পুষ্পা সিনেমার রক্ত চন্দন গাছের কাঠ কী কাজে ব্যবহার করা হয়

ছবির উৎস, Hindustan Times/Getty
বাংলাদেশের টাঙ্গাইলে মধুপুর জাতীয় উদ্যানে একটা রক্ত চন্দন বা লাল চন্দন গাছ রয়েছে বলে কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।
টাঙ্গাইল বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক আবু সালেহ বলেন, এই গাছটি অনেক আগে থেকেই রয়েছে বনে।
তবে কিছুদিন আগে ভারতের তেলেগু সিনেমা 'পুষ্পা দ্যা রাইজ' সিনেমায় এই লাল চন্দন গাছের বিষয়টা বিশেষভাবে উঠে আসার পর এই গাছ নিয়ে মানুষের আগ্রহ বেড়েছে।
বাংলাদেশে যে গাছটি রয়েছে তার বয়স ৪০ বছরের বেশি। কর্মকর্তারা বলেন এর চেয়ে বেশি বছর বাঁচে এই গাছ।
আরো পড়ুন:
এই গাছ কতটা দামি
টাঙ্গাইলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যান বিভাগের অতিরিক্ত উপপরিচালক মাহমুদুল হাসান বলেন, তাদের ধারণা প্রতি কেজি লাল চন্দনের দাম ১২/১৩ হাজার টাকা।
তবে তিনি বলেন যেহেতু বাংলাদেশে একটা মাত্র গাছের সন্ধান পাওয়া গেছে তাই এর সঠিক বাণিজ্যিক মূল্য নির্ধারণ করা সম্ভব না।
তবে দেশের বাইরে এই গাছ চোরাচালান হয় বহু মূল্যে তাই ধারণা করা যায় এই কাঠের একটা ভালো বাজার দর রয়েছে।
মি. হাসান বলেন, এই গাছ বনজ গাছ হলেও এটা লাগাতে হয় অর্থাৎ প্লানটেশনের দরকার পরে।

ছবির উৎস, Saadetalkan/Getty
কী কাজে ব্যবহৃত হয়, কতটা বিরল
শ্বেত চন্দন গাছ পাওয়া গেলেও বাংলাদেশে রক্ত চন্দন বিরল।
বাংলাদেশ সরকারের বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী বলেন, রক্ত চন্দন কেনা-বেচা বাংলাদেশে কখনো হয় নি।
তবে একমাত্র এই গাছটি সংরক্ষিত এলাকায় রয়েছে।
বাংলাদেশের বন অধিদপ্তর বিরল প্রজাতির গাছ হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে তিন বছর আগে কক্সবাজারে রক্ত চন্দন এবং শ্বেত বা সাদা চন্দন গাছ লাগানোর চেষ্টা করেন।
মি. চৌধুরি বলেন, শ্বেত চন্দনে সাফল্য পেলেও রক্ত চন্দনে তারা এখনো সাফল্য পান নি।
তিনি বলেন "উপমহাদেশের আবহাওয়া এই গাছের জন্য অনুকূল পরিবেশ।

ছবির উৎস, mtcurado/Getty
"কিন্তু এটা 'জারমিনেট' করা যাচ্ছে না। এই গাছ থেকে বীজ নিয়ে বিশেষ ট্রিটমেন্ট করে নার্সারিতে সিডলিং তৈরি করে তারপর লাগাতে হয়। আমরা এটা চেষ্টা করেছি কিন্তু জারমিনেশনটা হচ্ছে না। এখন আমরা টিস্যু কালচারের দিকে চেষ্টা করছি"।
তিনি বলেন, এটার ব্যবহারটা আমাদের দেশে এখনো দেখা যায় নি। তবে "এটার কিছু ওষুধীয় ভ্যালু, প্রসাধনীর কাজে ব্যবহার করা হয়। আবার কিছু মিথ আছে এটা নিয়ে।"
বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী বিরল প্রজাতির গাছ হিসেবে রক্ত চন্দন গাছ আমদানি করা নিষিদ্ধ।
বাংলাদেশের বন কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশে রক্ত চন্দনের বাণিজ্যিক ব্যবহার যেহেতু করা হয় না তাই এর দাম এবং এর কতটা চাহিদা আছে সেটা জানা যায় না। আর এই গাছ বিরল প্রজাতির গাছ হিসেবে রেপ্লিকার তৈরির চেষ্টা করছে বন অধিদপ্তর।








