ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ: সেভেরোদোনেৎস্কে সেতু উড়িয়ে দিচ্ছে রুশরা, ইউক্রেনিয়ান সামরিক বিমান ভূপাতিত

ইউক্রেন দাবি করছে, লুহানস্ক অঞ্চলের যে শহরটি ঘিরে গত কদিন ধরে তীব্র লড়াই চলছে, সেখানে রুশ বাহিনীর কাছ থেকে তারা কিছু এলাকা পুনর্দখল করেছে।

ইউক্রেন যাতে সেখানে বাড়তি সৈন্য এবং রসদ পাঠাতে না পারে, সেজন্যে রুশ বাহিনী সেভেরোদোনেৎস্ক শহরের পশ্চিমে একটি নদীর ওপর সেতুগুলো ধ্বংস করে দিচ্ছে বলেও জানিয়েছেন একজন ইউক্রেনীয় কর্মকর্তা।

এদিকে রাশিয়া দাবি করছে, তারা অস্ত্র এবং গোলাবারুদ-বাহী একটি একটি ইউক্রেনীয় বিমান ভূপাতিত করেছে।

তীব্র লড়াই

সেভেরোদোনেৎস্কের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তীব্র লড়াই চলছে গত কিছুদিন ধরে। এর আগের খবরে বলা হচ্ছিল, শহরটির প্রায় ৭০ শতাংশই রুশরা দখল করে নিয়েছিল। ইউক্রেনীয় সৈন্যরা সেখান থেকে পিছু হটতে পারে, এমন ইঙ্গিতও দেয়া হচ্ছিল।

কিন্তু ইউক্রেনের লুহানস্ক প্রদেশের গভর্নর এখন দাবি করছেন, রুশদের বিরুদ্ধে লড়াই করে তারা এখন শহরটির এক পঞ্চমাংশ পুনর্দখল করেছেন।

গভর্নর সেরহি হাইদাই বলছেন, সেখানে যাতে আরও ইউক্রেনীয় সৈন্য এবং রসদ পাঠানো না যায়, সেজন্যে রুশরা সেভেরোদোনেৎস্কের পশ্চিমে একটি নদীর ওপর ব্রিজগুলো উড়িয়ে দিচ্ছে। তিনি বলেন, ইউক্রেন সেখানে যে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে, তাতে রুশরা ভীত।

অন্যান্য খবর:

গভর্নর সেরহি হাইদাই আরও বলেন, সেভেরোদোনেৎস্ক শহরের ভেতর ইউক্রেনিয়ান বাহিনী তাদের অবস্থান এখনো ধরে রেখেছে এবং রাশিয়ার বাহিনীকে হটিয়ে দিচ্ছে। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর তরফ থেকেও একই দাবি করা হচ্ছে।

সামরিক বিমান ভূপাতিত

এদিকে রাশিয়া দাবি করছে, তারা ইউক্রেনের একটি সামরিক পরিবহন বিমানে আক্রমণ চালিয়ে সেটি ধ্বংস করেছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, এই বিমানে অস্ত্র এবং গোলাবারুদ বহন করা হচ্ছিল, ওডেসা বন্দরের কাছে এটি ভূপাতিত করা হয়।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইগর কোনাশেনকভ বলেন তারা ইউক্রেনিয়ানদের বেশ কিছু লক্ষ্যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছেন।

আরও পড়ুন:

তিনি জানান, সুমি অঞ্চলে ইউক্রেনের আর্টিলারি ট্রেনিং সেন্টারে আকাশ থেকে নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। তিনি দাবি করেন যে, এই সেন্টারে বিদেশি প্রশিক্ষকরা ইউক্রেনের সৈন্যদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছিল।

কিয়েভ থেকে বিবিসির একজন সংবাদদাতা বলছেন, এসব দাবি এবং পাল্টা দাবির সত্যতা যাচাই করা কঠিন। বিশেষ করে সেভেরোদোনেৎস্ক শহরের ভেতরে আসলে কী ঘটছে তা বোঝা মুশকিল, কারণ সেখানে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে।