ইন্টারনেট পর্নোগ্রাফি কি নারীর ওপর সহিংসতা-নিপীড়ন বাড়িয়ে দিচ্ছে?

নারীর প্রতি সহিংসতা

ছবির উৎস, Getty Images

বাংলাদেশে একটি গবেষণা বলছে, ইন্টারনেটে পর্নোগ্রাফি সহজলভ্য হওয়ার কারণে নারীর প্রতি পুরুষের অবমাননাকর দৃষ্টিভঙ্গি এবং সহিংসতা বেড়েছে।

বেসরকারি সংস্থা মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এবং ডি-নেট যৌথভাবে যে গবেষণা পরিচালনা করেছে সেখানে দেখা যাচ্ছে ৩৭ শতাংশ অংশগ্রহণকারী এ মতামত দিয়েছে।

গবেষণার ফলাফলে বলা হয়, ৮৮ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বলেছেন অনলাইনে নারীর প্রতি অবমাননাকর কনটেন্ট বাড়ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে এসব কনটেন্ট তৈরিতে নারীদের ব্যবহার করা হচ্ছে। অংশগ্রহণকারী ৮২ শতাংশ নারী ও পুরুষ মনে করছে সমাজে মেয়েদের প্রতি সহিংস ও নির্যাতনমূলক আচরণ বেড়েছে।

দেশের বিভিন্ন জায়গায় ৫১৮জন নারী ও পুরুষের মধ্যে এই জরিপ পরিচালনা করা হয়।

'তিক্ত অভিজ্ঞতা'

ইন্টারনেটের মাধ্যমে অশ্লীল ছবি, ভিডিও কিংবা নানা ধরণের লিংক অনেকের কাছেই আসে।

ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারী নারীদের সাথে কথা বলেই এ ধরণের অভিযোগ শোনা যায়। এ নিয়ে অনেকেরই তিক্ত অভিজ্ঞতাও আছে।

ঢাকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মমতাজ রহমান মুমু। অনলাইনে পর্নোগ্রাফি নিয়ে তিনি এখন মানসিক হয়রানির শিকার।

বিবিসি বাংলায় সম্পর্কিত খবর:

"আমি কিছুদিন ধরে আমার স্প্যাম বক্সে পাচ্ছি যে একটা অ্যাডাল্ট গ্রুপে আমাকে অ্যাড করা হচ্ছে। আমি যতই লিভ নিচ্ছি, আমাকে বারবার অ্যাড করা হচ্ছে," বলছেন মমতাজ রহমান মুমু।

'নারীকে দেখা হয় সেক্স অবজেক্ট হিসেবে'

গবেষণাটির উদ্যোক্তা মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলছেন, নারীর প্রতি সহিংসতা এবং নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির নানা ধরণে এবং নানা অনেক কারণ আছে, পর্নোগ্রাফির সহজলভ্যতা তার মধ্যে একটি বিষয়।

"পর্নোগ্রাফি দেখে নারীকে মানুষ হিসেবে বিবেচনা না করে সেক্স অবজেক্ট হিসেবে দেখা হয়," বলেন শাহীন আনাম।

নারী

ছবির উৎস, Getty Images

সাধারণ অর্থে পর্নোগ্রাফি বলতে এক সময় যা বোঝাতো, ডিজিটাল মাধ্যমে আবির্ভাবের সাথে সাথে সেটির ধরনও বদলেছে। এসব পর্নোগ্রাফির দর্শকের বেশিরভাগ হচ্ছে পুরুষ।

তবে কনটেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে নারীদেরও ব্যবহার করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন এই গবেষণার নেতৃত্ব দানকারী বেসরকারি সংস্থা দিয়েছেন ডিনেট-এর পরিচালক সিরাজুল হোসেন।

গবেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের সমাজে নারীর প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এবং সহিংসতার প্রবণতা ইন্টারনেট বিস্তারের আগেও ছিল।

তবে অনলাইনে পর্নোগ্রাফি সহজলভ্য হাবার কারণে সে প্রবণতাগুলো আরো জোরালো হচ্ছে।

গবেষণায় সুপারিশ করা হয়েছে, এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে পর্নোগ্রাফির বিষয়টিকে শুধু নৈতিকতার দৃষ্টিতে দেখলে হবে না, এটি যে বড় একটি সামাজিক ক্ষতি করছে বিষয়টিকে সেভাবে দেখতে হবে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

বিবিসি বাংলায় আজকের আরো খবর: