অ্যান্ড্রু সায়মন্ডস: সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার

অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার অ্যান্ড্রু সায়মন্ডস সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার অ্যান্ড্রু সায়মন্ডস সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন

সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার অ্যান্ড্রু সায়মন্ডস ৪৬ বছর বয়সে মারা গেছেন।

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া নিজেদের ওয়েবসাইটে সায়মন্ডসকে 'কাল্ট ফিগার' হিসেবে উল্লেখ করে লিখেছে শনিবার রাতে কুইন্সল্যান্ডের হার্ভেতে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়।

সায়মন্ডসের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী লরা এবং দুই সন্তান ছিল, তারা বেঁচে আছেন।

কুইন্সল্যান্ড পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, "অ্যালিস নদীর ব্রিজের কাছে হার্ভে রেঞ্জ রোডে গাড়িটি চলছিল। রাত ১১ টার দিকে, গাড়িটি সড়ক থেকে ছিটকে যায়।"

"জরুরি দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষ চেষ্টা করে তাকে বাঁচানোর কিন্তু জখমের কারণে সম্ভব হয়নি," লিখেছে কুইন্সল্যান্ড পুলিশ।

থাইল্যান্ডে হার্ট অ্যাটাকে শেন ওয়ার্নের মৃত্যুর দুই মাসও পেরোয়নি, এরই মধ্যে আরেক অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার মারা গেলেন।

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান লাখলান হেন্ডারসন বলেন, "অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের সেরাদের একজন মারা গেছেন। তিনি ছিলেন প্রজন্মের সেরাদের একজন। কুইন্সল্যান্ডের সমৃদ্ধ ক্রিকেট ইতিহাসের অংশ। অস্ট্রেলিয়ার দুই বিশ্বকাপ জয়ী দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।"

এই অলরাউন্ডার অস্ট্রেয়িলার হয়ে ২৬ট টেস্ট ম্যাচ, ১৯৮টি ওয়ানডে ম্যাচ ও ১৪টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন।

এক নজরে অ্যান্ড্রু সায়মন্ডসের ক্যারিয়ার
ছবির ক্যাপশান, এক নজরে অ্যান্ড্রু সায়মন্ডসের ক্যারিয়ার

শক্তিশালী ব্যাটিং, বুদ্ধিদীপ্ত বোলিং এবং দারুণ ফিল্ডিংয়ের জন্য তিনি সুপরিচিত ছিলেন।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দুটি বিশ্বকাপ জিতেছেন তিনি। দুই হাজার ছয়-সাত মৌসুমে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যাশেজজয়ী দলেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন সায়মন্ডস।

সায়মন্ডসের জন্ম হয় ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে।

যুক্তরাজ্যের কাউন্টি ক্রিকেটে বহুদিন খেলে গেছেন তিনি।

কেন্ট, গ্লোস্টারশায়ার, ল্যাঙ্কাশায়ার, সারের হয়ে খেলেছিলেন তিনি।

গত সপ্তাহে বেন স্টোকস কাউন্টি ক্রিকেটে এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি ছক্কার যে রেকর্ডটি গড়েন সেটার আগের মালিক ছিলেন সায়মন্ডস, ১৯৯৫ সালে গ্ল্যামোরগানের বিপক্ষে তিনি ১৬টি ছক্কা মেরেছিলেন।

চলতি বছর অস্ট্রেলিয়ার শেন ওয়ার্ন ও রড মার্শ মারা যান, এবার সায়মন্ডসকেও হারাল অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট।

অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাররা তো বটেই বিশ্বব্যাপী ক্রিকেটাররা সায়মন্ডসের মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না।

ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভন টুইট করেছেন, "সিমো... এটা সত্যি মনে হচ্ছে না।"

সায়মন্ডসের সাথে দীর্ঘদিন জাতীয় দলে খেলা অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, জেসন গিলেস্পিও টুইট করে জানিয়েছেন তারা ব্যথিত।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে।

Skip X post
X কনটেন্টের জন্য কি অনুমতি দেবেন?

এই নিবন্ধে Xএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত X কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।

সতর্কবাণী: তৃতীয়পক্ষের কন্টেন্টে বিজ্ঞাপন থাকতে পারে

End of X post

অ্যান্ড্রু সায়মন্ডস

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, নিখুত ফিল্ডিং দিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরি করতে পারতেন সায়মন্ডস

এক বিবৃতিতে তারা বলছে, আজ চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশ-শ্রীলংকা প্রথম টেস্টের শুরুতে জহুরআহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে এক মিনিট নিরবতা পালনের মাধ্যমে শোক জানানো হবে।

চল্লিশ গড়ে টেস্ট ক্রিকেটে ব্যাট করা অ্যান্ড্রু সায়মন্ডস শুধু মাঠে নয়, মাঠের বাইরেও আলোচিত এক চরিত্র ছিলেন।

দুই হাজার আট সালে ভারতের হরভজন সিং সায়মন্ডসকে মাঠে 'বানর' বলার পর পুরো বিষয়টা নিয়ে দুই দলই বাকযুদ্ধে নেমে যায়।

কাউকে ছেড়ে কথা বলতেন না সায়মন্ডস।

দুই হাজার তিন সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে জোহান্সবার্গে ওয়াসিম আকরামের পাকিস্তানের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং বিপর্যয় সামাল দিয়ে ১৪৩ রানের ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়েছিলেন সায়মন্ডস।

বিশ্বকাপে সায়মন্ডসের গড় ছিল ১০৩।

খুব বেশি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট না খেললেও সায়মন্ডস ক্রিকেটের ছোট ভার্সনে কতটা সফল হতে পারতেন তা জানান দিয়ে গেছেন অল্প সময়েই।

দুই হাজার সালে কেন্টের হয়ে ৩৪ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি।

অ্যান্ড্রু সায়মন্ডস

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ২০০৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে একটি ম্যাচে দর্শকদের ফেলা প্লাস্টিক পরিস্কার করছেন সায়মন্ডস ও সতীর্থ

দুই হাজার তের সাল পর্যন্ত এটি যে কোনও পর্যায়ের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দ্রুততম সেঞ্চুরি ছিল।

সায়মন্ডস মাঠের ত্রিশ গজের ভেতরে সরাসরি স্ট্যাম্পে থ্রোয়ের জন্যও বিখ্যাত ছিলেন, তার হাত থেকে ক্যাচ খুব একটা ছুটতো না।

নিখুঁত ফিল্ডিং দিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরি করতে পারতেন তিনি।

বিশ্বের সেরা ফিল্ডার হিসেবে পরিচিত জন্টি রোডস নিজেই বলেছিলেন, সায়মন্ডস তার তুলনায় 'দশ গুণ ভালো ফিল্ডার'।

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া সায়মন্ডসকে অনন্য এক ক্রিকেটার বলে উল্লেখ করেছে, ব্যাট হাতে ছিলেন দুর্দমনীয়, ফিল্ডিংয়ে ছিলেন দুর্দান্ত।

বল হাতে ওয়ানডে ক্রিকেটে ১৩৩ টি উইকেট নিয়েছেন তিনি।