফট।

ফিলিপিনের মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সহযোগিতা নিয়ে মি. সুইফট নির্যাতনের শিকার দশ হাজারের ওপর ফিলিপিনোর একটি ডেটাবেস তৈরি করেন।

এরপর ১৯৯২এর সেপ্টেম্বরে তিনি আমেরিকার এক আদালতে মার্কোস পরিবারের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন।

তিনি যুক্তি দেন মার্কোস প্রশাসনের সময় চালানো অত্যাচার নির্যাতনের মামলায় ফার্দিনান্দ মার্কোসের বিচারের এখতিয়ার আমেরিকান আদালতের আছে, কারণ সেসময় মার্কোস পরিবার বাস করছিলেন আমেরিকায় হাওয়াইতে।

"আমি আশাবাদী ছিলাম। তবে, আমরা আদালতে যেসব সাক্ষ্যপ্রমাণ হাজির করেছিলাম, আমেরিকায় এর আগে কোন জুরিকে এধরনের অপরাধে বিচার করতে হয়নি। আমি তাই সত্যিই খুশি হয়েছিলাম যখন দেখলাম জুরি সদস্যরা আমাদের সাথে একমত হয়েছেন এবং মার্কোসকে দায়ী করেছেন।"

ইয়ামাশিতার স্বর্ণভাণ্ডার

রবার্ট সুইফটের জন্য এর পরের ধাপ ছিল ক্ষতিপূরণ আদায়। কয়েক দশক ধরে বাজারে গুজব ছিল যে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে আছে মার্কোস পরিবারের বিপুল সম্পত্তি, এমনকী তাল তাল সোনাদানা। কিন্তু এসব প্রমাণ করা ছিল কঠিন।

আইনী লড়াই যখন এই পর্যায়ে, ততদিনে হাওয়াইতে মারা গেছেন ফার্দিনান্দ মার্কোস সিনিয়র ১৯৮৯ সালে।

মি. সুইফট ১৯৯৩ সালে যখন ইমেল্ডা মার্কোসকে জেরা করতে ফিলিপিনের রাজধানী ম্যানিলায় যান, তখন মিসেস মার্কোস তার স্বামীর আর্থিক বিষয় নিয়ে সেভাবে মুখ খুলতে চাননি। এক পর্যায়ে তিনি বলেন তার স্বামী আসলে ইয়ামাশিতার স্বর্ণভাণ্ডার খুঁজে পেয়েছিলেন।

"প্রবাদ আছে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময় জাপানি জেনারেল ইয়ামাশিতা যখন তার সেনাবাহিনীকে নিয়ে পাহাড়ি পথ ধরে পিছু হঠছিলেন, তখন পালানোর পথে তিনি ফিলিপিনের নানা গুহায়, সুড়ঙ্গে আর মাটির নিচে লুট করা সোনা পুঁতে রেখে যান। স্বামীর অর্থবিত্ত নিয়ে ইমেল্ডা নানারকম আজগুবি কাহিনি বলেন- কিন্তু স্পষ্ট কিছুই তার কাছ থেকে বার করা যায়নি," বলেন মি. সুইফট।

অন্য যেসব প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই

সেদিন মিসেস মার্কোসের বিশাল অট্টালিকায় প্রায় সারা দিন ছিলেন রবার্ট সুইফট। আর সারাদিন বাইরে জমায়েত ছিল মার্কোস সমর্থকরা।

"আমি যখন বেরোলাম, বাইরে একটা তুমুল চিৎকার উঠল। জনতা আমাকে লক্ষ্য করে পচা ডিম আর টমেটো ছুঁড়তে লাগল। শুনেছিলাম মার্কোস পরিবার আগে থেকেই এসব ঠিক করে রেখেছিল।

"তাদের একজন সাংবাদিক আর ফটোগ্রাফারকেও সেখানে হাজির রাখা হয়েছিল। একটা সংবাদপত্রে সেটা প্রধান খবর হয়েছিল- সেখানে লেখা হয়েছিল আমার কাজ জনতা ভালভাবে নেয়নি- আর তাই আমার গাড়ি লক্ষ্য করে তারা ডিম আর টমেটো ছুঁড়েছে।"

মি. সুইফটকে ফিলিপিনের নতুন সরকারের ক্ষোভও মোকাবেলা করতে হয়। কারণ নতুন সরকারের যুক্তি ছিল মি. মার্কোসের পরিবারের কাছ থেকে অর্থসম্পদ উদ্ধারের দায়িত্ব তাদের।

ফিলিপিনের সলিসিটর জেনারেল এমনকী মি. সুইফটকে আর কারও সাক্ষ্যপ্রমাণ নিতেও বাধা দেন।

তবে ফিলিপিন টেলিভিশনে শুনানি দেখানো হয় লাইভ আর সেসময় বাইরে ছিল বিশাল জনতার ঢল।

এক পর্যায়ে বিচারক নিরাপত্তা কর্মীদের বাইরে গিয়ে জনতাকে শান্ত করার নির্দেশ দেন, বলছিলেন রবার্ট সুইফট। কারণ বাইরের চিৎকারে তিনি আদালতের ভেতর কথাবার্তা শুনতে পাচ্ছিলেন না।

"যাহোক বিচারক শেষ পর্যন্ত মেনে নেন যে আমার কাজের কারণে আমি ফিলিপিনের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করিনি। আমি রাতারাতি ফিলিপিনোদের কাছে অন্যতম সবচেয়ে বিখ্যাত আমেরিকান হয়ে উঠি। তখনও পর্যন্ত ফিলিপিনের মানুষের কাছে সবচেয়ে পরিচিত আমেরিকান ছিলেন বিল ক্লিন্টন। তারপরেই যোগ হয় আমার নাম।"

'বিরাট সাফল্য'

ফিলিপিনে সাক্ষপ্রমাণ সংগ্রহের কাজ শেষ করে রবার্ট সুইফট ফিরে যান আমেরিকার আদালতে।

এবারের চ্যালেঞ্জ ছিল মি. মার্কোসের অর্থসম্পদের কতটা জুরিরা তার শাসনামলে অত্যাচারিত ব্যক্তিদের হাতে তুলে দিতে রাজি হন সেটা দেখা।

"আমি জুরিদের কাছে আবেদন করি প্রত্যেক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে যদি অন্তত এক লাখ ডলার করে ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়।"

মি. সুইফট বলেন, বিবাদী পক্ষের আইনজীবী জুরিদের সামনে তাকে অপদস্থ করতে ব্যঙ্গ করে বলেছিলেন - মি. সু্‌ইফট চাইছেন আপনারা যেন একশ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ ধার্য করেন।

"আমি অবাক হয়ে যাই যখন জুরিরা শেষ পর্যন্ত একশ বিশ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দেবার পক্ষে রায় দেন। তারা বলেন আমি ক্ষতিপূরণের অঙ্ক কম ধরেছিলাম। এই বিজয় ছিল বিরাট এক সাফল্য।"

নতুন চ্যালেঞ্জ

আইনজীবী রবার্ট সুইফট জানতেন মার্কোস পরিবারের কাছ থেকে এই ১.২ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ উদ্ধার করা হবে রীতিমত দুরূহ একটা কাজ।

ইতোমধ্যে মি. সুইফট বুঝে গিয়েছিলেন যে মার্কোস পরিবারের অর্থসম্পদ কোথায় আছে তা খুঁজে বের করতে ফিলিপিন কর্তৃপক্ষের ওপর তিনি ভরসা করতে পারবেন না। ফলে তিনি তার দলবল নিয়ে নিজেই শুরু করেন গোয়েন্দাগিরি। যদিও তাতে খুব একটা সফল তিনি হতে পারেননি।

"মার্কোস তার মুত্যুর আগে হাওয়াইতে তিন বছর ছিলেন। তার নিজের একটা বুলেটপ্রুফ লিমুসিন গাড়ি ছিল। আমরা তার ঐ দামী গাড়ি এবং তার বাড়ি বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করি। লিমুসিনের জন্য দাম পাই মাত্র ৩০ হাজার ডলার।

"আমরা লাস ভেগাসের একটি যাদুঘরের কাছে ওই লিমুসিন বিক্রি করেছিলাম। তাদের সংগ্রহে ছিল হিটলার এবং মুসোলিনির ব্যবহার করা লিমুসিনও।"

ক্ষতিপূরণ নিয়ে বিতর্ক

তবে রবার্ট সুইফটের কাজ ফিলিপিনে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। নির্যাতনের শিকার কেউ কেউ অভিযোগ করেছিলেন যে মি. সুইফট এই ক্ষতিপূরণ থেকে মোটা অঙ্কের কমিশন রেখেছেন নিজের জন্য।

কিন্তু আইনজীবী রবার্ট সুইফট বলেছেন ক্ষতিপূরণ আদায়ে কয়েক দশক ধরে তাদের যে ব্যাপক প্রচারণা, অনুসন্ধান, ভ্রমণ ও অন্যান্য কাজ করতে হয়েছে সেই খরচ বাবদ কমিশনের এই অর্থ নেয়া হয়েছে ।

তিনি ফিলিপিনে ফিরে যান ২০১১ সালে এবং মি. মার্কোসের নির্যাতনের শিকার ১০ হাজারের বেশি মানুষের প্রত্যেকের হাতে তুলে দেন এক হাজার ডলার করে ক্ষতিপূরণের অর্থ।

"দু মাসের ওপর আমি ফিলিপিনে থাকি। স্যুটকেস ভর্তি চেক নিয়ে ঘুরে বেড়াই সারা দেশে। মানুষ সাধারণভাবে খুবই খুশি হয়েছিল। কারণ তারা কোনরকম আর্থিক ক্ষতিপূরণের জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেছে। তারা ধরেই নিয়েছিল কোন অর্থই তারা পাবে না।

"অনেকেই আমাকে সঙ্গে নিয়ে একটা ছবি তুলতে চেয়েছে। অনেকে চেক হাতে নিয়ে কেঁদে ফেলেছে। কারণ সেইসব অত্যাচার নির্যাতনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তাদের স্মৃতিতে ফিরে এসেছে।"

রবার্ট সুইফট বলেন, এসব দেখে তার মধ্যে একটা প্রত্যয় আরও দৃঢ় হয়েছিল এবং তিনি নিশ্চিত হয়েছিলেন যে তাদের তিনি সত্যিকার কিছু সাহায্য করতে পেরেছিলেন।

সত্তর-ঊর্দ্ধ রবার্ট সুইফট এখনও ফিলিপিনের সেই অত্যাচারিত মানুষদের জন্য তার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।