রাশিয়া- ইউক্রেন যুদ্ধ: ব্যাপকভাবে বাড়ছে পণ্যের দাম, বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকটের আশংকা জাতিসংঘের

বৈশ্বিক খাদ্য সংকটের আশংকা করছে জাতিসংঘ।

ছবির উৎস, EPA

ছবির ক্যাপশান, বৈশ্বিক খাদ্য সংকটের আশংকা করছে জাতিসংঘ।

জাতিসংঘ সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের কারণে সামনের মাসগুলোতে বৈশ্বিক খাদ্য সংকট তৈরি হতে পারে।

সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, এই যুদ্ধের কারণে দাম বৃদ্ধি পাওয়াতে দরিদ্র দেশগুলোতে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ভয়াবহ পর্যায়ে চলে গেছে।

তার আশংকা, শেষ পর্যন্ত ইউক্রেন থেকে রপ্তানি স্বাভাবিক না হলে বিশ্ব দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি হতে পারে।

রাশিয়ার হামলার কারণে ইউক্রেনের বন্দরগুলো দিয়ে খাদ্য সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।

অথচ এসব বন্দর দিয়ে বিপুল পরিমাণ সূর্যমুখী তেল, গম ও ভুট্টা রপ্তানি হতো।

বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:

ইউক্রেন প্রতি মাসে প্রায় সাড়ে চার কোটি টন খাদ্যশস্য রপ্তানি করতো।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ইউক্রেন প্রতি মাসে প্রায় সাড়ে চার কোটি টন খাদ্যশস্য রপ্তানি করতো।

এগুলো বন্ধ হয়ে পড়ায় এখন বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যাপক কমেছে এবং এর ফলে বিশ্বব্যাপী এসব পণ্যের দাম ব্যাপক বেড়েছে।

জাতিসংঘের হিসেবে গত বছরের তুলনায় এ বছর খাদ্যপণ্যের দাম ইতোমধ্যেই সারাবিশ্বে অন্তত ৩০ শতাংশ বেড়েছে।

নিউইয়র্কে বুধবার মিস্টার গুতেরেস বলেন, খাদ্য সংকটের কারণে কোটি কোটি মানুষ অপুষ্টি, ক্ষুধা ও দুর্ভিক্ষের মুখে পড়তে পারে।

"সবাই এক সাথে কাজ করলে এ মূহুর্তে বিশ্বে যথেষ্ট খাদ্য আছে। কিন্তু যদি এ সংকটের সুরাহা না হয়, তাহলে সামনের মাসগুলোতে বৈশ্বিক খাদ্য সংকট তৈরি হতে পারে," বলছিলেন তিনি।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ইউক্রেনের খাদ্যশস্য স্বাভাবিক পর্যায়ে আনা ছাড়া খাদ্য সংকটের কার্যকর কোন সমাধান নেই। একই ভাবে বৈশ্বিক বাজারে রাশিয়া ও বেলারুশের সারেরও বিকল্প নেই।

ইউক্রেনের খাদ্য রপ্তানি স্বাভাবিক পর্যায়ে না এলে দুর্ভিক্ষের আশংকা করা হচ্ছে।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ইউক্রেনের খাদ্য রপ্তানি স্বাভাবিক পর্যায়ে না এলে দুর্ভিক্ষের আশংকা করা হচ্ছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, রাশিয়া, ইউক্রেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে তার যোগাযোগ আছে যাতে করে খাদ্য রপ্তানি স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে আসা যায়।

তিনি এমন সময় এমন মন্তব্য করলেন যখন বিশ্ব ব্যাংক খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা মোকাবেলায় অতিরিক্ত ১২ বিলিয়ন ডলারের অর্থ সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, রাশিয়া ও ইউক্রেন বিশ্বের যত গম উৎপন্ন হয় তার ত্রিশ ভাগ উৎপাদন করে। যুদ্ধের আগে ইউক্রেন ৪৫ মিলিয়ন টন খাদ্য শস্য প্রতি মাসে রপ্তানি করতো।

কিন্তু রাশিয়ার আগ্রাসনের পর সব রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেছে এবং জাতিসংঘের হিসেবে ২০ মিলিয়ন টন ভুট্টা এখনো সেখানে আটকা পড়ে আছে।

Skip YouTube post
Google YouTube কনটেন্টের জন্য কি অনুমতি দেবেন?

এই নিবন্ধে Google YouTubeএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত Google YouTube কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।

সতর্কবাণী: তৃতীয়পক্ষের কন্টেন্টে বিজ্ঞাপন থাকতে পারে

End of YouTube post