এডিটার'স মেইলবক্স: লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন, আর আদমশুমারি নিয়ে যত অভিমত

ছবির উৎস, Getty Images
- Author, মাসুদ হাসান খান
- Role, বিবিসি নিউজ বাংলা
এ সপ্তাহে আপনারা অনেকেই লিখেছেন বাংলাদেশের বর্তমান বিদ্যুৎ সঙ্কট নিয়ে। পাশাপাশি সর্বশেষ আদমশুমারির ফলাফল নিয়েও আপনারা অনেকেই মন্তব্য করেছেন।
রংপুরের খটখটিয়া থেকে লিখেছেন মো. ইলিয়াছ হোসেন:
"বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ার পটভূমিতে সরকার কৃচ্ছ্রসাধনের পথ বেছে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে লোডশেডিং, রাত ৮টায় দোকানপাট-শপিং মল বন্ধ, অনলাইনে বৈঠক, প্রয়োজন ছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ পরিহার, শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত যানবাহন ব্যবহার, সরকারি অফিসে বিদ্যুৎ ব্যবহার ২৫ শতাংশ কমানো প্রভৃতি।

ছবির উৎস, Getty Images
"পদক্ষেপগুলো ভালো, তবে সরকারের জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হলে মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আগে জ্বালানি সাশ্রয় করে দেখাতে হবে। কারণ আমাদের দেশে মন্ত্রী, এমপি, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা যেভাবে বিলাসবহুল গাড়ি, এসি-যুক্ত অফিস-আদালত, আবাসিক ফ্ল্যাট ব্যবহার করেন তাতে একদিকে যেমন জ্বালানির অপচয় ঘটে, তেমনি বিদ্যুতের সঙ্কট তৈরি হয়।"
এটি একটি ভাল পরামর্শ, মি. হোসেন। যারা আইন, নিয়মনীতি তৈরি করেন তারা নিজেরা ব্যক্তিগত পর্যায়ে সেটা পালন করলে জনগণ নিশ্চয়ই সেসব পালনে অনুপ্রাণিত হবে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে তারা সেটা করবেন কি? অতীত অভিজ্ঞতা কী বলে? আপনাকে ধন্যবাদ।
দীর্ঘ লোডশেডিং সমস্যা দূর করার জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:
"লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এক ঘণ্টার লোডশেডিং করার শিডিউল দেয়া হলেও কাদির কল্লোলের প্রতিবেদন থেকে যেমনটা জানা গেছে গ্রামাঞ্চলে কোথাও কোথাও পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। এরই মধ্যে আবার নতুন ঘোষণা এসেছে লোডশেডিং এর সময় বাড়ানো হচ্ছে।
"আমরা ঠিক জানিনা নতুন এ ঘোষণার পর ঠিক কতটা সময় লোডশেডিং করা হবে? এখন প্রশ্ন হচ্ছে এ ভাবে লোডশেডিং-এর মাধ্যমে কি সমস্যার আদৌ সমাধান হবে? আমার তো মনে হয় বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানো দিকে নজর দেওয়া উচিৎ।"
বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষমতার প্রশ্নটি নিয়ে আলোচনা দীর্ঘদিন ধরে চলছে। কিন্তু সরকার এই সমস্যার সাময়িক সমাধানের যে পথটি বেছে নিয়েছে তার ফলে রাজস্ব ব্যয় অনেকখানি বেড়েছে। এ নিয়ে আমরা যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছি তাতে দেখা যাচ্ছে, ২০২০-২১ অর্থবছরেই ৩৭টি বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে বছরের অধিকাংশ সময় অলস বসিয়ে রেখে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বা পিডিবিকে ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ ১৩ হাজার কোটি টাকা দিতে হয়েছে।
এই নিবন্ধে Google YouTubeএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত Google YouTube কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।
End of YouTube post
রংপুরের লালবাগ থেকে একটি প্রশ্ন করেছেন মো: মহসিন আলী:
"সম্প্রতি আই এম এফের কাছে ৪৫০ কোটি ডলার অর্থ সহায়তা চেয়েছে সরকার। দক্ষিণ এশিয়ার তৃতীয় দেশ হিসেবে শ্রীলঙ্কা এবং পাকিস্তানের পরেই বাংলাদেশ এই অর্থ সহায়তা চেয়েছে বলে বিবিসির খবরে শুনলাম। এখন প্রশ্ন হলো, জ্বালানি সংকটে বিপর্যস্ত বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, লাগামহীন লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন - এই পরিস্থিতিতে এরকম একটি খবর আমাদেরকে কী বার্তা দেয়? বাংলাদেশ কি শ্রীলঙ্কা হতে আরও একধাপ এগিয়ে গেল?"

ছবির উৎস, Getty Images
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে আসা এবং এই পরিস্থিতিতে ঋণদাতাদের দ্বারস্থ হওয়া বেশ উদ্বেগজনক খবর। শ্রীলঙ্কার সঙ্কটের শুরুতে তেমন ঘটনাই ঘটেছিল। কিন্তু আমি অন্তত যেসব অর্থনীতিবিদের সাথে কথা বলেছি, তারা জানিয়েছেন যে এই মুদ্রাসঙ্কট মোকাবেলা করার জন্য যথেষ্ট সক্ষমতা বাংলাদেশের এখনও রয়েছে। তবে আগামী দিনগুলোতে কী ঘটবে তা বলা কঠিন। চিঠির জন্য ধন্যবাদ।
দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিং চলার মধ্যে এর বিকল্প কী হতে পারে, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করেছেন আমাদের অনেক শ্রোতা। মো. কামালুদ্দিন জাফোরি ইমেইল করেছেন:
"পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালী থানার চর মমতাজ ইউনিয়নে বিদ্যুৎ চলে গেলে সোলার এনার্জি অর্থাৎ সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে বিদ্যুতের ঘাটতি পূরণ করা হয়। আমাদের এখানে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে চার থেকে পাঁচ মাস। কিন্তু পাঁচ মাসের মাথায় বিদ্যুতের লোডশেডিং চলছে। আগেও আমরা সৌরশক্তির মাধ্যমে বিদ্যুতের ঘাটতি পূরণ করতাম। আমরা এখন সেই আগের মত সোলার এনার্জির মাধ্যমে বিদ্যুতের ঘাটতি পূরণ করি।"
আরও সহজ একটি পথ বাতলেছেন বিবিসি বাংলার ফেসবুক ফলোয়ার আব্দুল জব্বার:
"সূর্যের আলোয় কাজ, আর সূর্য ডুবলেই ঘুম, এটাই আদি এবং একমাত্র সমাধান। কাজ শুরু হবে ভোর চারটাতে আর শেষ হবে সন্ধ্যা ছয়টায়। এতে জ্বালানি বাঁচবে, সাথে মানুষের আয়ু বাড়বে এবং মানুষ সুস্থ থাকবে। চিকিৎসা ব্যয় কমবে।"
ধন্যবাদ আপনাদের। মি. কামালুদ্দিন জাফোরি এবং আব্দুল জব্বার যে পরামর্শ দিয়েছেন এ নিয়ে আপনাদের কী মতামত? আশা করি জানাবেন।

ছবির উৎস, Getty Images
দিনাজপুরের হাকিমপুর থেকে আমাদের এক শ্রোতা শাহ সুলতান রনি একটি ইন্টারেস্টিং চিঠি পাঠিয়েছেন। তিনি লিখেছেন:
"বাংলাদেশের ২৮টি গুরুত্বপূর্ণ জেলা/উপজেলার দ্বৈত নাম যুগ যুগ ধরে ব্যবহার হচ্ছে যা আমাদের দেশের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য শুভকর নয়। এতে সরকারের অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ার ক্ষেত্রে আগামীতে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করবে।"
শাহ সুলতান রনি তার ইমেইলে এসব জায়গার নামের একটি তালিকাও পাঠিয়েছেন। তার মধ্য থেকে কতগুলো এখানে তুলে ধরা হলো:
- দিনাজপুরে নবাবগঞ্জ, ঢাকায় নবাবগঞ্জ
- দিনাজপুরে ফুলবাড়ী, কুড়িগ্রামে ফুলবাড়ী, ময়মনসিংহে ফুলবাড়িয়া
- রংপুরে শিবগঞ্জ, ঠাকুরগাঁওয়ে শিবগঞ্জ
- রাঙামাটিতে কাউখালী, পিরোজপুরে কাউখালী
- নোয়াখালিতে কোম্পানিগঞ্জ, সিলেটে কোম্পানিগঞ্জ
- কুষ্টিয়ায় দৌলতপুর, মানিকগঞ্জে দৌলতপুর
- ঝিনাইদহে কালীগঞ্জ, গাজীপুরে কালীগঞ্জ, লালমনিরহাটে কালীগঞ্জ
ধন্যবাদ, মি. সুলতান। আসলেই একই নামে যে এত জায়গা আছে, সেটা আমারও জানা ছিল না।
বাংলাদেশের সর্বশেষ আদমশুমারিতে পুরুষের চেয়ে নারী জনসংখ্যা বেশী বলে আমরা যে রিপোর্ট করেছি সে বিষয়ে মতামত পাঠিয়েছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মো. জিল্লুর রহমান:
"প্রতিবেদনটিতে জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মঈনুল ইসলামকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বেশ কয়েক বছর ধরেই পুরুষের চেয়ে নারীর সংখ্যা বেশি। মূলত মেয়েদের জীবনের আয়ুষ্কাল বেশি হওয়া এবং অভিবাসনকেই তিনি নারীর সংখ্যা বেশি হওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ মনে করেন।
"তাছাড়া দেশ থেকে এক কোটিরও বেশি মানুষ প্রবাসী হিসেবে বিদেশে অবস্থান করছে। এর মধ্যে দৃশ্যত পুরুষের সংখ্যাই অনেক বেশি এবং সেটিও জনশুমারির তথ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। তার এই যুক্তি ও পর্যবেক্ষণটি আমার কাছে যথেষ্ট যুক্তিযুক্ত, নির্ভরযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে। এমন একটি সুন্দর ও যুতসই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরার জন্য বিবিসি বাংলাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।"
জরিপে পুরুষের সংখ্যা কম হওয়ার আরও একটি কারণ উল্লেখ করেছেন জি. এম কামরুল ইসলাম:
"আদমশুমারির লোক যখন বাসায় যায়, তখন পুরুষ মানুষ থাকে মাঠে, ঘাটে, অফিসে-বাজারে। তাই সম্ভবত তারা বাসাবাড়িতে নারীদের পেয়ে শুধু তাদের হিসাব নিয়ে চলে এসেছে। সেজন্য নারী বেশি, পুরুষ কম।"
কিন্তু এই আদমশুমারি নিয়ে খুশি নন বিবিসি বাংলার বেশ ক'জন ফেসবুক ফলোয়ার। যেমন, মো. ইরফানুর লিখেছেন:
"আদমশুমারির তথ্য ভুল। সঠিকভাবে জরিপ করা হয়নি। আমাদের এলাকা পর্যন্ত এই জরিপের বাইরে ছিল। এমন অনেক এলাকা রয়েছে যেখানে জরিপ হয়নি।"
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন সরদার নিয়াজুল মোস্তফা:
"এবারের জনশুমারিতে আমি এবং আমার পরিবারের সবাই বাদ পড়েছি। আমরা মোট পাঁচ জন আলাদা তিনটি জায়গায় ছিলাম। আমাদের কাছে কোন গণনাকর্মী আসেনি।"

ছবির উৎস, Getty Images
ঢাকার মিরপুরে জাতীয় চিড়িয়াখানার বেহাল দশা সম্পর্কে পীরগাছার চন্ডিপুর থেকে লিখেছেন মো. সুমন আকন্দ:
"মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় প্রতিটি প্রাণী অযত্ন আর অবহেলায় দিন দিন মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে পত্রিকা মারফত জানতে পারলাম। মিরপুর চিড়িয়াখানা বন্য প্রাণীদের জন্য সুখের আশ্রয় হচ্ছে না। কর্তৃপক্ষের অবহেলায় হাজার হাজার পশুপাখির জীবন সংকটাপন্ন। তাই বিবিসি বাংলার কাছে মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানার অবস্থার ওপর একটি প্রতিবেদন প্রচার করার জোর দাবি জানাচ্ছি।"
চিড়িয়াখানার সমস্যা নিয়ে আমরা আগে কিছু রিপোর্ট করেছি, মি. আকন্দ। তবে হালনাগাদ রিপোর্ট করা যেতেই পারে। আপনার পরামর্শের জন্য ধন্যবাদ।
বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার উপকূলীয় অঞ্চলে অল্প বয়সেই নারীদের জরায়ু অপসারণের প্রবণতার ওপর বিবিসি বাংলার এক রিপোর্ট সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন সাতক্ষীরার টেকাকাশিপুরের শ্রোতা মুঈন হুসাইন:
"আপনাদের একটা প্রতিবেদন দেখলাম, যেটা দেখার পর অনেক অনেক খারাপ লাগলো। এবং গভীর চিন্তায়ও পড়ে গেলাম। আর সেটা হলোঃ উপকূলীয় নারীদের অস্বাভাবিক হারে জরায়ু অপসারণ। আমিও তো এই এলাকার ছেলে। মাত্র কিছু দিন আগের কথা, আমার এক ফুফাতো বোনেরও জরায়ুতে টিউমার অপারেশন করানো হয়েছে। এটা অবশ্য আমরা সাতক্ষীরা জেলা শহরে নিয়ে চিকিৎসা করিয়েছি।
"সুতরাং, এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে আকুল অনুরোধ জানাচ্ছি। যাতে সরকারিভাবে একটি গবেষণা হয় যে প্রকৃত কোন্ কারণে এখানকার মহিলাদের এমন কঠিন অসুখটা হচ্ছে? আপনাদের মতো বিখ্যাত গণমাধ্যম এই সব অতি দরিদ্র মানুষদের নিয়ে এমন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংবাদটি তুলে ধরেছেন, তাই তো বুকভরা ভালোবাসা দিলাম।"
আপনাকে ধন্যবাদ। আমাদের শ্রোতা তানজিলুর রহমান ইমেইলের মাধ্যমে আমাদের কাছে জানতে চেয়েছেন, বিবিসি থেকে কখনও কী খবরে বলা হয়েছিল কিনা যে, আজ কোনও খবর নেই?

ছবির উৎস, Getty Images
মি. রহমান, আপনার প্রশ্নটি নিয়ে খোঁজখবর করে আমি যতটুকু জানতে পেরেছি তা আপনাকে জানাতে চাই: ৯২ বছর আগের কথা। ১৯৩০ সালে ১৮ই এপ্রিল বিবিসি ইংরেজির রাত আটটা পঁয়তাল্লিশের বুলেটিনে জানানোর মতো কোন খবর ছিল না। তাই সেদিনের সংবাদ পাঠক বলেছিলেন: "There is no news", অর্থাৎ এখন কোন খবর নেই।
এরপর সংবাদ বুলেটিনের বাদবাকি ১৫ মিনিট ধরে পিয়ানো বাজিয়ে শোনানো হয়েছিল।
মি. রহমান, আমার জানা মতে, বিবিসির ইতিহাসে এরকম ঘটনা ঐ একবারই ঘটেছিল। এবং কেন সেদিন কোন খবর ছিল না বলে বলা হয়েছিল, সেই ব্যাখ্যাও খুব একটা জানা যায় না। আর এর পরের প্রায় ১০০ বছর কাছাকাছি সময় এখন বিবিসির যে কোন ভাষায় যেসব বুলেটিন প্রচারিত হয়, তা খবরে ঠাসা থাকে। এখন কখনও কখনও খবর এত বেশি থাকে যে কোনটা রেখে কোনটা বাদ দেব, সেটা বিচার করা কঠিন হয়ে পড়ে। সময় বদলেছে, বদলে গেছে প্রযুক্তি।
বাংলাদেশের রেলওয়ে বিভাগের দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে অবস্থান ধর্মঘট করেছেন পড়েন মহিউদ্দিন রনি নামে এক যুবক। এ সম্পর্কে দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে লিখেছেন মেনহাজুল ইসলাম তারেক:
"রনির সাথে যা ঘটেছিল, সেটা এ দেশের অধিকাংশ রেলযাত্রীর সাথে প্রায়ই ঘটে। সমস্যাটা আমাদের সকলেরই। কেউ ঘুরে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করে না, রনি প্রতিবাদ শুরু করেছিলেন। সমস্যাগুলোর সমাধান হওয়া জরুরী দরকার বলে আমি মনে করছি। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের! এরকম একটি সামাজিক কল্যাণমূলক কাজে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি একেবারেই কম ছিল। রনির আন্দোলন স্থগিত করা ভুল, নাকি সঠিক তা নিয়ে বলতে চাই না।
"তবে রনি দুর্নীতি ও কালো বিড়ালদের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছেন এটাই তো অনেক কিছু। তার মত যদি সবাই আওয়াজ তুলতো, তাহলে দুর্নীতিবাজরা এই দেশ ছেড়ে আগেই পালাতো।
"তবে তার একটি বিষয় আমার খারাপ লেগেছে আর সেটা হলো, তিনি বলেছেন, এই আন্দোলনে তৃতীয়পক্ষ ঢুকে পড়েছে। এটা তার বলা মোটেও উচিৎ হয়নি। কারণ যৌক্তিক আন্দোলনে যে কেউ যোগ দিতে পারেন। জনগণের যৌক্তিক আন্দোলন কিংবা দাবি কখনোই কারও একার হতে পারে না। ছয়-দফা রনির শুধু একার দাবি ছিল না, তিনি আওয়াজ তুলেছেন এবং দেশবাসী তাকে সমর্থন দিয়েছে এটাই তার সেরা অর্জন বলে আমার কাছে মনে হয়েছে।"
আপনার মন্তব্যের সাথে আমি একমত। যৌক্তিক আন্দোলনে যে কেউ যোগ দিতে পারেন। জনসমর্থন থাকলে তাকেই আন্দোলন বলা চলে। আপনাকে ধন্যবাদ।
এবার কয়েকটি চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার:
- কানন রানী টিকাদার, জলিরপাড়, গোপালগঞ্জ
- মো শিমুল বিল্লাল বাপ্পী, কপিলমুনি, খুলনা
- ইসমাইল হোসেন, ইমেইলে ঠিকানা নেই
- মুহাম্মদ মাসুদুল হক মাশুক, চরফ্যাশন, ভোলা।









