হৃদয় মণ্ডল: 'পূর্বপরিকল্পনার ভিত্তিতে' মুন্সীগঞ্জে বিজ্ঞান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ

ছবির উৎস, Mir Nasiruddin Uzzal
বাংলাদেশের মুন্সীগঞ্জ জেলায় একটি স্কুলের বিজ্ঞান শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ যেভাবে তোলা হয়েছে, এই পুরো ঘটনাটিকে পূর্বপরিকল্পিত বলে ধারণা করছেন স্কুলটির শিক্ষক এবং সেখানকার আইনজীবীদের অনেকে।
তারা বলেছেন, শ্রেণিকক্ষে ঐ শিক্ষকের কাছে ধর্ম ও বিজ্ঞান নিয়ে ছাত্রদের যে ধরনের প্রশ্ন ছিল এবং এরসাথে তার বক্তব্য গোপনে ভিডিও করার ঘটনা আগের প্রস্তুতি ছাড়া করা সম্ভব নয়।
পুলিশ বলেছে, ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এবং অন্য সব প্রশ্নই তদন্ত করা হবে।
আরও পড়ুন:
'পূর্বপরিকল্পিত'
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার থাকা হৃদয় চন্দ্র মণ্ডল মুন্সীগঞ্জ সদরের বিনোদপুর রামকুমার উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞানের শিক্ষক।
সেই স্কুলের একাধিক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক এবং ছাত্রদের কথাবার্তা গোপনে ভিডিও করে তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়।
সেকারণে তারা ঘটনাটিকে পূর্বপরিকল্পিত বলে মনে করেন।
স্কুলটির প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, দশম শ্রেণির ক্লাসে ছাত্র শিক্ষকের প্রশ্ন উত্তরের ঘটনা ঘটে ২০শে মার্চ। কিন্তু তার পরদিন ১০/১২ জন ছাত্র এসে তার কাছে বিজ্ঞান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ করে।
মি: আহমেদ উল্লেখ করেন, ছাত্রদের অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি ঐ শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়ার পাশাপাশি সাময়িকভাবে বরখাস্তও করেন। এরপরও ২২শে মার্চ ঐ শিক্ষকের বাড়িতে আক্রমণ করা হয়।

ছবির উৎস, Mir Nasiruddin Uzzal
প্রধান শিক্ষকের বক্তব্যে ঘটনার যে ধারাবাহিকতা এসেছে, তা পর্যালোচনা করেও অনেকে ঘটনাটিকে পূর্বপরিকল্পিত বলে মনে করছেন।
মুন্সিগঞ্জের আইনজীবী সমিতিও অভিযোগ করেছে, পেছন থেকে কলকাঠি নেড়ে পরিকল্পনা মাফিক পুরো ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে।
এই সমিতির সভাপতি অজয় চক্রবর্তী বলেছেন, আসলে পরিকল্পিতভাবে তাকে (শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডল) হয়রানি করার জন্য এই কাজ করা হয়েছে।
তিনি মনে করেন, আগের পরিকল্পনা ছাড়া শিক্ষকের বক্তব্য গোপনে ভিডিও করা ছাত্রদের পক্ষে সম্ভব ছিল না।
ছাত্রদের প্রশ্নের ধরন নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে
ধর্ম এবং বিজ্ঞান সম্পর্কে ছাত্ররা শিক্ষকের কাছে যে ধরনের প্রশ্ন করেছে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে আইনজীবী অজয় চক্রবর্তীর।
"প্রশ্নগুলোও আগের প্রস্তুতি নিয়ে করা হয়েছে। তারা দেখতে চেয়েছে যে প্রশ্নের জবাব ঐ শিক্ষক কীভাবে দেয়। সেখানে বিভিন্নভাবে জবাব নিয়ে সেটা দিয়েই উস্কে দিল আরকি", বলেন মুন্সীগঞ্জ আইনজীবী সমিতির নেতা।
ঘটনার ব্যাপারে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে।
তবে অনেকে আবার মনে করেন, ধর্ম এবং বিজ্ঞান নিয়ে ছাত্রদের প্রশ্নের জবাবে ঐ শিক্ষকও কিছু বক্তব্য দিয়েছেন, যা নিয়ে অভিযোগ করা বা প্রশ্ন তোলার সুযোগ হয়েছে।
পুলিশ যা বলছে
মুন্সিগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন অবশ্য বলেছেন, সব অভিযোগ বা সব প্রশ্নেরই জবাব খুঁজবে তদন্ত কমিটি।
"ঘটনার ব্যাপারে মামলা হয়েছে। সে মামলার তদন্তে সব বিষয়ই দেখা হবে।"
ঘটনা পূর্ব পরিকল্পিত বলে যে সব অভিযোগ উঠেছে, সে ব্যাপারে তদন্ত করা হবে কিনা-এই প্রশ্নে পুলিশ সুপারের বক্তব্য হচ্ছে, বিভিন্ন অভিযোগ বা প্রশ্ন যা উঠেছে, সেগুলো সবই তদন্ত করা হবে।
এদিকে, গ্রেপ্তার থাকা ঐ শিক্ষকের স্ত্রী ববিতা হালদার বলেছেন, তাদের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
"ভয়ের মধ্যে আছি। আমরা বাসার ছাদে উঠলেই আশে পাশে থেকে অনেকে কটুক্তি করে। আমার ছেলেকেও স্কুলে পাঠাচ্ছি না।"
তবে পুলিশ শিক্ষকের পরিবারের নিরাপত্তাা নিশ্চিত করার কথা বলেছে।
ঐ শিক্ষককে গ্রেপ্তারের পর গত সপ্তাহে স্থানীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালত দুই দফায় তার জামিনের আবেদন নাকচ করেছে।
এখন ১০ই এপ্রিল মামলার শুনানির দিন রয়েছে।
সেদিন তার পক্ষে জামিনের আবেদন করা হবে বলে তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন।




