চকরিয়া দুর্ঘটনা: এতোগুলো মৃত্যুর শোক কীভাবে সামলাচ্ছে ওই পরিবার

চিতা

ছবির উৎস, Ajith Das

ছবির ক্যাপশান, স্থানীয় শ্মশান ঘাটে ৮ই ফেব্রুয়ারি একসাথে পাঁচ ভাইয়ের মরদেহ দাহ করা হয়

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় যে সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচ ভাই নিহত হয়েছিলেন, সেই ঘটনায় আহত ৬ষ্ঠ ভাইও আজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

গত ৮ই ফেব্রুয়ারি সকালে মৃত বাবার শ্রাদ্ধের প্রস্তুতি শেষে ফেরার পথে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা সাত ভাই ও দুই বোন এই দুর্ঘটনার শিকার হন।

রক্তিম শীলের মৃত্যু

গত ৮ই ফেব্রুয়ারি সকালে মৃত বাবার শ্রাদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে পূজা করে ফেরার পথে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলেন সাত ভাই ও দুই বোন।

এ সময় তাদেরকে চাপা দেয় সবজি বহনকারী একটি পিক-আপ। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান চার ভাই।

পিক-আপ চাপা দেয়ার পর গুরুতর অবস্থায় দুই ভাইকে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে পাঠানো হয়।

কিন্তু চার ভাইয়ের মরদেহ দাহ শেষ হওয়ার আগে হাসপাতালে পাঠানো আহত এক ভাইয়ের মৃত্যুর খবর আসে।

ভাঙা কাঁচ

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতি বছর বহু পথচারী মারা যান

ওইদিন অর্থাৎ ৮ই ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় এক সাথে পাঁচ ভাইয়ের মরদেহ দাহ করা হয়।

এই পরিবারটির আত্মীয় লিটন শর্মা বলেন, গুরুতর আহত আরেক ভাই রক্তিম শীলকে প্রথমে চট্টগ্রামের একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছিল।

সেখান থেকে তাকে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের নেওয়া হয়।

সর্বশেষ গত ১৩ই ফেব্রুয়ারি তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।

তার মাথা, হাত, পা এবং পাঁজরে গুরুতর জখম ছিল।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনার পর তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল।

কিন্তু চিকিৎসায় সাড়া না দেয়ায় মঙ্গলবার সকালে লাইফ সাপোর্ট খুলে নেওয়া হয়, এবং সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

শোক কীভাবে সামলাচ্ছে এই পরিবার

অত্যন্ত মর্মস্পর্শী এই ঘটনায় ভীষণভাবে ভেঙে পড়েছেন পরিবারের বেঁচে থাকা সদস্যরা।

মারা যাওয়া ভাইদের পিসতুতো ভাই লিটন শর্মার সঙ্গে কথা বলেছে বিবিসি। তিনি যখন কথা বলেন, তখন তিনি স্থানীয় শ্মশানে ছিলেন।

রক্তিম শীলের মরদেহ দাহ করার প্রস্তুতির কাজটি তিনি তদারক করছিলেন।

এই কাজটি সুষ্ঠুভাবে করার মত একজন মানুষও এই মূহুর্তে শোকসন্তপ্ত পরিবারটিতে নেই বলে তিনি জানান।

মি শর্মা বলেন, এতগুলো মৃত্যুর শোক এই পরিবারের বেঁচে থাকা সদস্যরা সামলে উঠতে পারছেন না।

স্বামী হারানোর কয়েকদিনের মধ্যে এক সঙ্গে ছয়জন সন্তান হারানোর শোকে নির্বাক হয়ে গেছেন তাদের মা।

মি. শর্মা জানিয়েছেন, রক্তিম শীলরা ছিলেন আট ভাই দুই বোন। এর মধ্যে ২০১৯ সালে এক ভাইয়ের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।

রক্তিম শীলের মৃত্যুর পর এই দুর্ঘটনায় মোট ৬ ভাইয়ের মৃত্যু হল।

মহাসড়ক

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশে মহাসড়কে দুর্ঘটনায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনায় আহত একজন বোন কক্সবাজারের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

আজ সকালে তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন।

এখন এই পরিবারের একমাত্র বেঁচে থাকা ছেলে প্লাবন শীল। এ বছরই এইচএসসি পাস করা প্লাবন এই পরিবারের ছোট ছেলে।

ওই দুর্ঘটনায় তিনিও আহত হয়েছিলেন, কিন্তু গুরুতর শারীরিক আঘাত ছিল না তার।

কিন্তু চোখের সামনে এত বড় দুর্ঘটনা প্রত্যক্ষ করায় তিনি প্রচণ্ড মানসিক আঘাত পেয়েছেন।

মি. শর্মা বলেছেন, প্লাবন এখন উন্মাদপ্রায় আচরণ করছেন।

তিনি চিনতে পারছেন না কাউকেই। সাথে রাস্তায় গাড়ি দেখলে কিংবা শব্দ পেলে চিৎকার করে উঠছেন উচ্চ স্বরে।

এছাড়া যে ভাইয়েরা মারা গেছেন তাদের স্ত্রী ও সন্তানেরাও প্রবল শোকে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন মি শর্মা।

বিবিসি বাংলায় অন্যান্য খবর: