ব্রিটেনে কনসারভেটিভ পার্টিতে নেতৃত্বের লড়াই দেশটির রাজনীতিতে কী পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়?

    • Author, মোয়াজ্জেম হোসেন
    • Role, বিবিসি বাংলা, লন্ডন

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন যখন জুলাই মাসে দলের মধ্যে তীব্র বিদ্রোহের মুখে পদত্যাগের ঘোষণা দিতে বাধ্য হলেন, তার প্রায় সাথে সাথেই নতুন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য দ্বিতীয় সারির নেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতার হিড়িক পড়ে গেল।

এই দৌড়ে প্রাথমিক বাছাইয়ের পর শেষ পর্যন্ত সামিল হন মোট সাত জন এমপি, কিন্তু একটা অভূতপূর্ব ব্যাপার দেখা গেল সেখানে। ব্রিটেনে এই প্রথম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সামিল হয়েছেন একজন নয়, এক সঙ্গে মোট চার জন অশ্বেতাঙ্গ প্রার্থী। আরও অবাক করার ব্যাপার হচ্ছে, এটি ঘটছে এমন একটি দলে, যে কনসারভেটিভ পার্টিকে মাত্র দুই-তিন দশক আগেও ব্রিটেনে অভিবাসী হয়ে আসা মানুষ এবং জাতিগত সংখ্যালঘুদের ব্যাপারে বেশ বৈরি বলে মনে করা হতো।

"বিশ-তিরিশ বছর আগে এটা কল্পনাও করা যেত না যে, কোন জাতিগত সংখ্যালঘু মানুষ কনসারভেটিভ পার্টি থেকে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হবেন। অথচ, এবার যারা প্রধানমন্ত্রী হবার দৌড়ে নেমেছিলেন, তাদের অর্ধেকের বেশি ছিলেন সংখ্যালঘু। কনসারভেটিভ পার্টি কতটা বদলেছে এটা তারই ইঙ্গিত। একই সঙ্গে ব্রিটিশ জনগণের দৃষ্টিভঙ্গিও কতটা পাল্টেছে, এটা তারও ইঙ্গিত," বলছিলেন শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতির গবেষক ডঃ অ্যান্ড্রু বার্কলে। ব্রিটেনে জাতিগত সংখ্যালঘু এবং বিভিন্ন ধর্মবিশ্বাসী মানুষের ভোট দানের প্রবণতা নিয়ে গবেষণা করেছেন তিনি।

অন্যান্য খবর:

কনসারভেটিভ পার্টির নিয়ম হচ্ছে, দলের নেতা এবং প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য যারা প্রার্থী হবেন, তাদের মধ্য থেকে এমপিরা ভোট দিয়ে দুজনকে বাছাই করবেন। এরপর এই দুজনকে যেতে হবে দলের রেজিস্টার্ড সাধারণ সদস্যদের কাছে। কনসারভেটিভ পার্টির তৃণমূলের এই চাঁদা দেয়া সদস্যদের ভোটেই চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবেন দলের নেতা।

কনসারভেটিভ পার্টির নেতা হওয়ার জন্য এবার যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে, তাতে এত বিচিত্র জাতি-বর্ণ-ধর্মের প্রার্থীরা দাঁড়িয়েছিলেন যে, তা এখানকার রাজনৈতিক বিশ্লেষকদেরও বেশ বিস্মিত করেছে। সাত জনের মধ্যে খ্রিস্টান, হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ - নানা ধর্মের অনুসারী যেমন ছিলেন, ছিলেন ভারতীয়, পাকিস্তানি, নাইজেরিয়ান- এরকম নানা জাতিগোষ্ঠীর মানুষ।

এই সাত জনের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় এখন টিকে আছেন দু'জন- বর্তমান মন্ত্রিসভার পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রাস, এবং সাবেক অর্থমন্ত্রী, ভারতীয় বংশোদ্ভূত ঋষি সুনাক।

কে হবেন পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী

ব্রিটেনে প্রধানমন্ত্রীর পর দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ পদ বলে মনে করা হয় 'চ্যান্সেলর অব এক্সচেকার' বা অর্থমন্ত্রীর পদটিকে। ঋষি সুনাক হচ্ছেন প্রথম অশ্বেতাঙ্গ রাজনীতিক, যিনি ব্রিটিশ সরকারের এত গুরুত্বপূর্ণ এক উচ্চপদে আসতে পেরেছিলেন।

জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে বরিস জনসনের বিরুদ্ধে যখন বিদ্রোহ দানা বাঁধছিল, তখন হঠাৎ করেই তিনি পদত্যাগ করে বিদ্রোহে সামিল হন। আর বরিস জনসনের পদত্যাগের ঘোষণার কয়েকদিনের মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এক ভিডিও শেয়ার করে ঋষি সুনাক কনসারভেটিভ পার্টির নেতা হওয়ার জন্য দাঁড়াবেন বলে ঘোষণা দেন।

এই ভিডিওটি যেরকম পেশাদারিত্বের সঙ্গে তৈরি করা হয়েছে, তাতে অনেকের ধারণা ঋষি সুনাক মন্ত্রিপরিষদ থেকে পদত্যাগের আগেই এটি তৈরি করিয়ে রেখেছিলেন, এবং তাঁর মধ্যে নেতৃত্বের বাসনা আগে থেকেই ছিল।

মাত্র সাত বছর আগে তিনি প্রথম এমপি নির্বাচিত হন, কিন্তু এরপর যেভাবে তার দ্রুত উত্থান ঘটেছে দলের মধ্যে, সেটি অনেককেই বিস্মিত করেছে।

ব্রিটিশ-বাংলাদেশি আজমল মাসরুর, যিনি নিজে একবার লিবারেল ডেমোক্রটিক পার্টি থেকে এমপি নির্বাচন করেছেন, তিনি এটিকে এক অসাধারণ অর্জন বলে বর্ণনা করছেন।

"ভারতীয় বংশোদ্ভূত একজন রাজনীতিক ব্রিটেনে এত দ্রুত, এতদূর পর্যন্ত এগিয়ে এসেছেন, এটা আসলেই একটা বিরাট ঘটনা। ব্রিটিশ রাজনীতিতে এটি আমরা আগে কখনো দেখিনি। মাত্র সাত বছর আগে যিনি প্রথম এমপি হয়েছেন, তিনি এত তাড়াতাড়ি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা, তারপর এরকম চূড়ান্ত পর্যায় পর্যন্ত চলে আসা, এটা তার ব্যক্তিগতভাবে তার জন্য তো বটেই, ব্রিটেনের জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্যও এক বিরাট অর্জন।"

ঋষি সুনাক বড় হয়েছেন বেশ সচ্ছল এক পরিবারে, পড়াশোনা করেছেন বেশ দামি এবং অভিজাত প্রাইভেট স্কুলে, তাঁর স্ত্রী ভারতের সবচেয়ে ধনী এক পরিবারেরর কন্যা।

শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ডঃ এন্ড্রু বার্কলের মতে, ব্রিটেনে কনসারভেটিভ পার্টিতে যারা নেতৃত্ব দেন, তারা যে ধরণের পরিবার থেকে আসেন, যেভাবে বেড়ে উঠেন, যে ধরণের চিন্তা-ভাবনা এবং ধ্যান-ধারণা পোষণ করেন, তার সঙ্গে ঋষি সুনাকের আসলে কোন পার্থক্য নেই। তিনিও একজন 'অর্থোডক্স কনসারভেটিভ' বা গোঁড়া রক্ষণশীল রাজনীতিক।

নির্বাচনে দাঁড়ানোর কয়েকদিনের মধ্যেই ঋষি সুনাকের এমন একটি পুরোনো ভিডিও ফাঁস হলো, যেখানে তাকে বলতে দেখা গেল, শ্রমজীবী শ্রেণী থেকে আসা কোন বন্ধু তার নেই। এই ভিডিওটি যখন তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, সেই সময়ের। তিনি কত দামী পোশাক পরেন, তার স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ কত- এগুলোও নির্বাচনী প্রচারণার সময় আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়।

এর বিপরীতে, তার যিনি প্রতিদ্বন্দ্বী, সেই লিজ ট্রাস বেড়ে উঠেছেন উত্তর ইংল্যান্ডের এক শ্রমজীবী এলাকায়। তিনি পড়াশোনা করেছেন সেখানেই সাধারণ সরকারি স্কুলে। দলের মধ্যে তিনি বরিস জনসনের অনুগত কট্টর ডানপন্থী অংশের আশীর্বাদ-পুষ্ট বলে মনে করা হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রাস প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শুরুতে পিছিয়ে থাকলেও অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের পেছনে ফেলে চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নিয়েছেন। এখন দলের যে সাধারণ সদস্যদের ভোটে ফলাফল নির্ধারিত হবে, তাদের মধ্যে তার সমর্থনই বেশি বলে জনমত জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

লিজ ট্রাস নিজেকে তুলে ধরছেন ভবিষ্যৎ ব্রিটেনের নেতৃত্ব দেয়ার উপযুক্ত এক দক্ষ রাজনীতিক হিসেবে। এর আগে বিভিন্ন দফতরের মন্ত্রী হিসেবে যেসব সাফল্য তিনি অর্জন করেছেন, তার ভিডিওতে আছে সেসবের বর্ণনা।

শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ডঃ অ্যান্ড্র বার্কলে বলছেন, এই দুজনের নীতি এবং আদর্শের মধ্যে মোটা দাগে সেরকম কোন পার্থক্য আসলে নেই। তাদের মধ্যে মূল ফারাক আসলে কীভাবে অর্থনীতি পরিচালিত হবে, সেটা নিয়ে।

"ঋষি সুনাক অতি সম্প্রতি ব্রিটেনের অর্থমন্ত্রী ছিলেন, সুতরাং তিনি আর্থিক বিষয়ে নিজেকে অনেক বেশি দায়িত্বশীল রাজনীতিক হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন। কাজেই তিনি কর কমানো বা বড় ধরণের সরকারি ব্যয়ের অঙ্গীকারের বিপক্ষে। অন্যদিকে লিজ ট্রাস অর্থনৈতিক বিষয়ে নিজেকে একজন বৈপ্লবিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে দেখাতে চান। তিনি যেসব কর বাড়ানোর কথা সরকার এরই মধ্যে বলেছে, সেগুলো বাতিল করতে চান, দরকার হলে কর কমাতে চান। অর্থনীতি চাঙ্গা রাখতে ঋণ করে হলেও বেশি করে বিনিয়োগ করতে চান। কাজেই তাদের মধ্যে পার্থক্য আসলে এটুকুই।"

রাজনীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ১৯৮০র দশকের শেষেও সংখ্যালঘুদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব ছিল একেবারে ন্যূনতম পর্যায়ে। ১৯৮৭ সালে লেবার পার্টি থেকে পার্লামেন্টে চারজন অশ্বেতাঙ্গ সংখ্যালঘু এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে পরবর্তী প্রতিটি পার্লামেন্টে এই সংখ্যা ক্রমাগত বেড়েছে। বর্তমান পার্লামেন্টে যে ৬৬ জন জাতিগত সংখ্যালঘু এমপি রয়েছেন, তাদের ৪১ জন লেবার পার্টি থেকে, ২২ জন কনসারভেটিভ এবং বাকী দুজন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির।

ডঃ বার্কলে বলেন, সংখ্যালঘু এবং অভিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বের বেলায় লেবার পার্টি সব সময়েই কনসারভেটিভ পার্টির চেয়ে বহু কদম এগিয়ে ছিল।

"আমরা যদি এদেশের ভোট দেয়ার প্যাটার্ন বিশ্লেষণ করি, তাহলে দেখবো, জাতিগত সংখ্যালঘুদের মধ্যেও যারা মধ্যবিত্ত বা পেশাজীবী, তারা পর্যন্ত সাধারণত লেবার পার্টির সমর্থক। কারণ দীর্ঘদিন ধরে এরকম ধারণাই চালু আছে যে, কনসারভেটিভ পার্টি সংখ্যালঘুদের প্রতি বৈরি মনোভাব পোষণ করে।"

কনসারভেটিভ পার্টিতে বড় পরিবর্তন নিয়ে আসার কৃতিত্ব ডঃ বার্কলে দিতে চান সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনকে।

"এর বেশিরভাগ কৃতিত্ব পাওয়া উচিৎ ডেভিড ক্যামেরনের। ব্রিটেনে বড় দুটি দলের মধ্যে কনসারভেটিভ পার্টি জাতিগত সংখ্যালঘুদের ব্যাপারে বেশ বৈরি বলে মনে করা হতো। তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল কিছুটা বৈষম্যমূলক। পার্লামেন্টে দলের এমপিদের বেশিরভাগই ছিলেন শ্বেতাঙ্গ পুরুষ। ডেভিড ক্যামেরন এই সমস্যাকে সোজাসুজি মোকাবেলা করতে চেয়েছেন। তিনি দলের পার্লামেন্টারি পার্টিকে অনেক বেশি বৈচিত্র্য আনতে চেয়েছেন। এবারে দলের নেতা হওয়ার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাত জনের মধ্যে যে চারজনই যে জাতিগত সংখ্যালঘু, সেটা কিন্তু ডেভিড ক্যামেরনের সেই উদ্যোগের ফল।"

ব্রিটেনের রাজনীতিতে এবং জনজীবনে সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর মানুষের আরও বেশি প্রতিনিধিত্বের পক্ষে কাজ করে দাতব্য সংস্থা রানিমেড ট্রাস্ট। সংস্থার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হালিমা বেগম নিজে বেড়ে উঠেছেন লন্ডনের বাংলাদেশি অধ্যুষিত ব্রিক লেন এলাকায়। গত কয়েক দশকে রাজনীতিতে জাতিগত সংখ্যালঘুরা যেভাবে আরও বেশি করে রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন, সেটাকে তিনি একটা বড় পরিবর্তন বলে মনে করেন।

"৩০ বছর আগের কথা যদি বিবেচনা করেন, আমাদের রাজনীতিতে এখন সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর মানুষের অনেক বেশি প্রতিনিধিত্ব আছে, তাদের মধ্য থেকে অনেক বেশি এমপি আছেন। তবে এটা এখনো যথেষ্ট নয়। আমাদের আরও বেশি সংখ্যায় এমপি দরকার সংখ্যালঘুদের মাঝ থেকে। আর শুধু এমপি নির্বাচিত হলেই হবে না, আমরা চাই এই এমপিদের মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ পদে নেয়া হোক।"

অদৃশ্য দেয়াল

এ ক্ষেত্রে শুরুতে লেবার পার্টি থেকে অনেক পিছিয়ে থাকার পরও কনসারভেটিভ পার্টি যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দল এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে অনেক বেশি করে জাতিগত সংখ্যালঘু এবং অশ্বেতাঙ্গদের নিয়ে এসেছে, সেটি হালিমা বেগমকেও বিস্মিত করেছে।

"যেটা মজার, তা হলো, কনসারভেটিভ পার্টি, যে দলের দরোজা বন্ধ বলে মনে করা হতো, সেই দলটিই কিনা কিছু জাতিগত সংখ্যালঘু এমপিকে দ্রুত উপরে তুলে দলের নেতৃত্বের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দাঁড় করিয়ে দিল। মনে করা হতো, কনসারভেটিভ পার্টি থেকে এমপি হওয়ার পথে যেন অনেক 'গ্লাস ওয়াল' বা অদৃশ্য বাধা আছে। কিন্তু এখানে যেন এমপি হওয়ার পর উপরে উঠার ক্ষেত্রে কোন সিলিং বা বাধা নেই। যে কেউ যেন শীর্ষ পদ পর্যন্ত চলে যেতে পারেন।

"অন্যদিকে লেবার পার্টি, যেটি থেকে এমপি হওয়ার পথে সেরকম কোন অদৃশ্য বাধা নেই বলে মনে করা হয়, সেই দলটিতে যেন উপরে উঠার পথে এক অদৃশ্য বাধা আছে। আমরা চাই ব্রিটেনের রাজনীতিতে বা জনজীবনে যেন কোন অদৃশ্য দেয়াল বা কোন অদৃশ্য সিলিং, কোনটাই না থাকে।"

তবে ব্রিটেনে কনসারভেটিভ পার্টির সরকারের শীর্ষ পদগুলোতে বা দলের মধ্যে সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর মানুষ যেভাবে জায়গা করে নিয়েছেন, সেটিকে কেবলই একটি বাহ্যিক পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন আজমল মাসরুর।

"কনসারভেটিভ পার্টির ভেতরে কিন্তু এখনো পরিবর্তন সেভাবে আসেনি। এই দলের লোকজন এখনো ভিন্ন বর্ণের, ভিন্ন ধর্মের মানুষদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে কথা বলেন। দলের ভেতর ইসলামোফোবিয়ার ব্যাপারে যেসব তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে, তাতে দলটি রাজী হয়নি। দলটি এখনো প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বর্ণবাদী, এমন অভিযোগ কিন্তু এখনো আছে।"

শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ডঃ অ্যান্ড্রু বার্কলে অবশ্য এটিকে কেবল বাহ্যিক পরিবর্তন হিসেবে দেখতে নারাজ। তিনি বলছেন, "কনসারভেটিভ পার্টিতে ঋষি সুনাকের সাফল্য অন্যান্য জাতিগত সংখ্যালঘু মানুষ, যারাও তার মতো সফল, তাদেরকে কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে। তার এই সাফল্যে এরা ভাববে, কনসারভেটিভ পার্টি আর আগের মতো নেই।"

কনসারভেটিভ পার্টির নেতৃত্বে শেষ পর্যন্ত কে আসবেন, এবং ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, সেটি জানা যাবে সামনের মাসে দলের সদস্যদের ভোটাভুটির ফল জানার পর।

আরও পড়ুন:

বারাক ওবামা যখন ২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন, তখন অনেকেই আশা করেছিলেন, বর্ণবিদ্বেষ এবং দাস প্রথার ইতিহাস পেছনে ফেলে দেশটির রাজনীতি এক 'পোস্ট রেসিয়াল' যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। কিন্তু পরে তাদের আশাহত হতে হয়েছিল।

ব্রিটেনেও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্য থেকে কেউ একজন প্রধানমন্ত্রী হলেই যে 'পোস্ট রেসিয়াল' অর্থাৎ বর্ণবিদ্বেষ-উত্তর পর্বে রাজনীতির উত্তরণ ঘটবে, সেটা মনে করেন না অ্যান্ড্রু বার্কলে।

"ব্রিটিশ সমাজের অনেক অংশ জুড়ে এখনো আপনি ধারাবাহিকভাবে অনেক অসাম্য-বৈষম্য দেখতে পাবেন। কাজেই এরকম একটি পরিভাষা আমি ব্যবহার করবো না।"