আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত: ঘরোয়া ক্রিকেটের সেরা পারফর্মার কেন জাতীয় দলে বিবেচিত নন
- Author, রায়হান মাসুদ
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
চলছে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ, যেখানে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত আবাহনীর হয়ে সবচেয়ে বেশি রানের মালিক। দলের বড় বড় নাম যারা তারা ছিলেন জাতীয় দলের ডিউটিতে, এমন সময় বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সফল এই ক্রিকেট ক্লাবকে প্রায় একাই টানেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।
এই গেল ম্যাচেও আবাহনী অলআউট হয়ে গেল ১৩১ রানে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ৫৭ বলে ৬৫ রান তুলেছেন।
এই মৌসুমে ৫৪ গড় ও ৯৪ স্ট্রাইক রেটে ৫৪২ রান তুলেছেন সৈকত।
সৈকত বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের হয়ে তিনটি টেস্ট ম্যাচ ও ৪০টির মতো ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন।
এর আগে ৪ ম্যাচে তিনি ১৪৮ রান তুলেছিলেন বাংলাদেশের ঘরোয়া ওয়ানডে লিগ বিসিএল-এ।
টানা পারফর্ম করেও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত জাতীয় দলে কোনও এক কারণে ডাক পান না।
বাংলাদেশ জাতীয় দল নির্বাচন কমিটির সদস্য হাবিবুল বাশার বিবিসি বাংলাকে বলেন, "এখন এটা একটা মধুর সমস্যা। আপনি মোসাদ্দেক বলেন আর বিজয়, এখানে আমাদের পারফর্ম করছে এমন ক্রিকেটার আছেন। যারা আফগানিস্তান সিরিজে ভালো করেছে, যারা দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথমবারের মতো সিরিজ জিতে এসেছে এই কিছুদিন আগে।"
কিন্তু যারা ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো করছে তাদের কী বিবেচনায় রাখা হচ্ছে?
হাবিবুল বাশার বলেছেন, "বিবেচনায় না রাখার তো প্রশ্নই আসে না। এরা সবাই বিবেচনায় আছে। যখন কোনও সিরিজ সামনে আসে তখন আমরা ভাবি কাকে রাখা যায়। কিন্তু এখন তো ওয়ানডে ফরম্যাটে খুব একটা বদলের জায়গা নেই।"
দলের বাইরে যারা আছেন এবং দলে এখন যারা আছেন সবাই বিবেচনায় আছেন, এরপরও আমাদের তো নির্দিষ্ট ক্রিকেটারকে নিতে হবে, 'এই ধরনের কম্পিটিশন এনজয় করেন' বলেই জানিয়েছেন মি. বাশার।
বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটার ও ক্রিকেট বিশ্লেষক সৈয়দ আবিদ হুসেইন সামির মতে, সৈকত ডমেস্টিকে পারফর্মার, কোন পজিশনে খেলেছেন এটাও গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি মূলত ওয়ানডে ফরম্যাটের দিকে জোর দিয়েছেন, মোসাদ্দেক একদিনের ক্রিকেটে সাত বা আট নম্বর পজিশনে ব্যাট করেন, মি. সামি এখানে দেখিয়েছেন কীভাবে গত ৩ বছরে এই জায়গাটা পাকা করেছেন আফিফ হোসেন ধ্রুব।
"টেকনিকাল জায়গাটা যদি দেখি সেখানে আফিফ ও মিরাজ খেলছেন। আফিফ কিন্তু ওই জায়গায় আস্থার প্রতিদান দিচ্ছেন। মিরাজের বোলিংয়ের জায়গাটা শক্তিশালী।"
২০১৯ সালের ওয়ানডে ক্রিকেট বিশ্বকাপে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত খেলেছেন, কোনও ম্যাচেই ৩০ রানও তুলতে পারেননি।
এরপর মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে শ্রীলঙ্কা সফরেও নিয়ে যাওয়া হয় ২০১৯ সালেই। সেখানে তিনি ১২ ও ১৩ রান করেন দুই ওয়ানডে ম্যাচে।
মোসাদ্দেকের বিশ্বকাপ এবং তারপরের ব্যর্থতায় আফিফ দলে সুযোগ পেয়েছেন এবং তা কাজে লাগিয়েছেন।
আবিদ হুসেইন সামি বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, মোসাদ্দেক নিজেও অনেক সুযোগ হেলায় হারিয়েছেন, "গত আট-দশ ইনিংসে মাত্র একটা হাফ সেঞ্চুরি। এখানে এই ক্রিকেটারের পেছনে বিনিয়োগ করতে গেলে অনেকগুলো ফ্যাক্টর ভাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।"
দলের বাইরে থেকে পারফর্ম করা একটি দলে ঢোকা মুশকিল বটে কিন্তু ভালো খেলেও বাদ পড়েছেন এর আগে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, এরপর আর তার ফিরে আসা হয়নি।
মি. সামির মতে, যদিও অফিসিয়াল নয় কিন্তু মোসাদ্দেকের ব্যক্তিগত জীবনের কিছু ঘটনা এখানে প্রভাব ফেলেছে।
"মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের জাতীয় দলে সুযোগ না পাওয়াটা টেকনিকাল না, এটা ডিসিপ্লিনারি।"
"পেস বল খেলতে সমস্যা হচ্ছিল, চোখের অপারেশন হয়েছে, সুযোগ দেয়া হয়েছে কিন্তু মুগ্ধ করতে পারেননি তিনি।"
ওয়ানডে ফরম্যাটে আসলেই কঠিন, তবে টেস্ট ফরম্যাটে একটা সুযোগ পেতে পারেন বলেই মনে করেন বাংলাদেশের ক্রিকেট বিশ্লেষক সৈয়দ আবিদ হুসেইন সামি।
মাত্র তিনটি টেস্টের একটিতে ম্যাচ উইনিং একটা নকও আছে, যেখানে তিনি বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের শততম ম্যাচে ৭৫ রানের একটি ইনিংস খেলে সাকিব আল হাসানের সাথে জুটি বেঁধে ম্যাচ জেতান।
এরপর মাত্র দুটি টেস্ট ম্যাচে দলে ডাক পান মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, যার মধ্যে একটি ২০১৯ সালে আফগানিস্তানের সাথে যেই টেস্টে বাংলাদেশ হেরে গিয়েছিল।
মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত কী বলছেন
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২০২১ সালে একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচেও খেলেছেন। তবে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত মনে করেন, "জাতীয় দলের বাইরে মানে বাইরেই"। জাতীয় দলে খেলার জন্য চেষ্টাটা চালিয়ে যেতে চান তিনি।
"দেখেন আমি আমার কাজ করে যাবো। আমার কাজ ভালো খেলা। বাকিটা ঠিক করবেন নীতি নির্ধারকরা আছেন, তারা সিদ্ধান্ত নেবেন কখন কাকে দলে নেয়া হবে এবং হবে না।"
ব্যাটিংটা এনজয় করছেন বলে জানিয়েছেন সৈকত।
"যেমনটা হচ্ছে সেটা অবশ্যই চালিয়ে যেতে চাই আমি। যেভাবে আল্লাহ'র রহমতে পারফর্ম করছি সেভাবে করতে থাকলে আমি আবারও খেলতে পারবো জাতীয় দলে।"