নিউমার্কেট এলাকার ব্যবসায়ী ও ঢাকা কলেজের ছাত্রদের মধ্যে সংঘর্ষ, ঈদ কেনাকাটার মৌসুমে ঢাকার ব্যস্ত বিপণি অঞ্চল দীর্ঘ সময় ধরে রণক্ষেত্র

ঢাকার ব্যস্ত বিপণি বিতান অধ্যুষিত এলাকা নিউমার্কেটের সামনের সড়কে রাত থেকে দুদফায় আট ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সংঘর্ষ চলছে।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সেখানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

সংঘর্ষের দুটি পক্ষের একদিকে রয়েছেন ওই এলাকার বিভিন্ন বিপণি বিতানের ব্যবসায়ীরা।

অপর পক্ষে রয়েছেন ওই এলাকাতেই অবস্থিত বাংলাদেশের নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা কলেজের ছাত্ররা।

রাতে এক দফায় চার ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ চললে এক পর্যায়ে পুলিশ তা নিয়ন্ত্রণে আনে।

সকাল দশটার দিকে আবার দু পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়।

এই ঘটনায় দুপক্ষের অন্তত কুড়ি জনকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত টানা সাড়ে চার ঘণ্টার বেশি সময় ধরে দ্বিতীয় দফার সংঘর্ষ চললেও প্রথমে অন্তত ঘণ্টাদুয়েক পুলিশকে সেখানে আসতে দেখা যায়নি।

অথচ সংঘর্ষ যেখানে চলছিল তার একপ্রান্তে রয়েছে নিউমার্কেট থানা এবং অপরপ্রান্তে রয়েছে ধানমণ্ডি থানা। এছাড়া ওই এলাকার মধ্যে একাধিক পুলিশ ফাঁড়িও রয়েছে।

বেলা সাড়ে বারোটার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসার পর সংঘর্ষ কিছুটা স্তিমিত হয়, তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সংঘর্ষ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বহু সংবাদমাধ্যম এবং ঢাকার বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলো ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে এই সংঘর্ষ সরাসরি সম্প্রচার করেছে।

দুপক্ষকেই পরস্পরের দিকে ইটপাটকেল ছুঁড়তে দেখা গেছে।

আশপাশের ভবনের ছাদ থেকে ইটপাটকেল ছোঁড়া হচ্ছিল।

পুলিশ আসার আগে ঘটনাস্থল থেকে কয়েকটি বিস্ফোরণের আওয়াজও পাওয়া গেছে।

সরাসরি সম্প্রচারিত ভিডিওতে সংঘর্ষে অংশগ্রহণকারীদের একটি বিপণিবিতানের নিচতলায় অগ্নিসংযোগ করতে দেখা গেছে।

সেই আগুন বেলা দুটো পর্যন্ত জ্বলছিল।

সেখানকার কী অবস্থা সেটা স্পষ্ট নয়।

তবে সেখান থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে।

ওই এলাকায় সড়কে যান চলাচল সকাল থেকে বন্ধ থাকলেও একটি অ্যাম্বুলেন্স সেখানে ঢুকে পড়ার পর সেটিকে ভাংচুর করতেও দেখা গেছে।

গণমাধ্যমগুলো খবর দিচ্ছে, কয়েকজন সাংবাদিকের উপর হামলা ও মারধর করা হয়েছে।

আহত কয়েকজন সাংবাদিককে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হয়েছে বলেও স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো খবর দিচ্ছে।

ঢাকার এই অংশটি সবচেয়ে বেশিসংখ্যক বিপণি বিতান সমৃদ্ধ এলাকা।

মিরপুর সড়কের ধানমণ্ডি ছয় নম্বর রোড প্রান্ত থেকে শুরু করে নিউমার্কেট মোড় পর্যন্ত বহু বিপণি বিতানে হাজার হাজার দোকান রয়েছে।

এখন ঈদের কেনাকাটার মৌসুম চলছে।

এই অঞ্চলের নিউমার্কেট, গাউছিয়া, চন্দ্রিমা সুপার মার্কেট, নুরজাহান মার্কেট-সহ বেশ কিছু বিপণি বিতানে ঢাকার সবচাইতে বেশি জনসমাগম হয় ঈদের মত উৎসবের মৌসুমগুলোতে।

চন্দ্রিমা মার্কেটের সামনের অংশের কয়েকটি দোকান থেকে আগুন এবং ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে।

নিউমার্কেট ও গাউছিয়া মার্কেটের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী পদচারী সেতুটির নীচে যে অ্যাম্বুলেন্সটির উপর হামলা চালাতে দেখা গেছে, সেই হামলাকারীরা ঠিক কোন পক্ষের সেটা স্পষ্ট নয়।

সংঘর্ষে আহত হয়ে সকাল থেকে ২০জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেছেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ি ইন-চার্জ ইন্সপেক্টর বাচ্চু মিয়া।

এর আগে গত রাতে চারজন আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর একজনকে স্কয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

আগের দিনের জের ধরে মঙ্গলবার সকালে নতুন করে সংঘর্ষ শুরুর প্রায় সাড়ে দু ঘণ্টার বেশি পর ঘটনাস্থলে পুলিশকে ঢুকতে দেখা গেছে।

বেলা একটার পর তাদের কাঁদানে গ্যাস ও টিয়ার শেল ছুঁড়তে দেখা যায়।

মূলত সংঘর্ষ অংশ নেয়া ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে টিয়ার শেল ছোঁড়া হচ্ছিল।

এসময় ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা কলেজ ক্যাম্পাসের মধ্যে ঢুকে যায়।

এই সংঘর্ষের সূত্রপাত ঠিক কীভাবে সেটা এখনো স্পষ্ট নয়।

এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলাও সম্ভব হয়নি বিবিসির তরফ থেকে।

তবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যাচ্ছে, সোমবার মধ্যরাতে ঢাকা কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে নিউমার্কেটের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত।

রাত ১১টার দিকে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়, যা প্রায় রাত তিনটা পর্যন্ত চলে।

এক পর্যায়ে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস এবং রাবার বুলেট ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।

সংঘর্ষের কারণে রাতেও মিরপুর সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এদিকে, সংঘর্ষের কারণে ঢাকা কলেজের মঙ্গলবারের সব ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

ওই এলাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজসহ বাংলাদেশের বেশ কটি বড় ও নামজাদা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

ব্যবসায়ীদের সাথে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সাথে বিরোধ-সংঘর্ষের ঘটনাও ওই এলাকাতেও নতুন নয়।

এর আগেও বহুবার ওই এলাকায় এ ধরণের সংঘর্ষ তৈরির ইতিহাস রয়েছে।