ভারতের উদয়পুরে হিন্দু দর্জি হত্যার প্রতিবাদে ভারতের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ, তীব্র উত্তেজনা

কানহাইয়ালাল হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে দিল্লিতে বিক্ষোভ

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, কানহাইয়ালাল হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে দিল্লিতে বিক্ষোভ
    • Author, শুভজ্যোতি ঘোষ
    • Role, বিবিসি বাংলা, দিল্লি

ভারতের উদয়পুরে দু'জন মুসলিম যুবকের হাতে একজন হিন্দু দর্জির নৃশংস হত্যার দু'দিন পর ওই শহরে আজ বৃহস্পতিবার বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনের ডাকে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে, সেখান থেকে তীব্র উত্তেজনাও ছড়িয়েছে।

রাজস্থানের পুলিশ বলছে, শহরে কারফিউ জারি থাকা সত্ত্বেও অশান্তি ঠেকাতেই তারা ওই মিছিলের অনুমতি দিয়েছিল।

ভারতের বিভিন্ন শহরে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের ডাকে এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে কর্মসূচি পালিত হচ্ছে, দাবি করা হচ্ছে দোষীদের কঠোরতম শাস্তির। মুসলিম ধর্মীয় নেতারা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও এই হত্যাকান্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে শান্তি বজায় রাখার আর্জি জানাচ্ছেন।

উদয়পুরসহ গোটা রাজস্থানে ১৪৪ ধারা জারি থাকা সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার সকালে বেশ কয়েক হাজার মানুষ গেরুয়া পতাকা নিয়ে বিশাল মিছিল বের করে।

নিহত দর্জি কানহাইয়ালালের হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবি জানিয়ে তারা কাছারি অভিমুখে মিছিল করে যান এবং জেলা কালেক্টরের হাতে একটি স্মারকলিপিও তুলে দেন।

বিবিসি বাংলায় সম্পর্কিত আরো খবর:

কানহাইয়া লাল তেলিকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে

ছবির উৎস, MOHAR SINGH MEENA/BBC

ছবির ক্যাপশান, কানহাইয়া লাল তেলিকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে

মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা বলছিলেন, "ওই নির্মম হত্যাকাণ্ডের কয়েক ঘন্টার মধ্যে খুনীরা ধরা পড়েছে বলে পুলিশ বড়াই করছে, অথচ তারাই যে সালিশি করে কানহাইয়ালালকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছিল, সেটা বলছে না।"

"এখন যারা যে ভাষা বোঝে, সেই ভাষাতেই তাদের জবাব দিতে হবে - ওই সম্প্রদায়ের ইটের জবাব আমরা পাথর দিয়েই দেব।"

শহরের যে ধনমান্ডি বাজার এলাকায় ওই দর্জির দোকান ছিল, সেখান দিয়ে মিছিলটি যাবার সময় উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠে। তবে কড়া পুলিশ পাহারা থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা জয়পাল বর্মা বিবিসিকে বলছিলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুর দেশে একজন হিন্দুকে এভাবে মারা হবে উদয়পুর আসলে এটা মেনে নিতে পারছে না।

মি. বর্মার কথায়, "ভারতে বেশির ভাগ লোকই হিন্দু - একদিক থেকে দেশটাকে হিন্দুরাষ্ট্রই বলা যায়। সেখানে একজন হিন্দুকে এভাবে মারাটা ঘোর অন্যায়। আমি মোদীজিকে অনুরোধ করব বিষয়টা দেখুন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এধরনের কাজ করার সাহস না-পায়।"

দিল্লিতে বিক্ষোভ করে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বজরং দল

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, দিল্লিতে বিক্ষোভ করে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বজরং দল

উদয়পুরসহ রাজস্থানের সব জেলাতেই ১৪৪ ধারা জারি থাকা সত্ত্বেও পুলিশ কীভাবে এই মিছিলের অনুমতি দিল, এই প্রশ্নের জবাবে রাজ্যের সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, অনেকগুলো সংগঠন মিলে এই পদযাত্রার ডাক দিয়েছিল - সেটাতে বাধা দিয়ে তারা উত্তেজনা বাড়াতে চাননি, বরং মিছিলে কড়া নিরাপত্তা দিয়ে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ নিশ্চিত করতে চেয়েছেন।

যোধপুর বা জয়পুরের মতো রাজস্থানের অন্যান্য শহরেও বিক্ষোভ হয়েছে। এছাড়া দিল্লি, ব্যাঙ্গালোর থেকে শুরু করে কোচবিহার - দেশের বিভিন্ন প্রান্তেই প্রতিবাদ কর্মসূচীর ডাক দিয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ।

ভিএইচপির মুখপাত্র সুরেন্দ্র জৈন এক বার্তায় বলেছেন, "দেশের বিচার বিভাগের ওপর যাদের আস্থা নেই এবং যারা ভারতে শরিয়া শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে এবং হিন্দুরা তাদের ধর্মের অপমান মেনে নেবে না।"

ব্যাঙ্গালোরে হিন্দু সংগঠনগুলোর একটি বিক্ষোভ সমাবেশ থেকেও প্রতিবাদকারীরা হুঙ্কার দেন, একশো কোটি হিন্দুর এই দেশে ইসলামপন্থী জিহাদিদের এই "আস্ফালন" কিছুতেই সহ্য করা হবে না।

ভারতের বিভিন্ন শহরেই বিশ্ব হিন্দু পরিষদের ডাকে এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে কর্মসূচি পালিত হচ্ছে

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ভারতের বিভিন্ন শহরেই বিশ্ব হিন্দু পরিষদের ডাকে এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে কর্মসূচি পালিত হচ্ছে

পাশাপাশি ভারতের মুসলিম ধর্মীয় নেতারাও প্রথম থেকেই উদয়পুরের হত্যাকান্ডর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন।

দিল্লির জামা মসজিদের শাহী ইমাম আহমেদ বুখারি এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বলেছেন, "এই হত্যাকান্ড শুধু ইসলাম-বিরোধীই নয়, মানবতার বিরুদ্ধেও এক জঘন্য অপরাধ।" তিনি ভারতীয় মুসলিমদের পক্ষ থেকেও ওই হত্যাকারীদের ধিক্কার জানান।

প্রতিবাদ আসছে মুসলিম সুশীল সমাজের দিক থেকেও। যেমন শিক্ষাবিদ ও লেখিকা রাকসান্দা জলিল ওই হত্যাকারীদের উদ্দেশে বলেন, "একজন প্র্যাকটিসিং মুসলিম হিসেবে আমি বলতে পারি এটা নবীর দেখানো পথ নয়।"

"যদি আপনারা ভেবে থাকেন ইসলামের জন্য এ কাজ করেছেন তাহলে আপনারা বিরাট ভুল করছেন," বলেন তিনি।

এদিকে উদয়পুরের ঘটনার জেরে ভারতে মুসলিমদের ওপর এখনও বড়মাপের কোনও হামলার ঘটনা না-ঘটলেও হিন্দুত্ববাদীদের প্রতিবাদ ক্রমেই তীব্র হচ্ছে, এমন কী কোথাও কোথাও তা সহিংস আকারও নিচ্ছে।

বিবিসি বাংলায় আজকের আরো খবর: