শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক পাঁচ জন শিক্ষার্থীকে আন্দোলনে অর্থ সহায়তার অভিযোগে আটক

ছবির উৎস, ARIFUL HASAN SHUVO
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির পদত্যাগের জন্য যে আন্দোলন হচ্ছে সেখানে অর্থ সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে পাঁচ জনকে আটক করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি।
মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার নিশারুল আরিফ বিবিসিকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আটককৃতদের সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের জালালাবাদ থানায় হস্তান্তর করা হবে।
আন্দোলনে অর্থ সহায়তা করা অপরাধের মধ্যে পড়ে কিনা, এমন প্রশ্নে মি. আরিফ বলেন "এর মধ্যে ইনসাইড কোন স্টোরি আছে কিনা সেটা আমরা তদন্ত করে দেখবো। এখানে সহায়তাকারী যারা থাকে- আইনে তো আছে- অনেকে কাছে থাকে না, (কিন্তু) অপরাধ সংগঠন যখন হয় তখন তাদেরকে সহায়তা করে বিভিন্নভাবে। তাহলে তারাও আওতার (অপরাধের) মধ্যে চলে আসে। অর্থ দিয়ে সহায়তা করে যদি কেউ অনিষ্ট ঘটায় সেক্ষেত্রে তো তারাও আসামী হয়।"
মি. আরিফ বলেন, "তারা কিসের জন্য টাকা দিচ্ছে সেটা তো আমরা এখনি বলতে পারবো না। খাবারের জন্য যে দিচ্ছে সেটা তো বলা যাচ্ছে না। জঙ্গিরাও তো অর্থ সংগ্রহ করে, বিভিন্নভাবে সেগুলো নিয়ে কাজ হয়েছে অতীতে। এখন কিসের জন্য দিচ্ছে, এটা নিয়ে তারা কী করবে এখনি বলা যাচ্ছে না। এখানে আসলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
আরও পড়তে পারেন:

ছবির উৎস, ARIFUL HASAN SHUVO
আটককৃতদের পরিবার যা বলছে
এর আগে, সোমবার (২৪ জানুয়ারি) রাজধানীর উত্তরা ও ফার্মগেট এলাকা থেকে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক তিন জন শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করে তাদের পরিবার। কিন্ত আজ পুলিশ পাঁচজনকে আটক করার কথা নিশ্চিত করেছে।
যাদের আটক করা হয়েছে তাদের মধ্যে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র রেজা নূর মুঈন। তিনি স্থাপত্য বিভাগের প্রাক্তন ছাত্র।
তার স্ত্রী তাকরিম বিবিসিকে বলেন, গতকাল রাতে উত্তরা থেকে তার স্বামীকে সিআইডি পরিচয়ে কয়েকজন নিয়ে যায়। তিনি বলেন তারা দুজনই ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী।
তিনি বলেন " আমার স্বামী এমন একটা মানুষ তাকে যদি কেউ বলে আমি অসুবিধায় আছি, আমাকে টাকা ধার দাও সে দেবে। এটা সবাই জানে। সে যেটা করেছে আবেগ থেকে করেছে।"
"আমরা সাবেক স্টুডেন্ট। আমাদের একটা আবেগ থেকে মনে হয়েছে তারা খেতে পারছে না এটা ভেবেই করেছি। কিন্তু কেন এত হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বুঝতে পারছি না। আমার মনে হয় একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। আমরা কোন অপরাধ করিনি, এখন আমাদের কী করা উচিত সেটাই বুঝতে পারছি না," বলছেন তাকরিম।
তিনি জানান যে, এখন তিনি সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন।

ছবির উৎস, ARIFUL HASAN SHUVO
শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে যা ঘটেছে
সাতদিন ধরে আমরণ অনশন করছেন আন্দোলনকারীদের একাংশ। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় আমরণ অনশনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ছাত্রীদের একটি আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের সাথে প্রভোস্টের দুর্ব্যবহার এবং হলে বিছানা সংকট ও খাওয়ার সমস্যা সমাধানের দাবিতে দিন দশেক আগে শুধু ওই হলের ছাত্রীদের যে আন্দোলন শুরু হয় তা দুদিনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগের দাবিতে রূপ নেয়।
ক্যাম্পাসে অবস্থান নেয়া ছাত্রীদের উপর ছাত্রলীগ কর্মীদের হামলার অভিযোগ ওঠে।
গত ১৬ইজানুয়ারি শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশের বেধড়ক পিটুনি, কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ, সাউন্ড গ্রেনেড বিস্ফোরণ ও গুলির ঘটনা ঘটার পর থেকে আন্দোলন জোরালো রূপ নেয়। উত্তাল হয়ে ওঠে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি।
আন্দোলন সামাল দিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করে এবং শিক্ষার্থীদের আবাসিক হলগুলো ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। সেটিও মেনে নেয়নি শিক্ষার্থীরা।
এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যসহ বেশ কয়েকজনকে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরবর্তীতে উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়।
তবে উপাচার্যের পদত্যাগ চেয়ে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে 'অযৌক্তিক' বর্ণনা করে বাংলাদেশের শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেছেন, এমন দাবি সম্পর্কে রাষ্ট্রের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব নয়।








