নীলফামারীতে বৈদ্যুতিক তারের ফাঁদে আটকা পড়ে চিতাবাঘের মৃত্যু

ছবির উৎস, Mohammad Zakir Hossain
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা নীলফামারী সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ এলাকায় ফাঁদে পড়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে একটি চিতাবাঘ মারা গেছে। তবে আরেকটি চিতাবাঘ পার্শ্ববর্তী ভুট্টা ক্ষেতে লুকিয়ে আছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন নাহার বিবিসিকে বলছেন বন বিভাগ থেকে তাদেরকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে মৃত প্রাণীটি একটি চিতাবাঘ।
"সবাই দেখেছে এবং বন বিভাগ থেকেও নিশ্চিত করেছে যে এটি চিতাবাঘ। বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা গেছে," বলছিলেন তিনি।
স্থানীয় একজন সাংবাদিক জাকির হোসেন ঘটনাস্থল থেকেই বিবিসি বাংলাকে জানান যে এটি নীলফামারীর সুপরিচিত নীলসাগর এলাকার কাছেই ভবানীগঞ্জ এলাকা যেখানে আজ ভোরে আহত অবস্থায় বাঘটিকে দেখতে পায় স্থানীয় এক ব্যক্তি আব্দুর রহিম।
মিস্টার হোসেন বলেন সেখানে একটি মুরগীর খামার আছে এবং সেই খামারে শিয়াল ঢোকা ঠেকাতে চার পাশে তারের বেড়া দিয়ে তাতে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে রাখা হয়েছিলো।
বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:

ছবির উৎস, Mohammad Zakir Hossain
আব্দুর রহিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন ভোর চারটার দিক শব্দ শুনে তিনি খামারের দিকে আসেন টর্চ হাতে এবং গোঙ্গানির শব্দ শুনতে পান।
"টর্চ মেরে দেখি একটি বাঘ ভুট্টা ক্ষেতের দিকে যাচ্ছে আবার বেড়ার দিকে আসছে। পরে যেখান থেকে শব্দ আসছিলো সেদিকে গিয়ে তাকিয়ে দেখি- এটা তো কোনদিন দেখিনি। পরে আরেকজন বললো এটা তো বাঘ"।
এদিকে ভোর নাগাদ এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বহু মানুষ ভিড় করে সেখানে।
পরে সেটিকে রশি দিয়ে বেঁধে বাঁশের সাথে ঝুলিয়ে রাখে তারা।
জাকির হোসেন বলছেন যে বিদ্যুতায়িত হওয়ার পর চিতাবাঘটি ধীরে ধীরে মৃত্যুবরণ করে।

ছবির উৎস, Mohammad Zakir Hossain
স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা যাওয়ার পর লোকজন মৃত বাঘটিকে তাদের কাছে হস্তান্তর করে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলছেন আরেকটি চিতাবাঘ যেহেতু স্থানীয়রা দেখেছেন সে কারণে রংপুর থেকে বন বিভাগের বিশেষজ্ঞরা এসে পরবর্তী পদক্ষেপ নিবেন।
তবে স্থানীয়রা বলছেন এর আগে তারা চিতাবাঘ বা এ ধরণের প্রাণী ওই এলাকায় কখনো দেখেননি।
আব্দুর রহিম স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেছেন খামার থেকে আগে শিয়াল মুরগী নিয়ে গেছে কয়েকবার। সেটি ঠেকাতেই গুনা (এক ধরনের লোহার তার)দিয়ে চারপাশে বেড়া দিয়েছেন তারা।
কিন্তু সেখানে বাঘ আটকে পড়বে সেটি তারা ধারণাই করতে পারেননি বলে জানান তিনি।
নীলফামারী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মোনাক্কা আলী বলেছেন এ বিষয়ে তারা পরে বিস্তারিত জানাবেন।








