ইন্টারনেটে তথ্যপ্রবাহের দুনিয়া খুলে গেল যে যুগান্তকারী উদ্ভাবনের মধ্যে দিয়ে- ইতিহাসের সাক্ষী

ছবির উৎস, DKosig/Getty Images
ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব বা www ছিল আবিষ্কারের ইতিহাসে যুগান্তকারী এক উদ্ভাবন, যা বিশ্বব্যাপী যোগাযোগের ক্ষেত্রে ও মানুষের বর্তমান জীবনধারায় এনেছিল বৈপ্লবিক পরিবর্তন।
ব্রিটেনের এক তরুণ কম্পিউটার বিজ্ঞানী টিম বার্নাস-লি ১৯৮৯ সালে তৈরি করেন যোগাযোগের এই ইতিহাস সৃষ্টিকারী জগত।
ইউরোপের বৈজ্ঞানিক গবেষণা কেন্দ্র সার্নে টিম বার্নাস লি-র সঙ্গে কাজ করতেন তার দুই সহকর্মী বিজ্ঞানী- বেন সিগাল আর জঁন ফ্রসোয়াঁ গ্রথ, যারা তার আইডিয়াকে বাস্তবে রূপ দিতে সাহায্য করেন।
টিম বার্নাস লি চেয়েছিলেন এমন একটা মাধ্যম সৃষ্টি করতে যা বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষকে সংযুক্ত করবে।
"এ এক নতুন যোগাযোগ মাধ্যম যে মাধ্যম মানুষকে আরও কার্যকরভাবে তার কাজ করার সুযোগ করে দেবে, যে মাধ্যমের অবাধ তথ্যভাণ্ডার ব্যবহারের জন্য মানুষকে কোন ভৌগলিক সীমারেখা মানতে হবে না," বলেছিলেন তিনি।
তার এই সৃষ্টি ছিল ছাপখানা আবিষ্কারের মতই বৈপ্লবিক।
'একক ভাবনা, মহান সৃষ্টি'
মানুষের সঙ্গে বিশ্বকে এভাবে সংযুক্ত করার এমন মাধ্যম এর আগে কখনও সৃষ্টি করা সম্ভব হয়নি। নতুন এই জগত যেভাবে মানুষের জীবনকে বদলে দেয় তা একসময় ছিল মানুষের কল্পনাতীত।

ছবির উৎস, We Are
মি. বার্নাস লি বলেছিলেন তার আশা এই আবিষ্কার খুবই ইতিবাচক একটা জগত তৈরি করবে। এই গ্রহের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা মানুষকে এটা একত্রিত করবে, কারণ এর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে ভার্চুয়াল জগতে যোগাযোগ সম্ভব হবে।
টিমের এক সহকর্মী বেন সিগাল বিবিসিকে বলেন, টিম যে কাজ করেছিলেন তা আগে কেউ করেনি। "এটা ছিল এক ব্যক্তির একক ভাবনা, মহান এক সৃষ্টি।"
"টিমের ছিল ভিশন এবং সেই ভিশনকে বাস্তবে রূপ দেবার ক্ষমতা -যে দুয়ের সমন্বয় খুবই বিরল," বিবিসিকে বলেছেন তার আরেক সহকর্মী বিজ্ঞানী জঁন ফ্রসোয়াঁ গ্রথ।
টিম বার্নাস-লি যখন ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব আবিষ্কার করেন, তখন কিন্তু তিনি ছিলেন জেনিভায় সার্নে কর্মরত অতি সাদামাটা একজন বিজ্ঞানী।
'কল সারানোর মিস্ত্রি'র যুগান্তকারী উদ্ভাবন
সার্নে কাজ করেন পৃথিবীর বিখ্যাত বাঘা বাঘা সব পদার্থবিদরা - যাদের গবেষণার বিষয়বস্তু বিজ্ঞানের জগতের বিশাল বিশাল প্রশ্নের উত্তর খোঁজা - যেমন পৃথিবী কী উপাদান দিয়ে তৈরি- কীভাবে কাজ করে এসব উপাদান?

ছবির উৎস, FABRICE COFFRINI/Getty Images
সেখানে এই পদার্থবিদদের কাজে প্রযুক্তিগত সাহায্যের জন্য নিয়োগ করা হয় কম্পিউটার বিজ্ঞানীদের, যাদের ভূমিকা হল প্রয়োজনে হাজির থাকা।
"কম্পিউটার বিজ্ঞানীরা সেখানে অনেকটা কল সারানোর মিস্ত্রির মত। তাদের দরকার আছে, কিন্তু বড় বড় গবেষণার কাজে তারা অত্যাবশ্যক নয়। তাদের ডাক পড়ে শুধু প্রয়োজনে। আমরা ছিলাম সেখানে কলের মিস্ত্রি। দরকারে হাজির হতাম," বলেন জঁন ফ্রসোয়াঁ গ্রথ।
তবে তিনি বলেন, নতুন ও উন্নত উপায়ে তথ্য সরবরাহের প্রযুক্তি খোঁজাও ছিল তাদের অন্যতম একটা কাজ।
"ধরে নিন বেশ কিছু নতুন পাইপ বা পথ খুঁজে পেলাম। সেগুলো জোড়া লাগিয়ে তথ্য চলাচলের জন্য আরও উন্নত ও নতুন পথের সন্ধান করতাম আমরা," বলেন মি.গ্রথ।
বিজ্ঞানীদের জন্য তথ্য প্রবাহের এই সরবরাহ লাইন বা পাইপ উদ্ভাবকদের দলটির বৈপ্লবিক কাজে নেতৃত্ব দিতেন টিম বার্নাস-লি। তিরিশের ওপর বয়স, চুপচাপ প্রকৃতির তরুণ, যাকে দেখে মনেই হতো না তার ভেতরে লুকিয়ে আছে এমন এক প্রতিভা।
টিম ১৯৮৯ সালে সার্নে তার বসের কাছে নতুন এক প্রস্তাব নিয়ে হাজির হলেন।
"প্রস্তাবটা ছিল একেবারে অভাবনীয়- আসল কাজের সঙ্গে এর কোনই যোগাযোগ ছিল না," বলছিলেন বেন সিগাল।
ইতিহাসের সাক্ষীর পুরোন কিছু পর্ব পড়তে পারেন:

ছবির উৎস, Andriy Onufriyenko/Getty Images
তিনি টিমের দলে সরাসরি কাজ করতেন না। কিন্তু টিমকে তিনি পছন্দ করতেন এবং তাকে সাহায্য করতেন, পরামর্শ দিতেন।
"তিনি যে ছবিটা হাজির করলেন তা আজকের দিনে এই জগতের খুবই পরিচিত একটা ছবি- কিন্তু তখন তাকে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করতে হল কী তিনি করতে চাইছেন।"
তার ভাবনায় ছিল অনেকগুলো স্তরের হলোগ্রাফিক ছবি- তার সঙ্গে বহুমাত্রিক জটিল ব্যাখ্যা ও যুক্তি। "টিমের মাথার ভেতর চিন্তাভাবনা ওভাবেই কাজ করত। ছবিটা দেখে বোঝা সহজ ছিল না সে কী করতে চাইছে। সে প্রচলিত কায়দায় কোন প্রকল্পের রূপরেখার সারমর্ম নিয়ে হাজির হয়নি। সে তার স্বপ্নের ছবি এঁকেছিল।"
কী ছিল সেই স্বপ্ন?
তার সেই স্বপ্নটা ছিল গোটা বিশ্বকে দ্বিমুখী পথে, বহুমুখী পথে সম্পূর্ণভাবে সংযুক্ত করার একটা ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
টিম বার্নাাস-লি-র এই আবিষ্কারের পেছনে মূল অনুপ্রেরণা ছিল, সার্নে যেসব বিজ্ঞানী কাজ করছেন তাদের ভাবনা ও গবেষণার কাজ কীভাবে আরও কার্যকর উপায়ে আদানপ্রদানের ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়।
মি. বার্নাস লি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব আবিষ্কার করার আগে এই বিজ্ঞানীরা আলাদা আলাদাভাবে অনেকগুলো কম্পিউটার ব্যবহার করতেন তাদের কাজ অন্যদের কাছে তুলে ধরার জন্য।
কীভাবে এ কাজ হতো তা ২০০৫ সালে বিবিসির কাছে ব্যাখ্যা করেছিলেন সার্নের একজন বিজ্ঞানী, যিনি ৮০র দশকের শেষ দিকে সার্নে কাজ করতেন।।
"সেখানে তখন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় বড় সৃজনশীল বিজ্ঞানীরা কাজ করছেন। প্রত্যেকেই তাদের কাজের জন্য ব্যবহার করতেন তাদের নিজস্ব ভিন্ন ভিন্ন ধরনের কম্পিউটার, ভিন্ন ধরনের কম্পিউটার প্রোগ্রাম, তথ্য পরিবেশনের জন্য বিভিন্ন ধাঁচের ফরম্যাট।"
ফলে কোনো একটা গবেষণা সম্পর্কে জানতে হলে খণ্ড খণ্ড ভাবে তথ্য সংগ্রহ করতে হতো বলে জানান এই বিজ্ঞানী।
"একটা কম্পিউটার খুলে সেই কম্পিউটার কীভাবে কাজ করে তা বুঝে নিয়ে তথ্য বের করে তা আমরা টুকে নিতাম কাগজে- এরপর বাকি তথ্যের জন্য যেতে হত আরেকটা কম্পিউটারে, সেখান থেকে তথ্য নিয়ে আবার আরেকটা কম্পিউটারে। ব্যাপারটা ছিল সময়সাপেক্ষ আর জটিল। সকলের ব্যবহার উপযোগী একটা জায়গায় আইডিয়া শেয়ার করার কোন পদ্ধতি বা সুযোগ আমাদের ছিল না।"
সেই সুযোগ এনে দেবার স্বপ্ন দেখালেন টিম বার্নাস লি।

ছবির উৎস, Mondadori Portfolio/Gett Images
ইন্টারনেট দুনিয়ার বিপ্লব
তিনি প্রস্তাব দিলেন বাজারে যে প্রযুক্তি রয়েছে তা ব্যবহার করেই এমন একটা ভার্চুয়াল জগত তৈরি করা সম্ভব যেখানে সকলেই তথ্য শেয়ার করতে পারবে, তথ্য সহজেই আদানপ্রদান করতে পারবে। । তিনি বললেন এর মূল ভিত্তি হবে ইন্টারনেট এবং ইন্টারনেট ব্যবহার করেই আলাদা আলাদা কম্পিউটারকে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সংযুক্ত করা হবে।
তখন ইন্টারনেট চালু হয়ে গেছে দুই দশক ধরে। কিন্তু ইন্টারনেটের ব্যবহার তখনও জটিল পর্যায়ে, সেখানে কিছু খুঁজে পেতে সময় লাগে অনেক এবং খুঁজে পাওয়াও দুষ্কর।
সমস্যার সমাধান করতে টিম বার্নাস-লি দুটি প্রযুক্তিকে একসাথে জুড়লেন -ইন্টারনেটের সঙ্গে হাইপারটেক্সট।
তিনি দেখলেন ইন্টারনেটের সঙ্গে হাইপারটেক্সট ব্যবহার করলে একটি ডকুমেন্টের সঙ্গে আরেকটি ডকুমেন্টকে সংযুক্ত করা যায় এবং ভার্চুয়াল জগতে একটি একক নথি তৈরি করা যায়। আর ব্রাউজার ব্যবহার করে পৃথিবীর যে কোন জায়গা থেকে সেই নথি দেখা যায়, পড়া যায়।
তার এই ভিশন থেকেই শুরু হল ইন্টারনেট দুনিয়ায় এক বিপ্লবের পদচারণা।

ছবির উৎস, shalunts
উদ্ভাবনার কাজ গোপনে
মি. বার্নাস লি বললেন বিভিন্ন জায়গা থেকে তথ্য একটা ওয়েবে নিয়ে আসা হবে। যেসব তথ্য ইতোমধ্যেই লেখা হয়েছে, তৈরি রয়েছে, ছড়িয়ে আছে পৃথিবীর নানা প্রান্তে সেগুলো ইন্টারনেট আর হাইপারটেক্সট প্রযুক্তি এনে দেবে একটা জায়গায়।
কিন্তু টিমের এই প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে নাকচ করে দিলেন তার বস। যদিও একইসাথে টিমকে তিনি অনুমতি দিলেন তার আইডিয়া নিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে, কাজ করার জন্য সুযোগ সুবিধাও তৈরি করে দিলেন।
"আমাকে বললেন টিমের সাথে কাজ করতে। আমার তার সঙ্গে কাজ করার কোন কথা ছিল না," বলছেন বেন সিগাল।
কম্পিউটার প্রযুক্তি নিয়েও গবেষণার কিছু কাজ হতো সার্নে। কারণ পদার্থবিদ্যার কাজে সাহায্য করার জন্য কম্পিউটার প্রযুক্তির দরকার হতো।
কিন্তু কোনো গবেষণা, যার সাথে পদার্থবিদ্যার কোন যোগসূত্র নেই তার জন্য আলাদাভাবে তহবিল অনুমোদন করার এখতিয়ার সার্নের ছিল না।
ফলে টিমের গবেষণার কাজ চলতে লাগল গোপনে - আড়ালে, মাটির নিচের ঘরে।

ছবির উৎস, SEBASTIAN DERUNGS/Getty Images
জন্ম নিল ওয়ার্ল্ড ওয়াউড ওয়েব
বেন সিগাল টিম বার্নাস-লির বসকে গিয়ে বোঝালেন যে টিমের জন্য দরকার একটা বিশেষ ধরনের কম্পিউটার - নেক্সট কম্পিউটার - যার উদ্ভাবক ছিলেন অ্যাপল কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস।
সার্নে সেই কম্পিউটার এসে পৌঁছল ১৯৯০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে।
"দারুণ উত্তেজিত টিম বার্নাস লি ডিসেম্বরে ক্রিসমাসের মধ্যেই সেই কম্পিউটারে পুরোপুরি কাজ শুরু করে দিল। সার্ভার, ব্রাউজার যাবতীয় কাজ সে রীতিমত হাতের মুঠোয় এনে ফেলল। আমার কাছে মনে হল সে আইনস্টাইনের মাপের কাজ করে ফেলেছে," বলেন মি. সিগাল।
ওই কয়েক মাসের মধ্যে টিম সৃষ্টি করলেন যা আজ পরিচিত ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব নামে - www।
জঁন ফ্রসোয়াঁ গ্রথ সেসময় ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বেন সিগালের মনে হয়েছিল এই তরুণ শিক্ষার্থী টিমকে সাহায্য করার উপযুক্ত।
জঁন ফ্রসোয়াঁ গ্রথের মতে এর পেছনে সম্ভবত ঈশ্বরের হাত ছিল।
"কারণ মাত্র তার আগের বছরই আমি একটা বিশেষ ধরনের কম্পিউটার প্রোগ্রামিংএর কাজ রপ্ত করেছিলাম আর ওই প্রোগ্রামিং সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করেছিলাম। টিমের ঠিক ওই প্রোগ্রামিং জানা লোকেরই দরকার ছিল।"

ছবির উৎস, SEAN GLADWELL
বিপুল উৎসাহ
টিমের ছোট দলটি তিন ধরনের নতুন প্রযুক্তি তৈরি করে- html, url এবং http। এই তিন প্রযুক্তির মাধ্যমে পৃথিবীর সর্বত্র কম্পিউটারগুলো নিজেদের মধ্যে কথা বলতে সক্ষম হয়।
টিম বার্নাস-লি ১৯৯১ সালের অগাস্ট মাসে তার আবিষ্কার তুলে ধরেন বিশ্বের সামনে। বিশ্বের প্রথম ওয়েবসাইট ifo.sern.ch উদ্ভাবনের খবর ছড়িয়ে যায় সার্ন সংস্থার বাইরে সারা বিশ্বে।
বেন সিগাল বলেন সার্নের বাইরের দুনিয়া থেকে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিক্রিয়া আসতে থাকে। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে তৈরি হয় বিপুলর আগ্রহ। সার্নের ভেতরে যদিও তেমন একটা উৎসাহ দেখা যায়নি।
"এর অল্পদিনের মধ্যেই একটা উৎসাহী ওয়েব গোষ্ঠী তৈরি হয়ে যায়," বলেন জঁন ফ্রসোয়াঁ গ্রথ।
উন্মুক্ত ও বিনামূল্যের ওয়েব
প্রথম থেকেই টিম বার্নাস-লি এবং তার সহকর্মীরা চেয়েছিলেন এই ওয়েব হবে উন্মুক্ত এবং বিনামূল্যে তা ব্যবহার করা যাবে।
সার্নের ব্যবস্থাপনা মহলকে অবশ্য এ বিষয়ে রাজি করাতে কিছু বেগ পেতে হয়।
তবে শেষ পর্যন্ত ১৯৯৩ সালে সার্ন একটি আইনি দলিলে সই করে যাতে বলা হয় এই ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব পৃথিবীর সর্বত্র সকলে বিনা খরচায় ব্যবহার করতে পারবে।
এই দলিলটি ছিল বিংশ শতাব্দীর অন্যতম সবচেয়ে মূল্যবান একটি দলিল।

ছবির উৎস, ipopba
তথ্যজাল
ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব নামটি এসেছিল কোথা থেকে?
বেন সিগাল বলছেন প্রথমে ভাবা হয়েছিল অন্য একটি নাম ইনফরমেশন মেশ বা তথ্যজাল। সেটা বাতিল হয়ে যায়।
টিমের নিজের নামে ওয়েবের নাম 'টিম' রাখার কথাও ভাবা হয়েছিল। কিন্তু টিমের পছন্দ হয়নি। "ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব নামটি তারই দেয়া। এটাই তার সবচেয়ে পছন্দ ছিল।" জানান বেন সিগাল।
এর কয়েক বছরের মধ্যেই এই প্রযুক্তি জনপ্রিয়তা পায় বিশ্ব জুড়ে- বদলে দেয় মানুষের জীবন- তৈরি হয় আজকের ওয়েব নির্ভর দুনিয়া।
টিম বার্নাস লি তার এই যুগান্তকারী আবিষ্কার থেকে এক পয়সা উপার্জনের প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যন করেন। তিনি বলেন তার এই উদ্ভাবন ছিল মানুষের হাতে অবাধ তথ্যভাণ্ডার সহজে ও বিনা খরচায় পৌঁছে দেবার জন্য। তিনি কোন লাভের আশায় এই কাজ করেননি।
তিনি ১৯৯৪ সালে চলে যান আমেরিকায় এবং উন্মুক্ত ওয়েবের ব্যবহার নিয়ে আরও কাজ করেন।
জঁন ফ্রসোয়াঁ গ্রথও সারা জীবন ওয়েব নিয়ে কাজ করে গেছেন আর ড. বেন সিগালের কর্মক্ষেত্রও ছিল ইউরোপে ইন্টারনেটের ব্যবহার নিয়ে।
বেন সিগাল আর জঁন ফ্রসোয়াঁ গ্রথের সঙ্গে কথা বলেছেন বিবিসির লুইস হিডালগো।








