এডিটার'স মেইলবক্স: রাইমা শিমু হত্যাকাণ্ড, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অসন্তোষ আর চাকরির বয়স নিয়ে প্রশ্ন

    • Author, সাবির মুস্তাফা
    • Role, সম্পাদক, বিবিসি নিউজ বাংলা

বাংলাদেশে পুনরায় ক্যাম্পাসে অসন্তোষ দেখা দিচ্ছে। একই সময়ে চাকরি নিয়ে নতুন এক আন্দোলন দানা বাঁধছে বলে মনে হচ্ছে। একজন অভিনেত্রীর হত্যাকাণ্ডও মানুষকে বেশ ভাবিয়ে তুলেছে।

অভিনেত্রী রাইমা ইসলাম শিমু হত্যাকাণ্ড নিয়ে লিখেছেন ঠাকুরগাঁও এর বালিয়াডাঙ্গী থেকে রিপন চন্দ্র সিংহ:

''গত ১৮ই জানুয়ারি প্রবাহ অনুষ্ঠানে অভিনেত্রী রাইমা ইসলাম শিমু খণ্ডিত মৃতদেহ বস্তাবন্দী অবস্থায় পাওয়ার খবরটি শুনে গা শিউরে উঠেছিল।

''আঠারো বছর আগে যারা প্রেম করে বিয়ে করে সন্তানদের সাথে সংসার করছিল, যাদের দাম্পত্য জীবনের কোন কলহের কথা আত্মীয়রা জানতেন না।

''মানুষ কিভাবে এমনটা করতে পারে? কী পরিমাণ মস্তিষ্ক বিকৃত হলে এক মানুষ আরেক মানুষকে খণ্ডিত করতে পারে? বাংলাদেশেও এমনটা হয় ভাবতেও পারছি না।''

একই বিষয় লিখেছেন গোপালগঞ্জের ঘোড়াদাইর থেকে ফয়সাল আহমেদ সিপন:

''অভিনেত্রী শিমুর লাশ নিয়ে দিনভর ঘোরেন খুনী স্বামী। কতটা ভয়ংকর ব্যাপার। প্রতিনিয়ত এই ধরনের খবর শুনতে হচ্ছে। দাম্পত্য কলহ মাত্রাধিক বেড়েছে । কথায় কথায় মানুষ মেরে ফেলার ঘটনা সত্যি উদ্বেগের কারণ। বিচার ব্যবস্থা বহুদিন ধরেই প্রশ্নবিদ্ধ। খুন করার প্রবণতা বাড়ার কারণ বের করা জরুরি।''

ঘটনাটা অবশ্যই ভয়াবহ মিঃ সিংহ এবং মিঃ আহমেদ। তবে এরকম নৃশংস হত্যাকাণ্ড কে, কেন করেছে তা এখনো পরিষ্কার না। পুলিশ যদিও বলেছে অভিনেত্রীর স্বামী হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন, কিন্তু তারপরও বলবো তদন্ত শেষ হলে তবে বোঝা যাবে কে, কেন কীভাবে এ'কাজ করেছে।

যে কোন হত্যাকাণ্ডের বিচার তো করতেই হবে, কিন্তু এ'ধরনের নির্মমতা সমাজ থেকে পুরোপুরি দূর করা যাবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ থাকবেই। নৃশংসতা মনে হয় মানব জাতির রক্তে মিশে আছে, সুযোগ পেলেই সেটা মাথা চাড়া দিয়ে প্রকাশ পায়।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অসন্তোষ

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অসন্তোষ নিয়ে একটি চিঠি, যেখানে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করছে। লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:

''শুরুতে বিষয়টিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গুরুত্ব দিলে ঘটনা এতদূর নিশ্চয়ই গড়াতো না। ছাত্রীদের হলের সমস্যাগুলো খতিয়ে দেখে সেগুলো সমাধানের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিৎ ছিল।

''কিন্তু তার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশের হামলা মোটেই কাঙ্ক্ষিত ছিল না। পুলিশের হামলার কারণেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে বলেই মনে করছেন অনেকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ধরনের পরিবেশ আমরা মোটেই প্রত্যাশা করি না।''

সব কিছু দেখে মনে হচ্ছে ঘটনা শুরু হয়েছিল ছাত্রীদের হলের সমস্যা নিয়ে। কিন্তু ছাত্রীদের দাবী-দাওয়া মেনে নেয়া হলেও, বিক্ষোভে ছাত্রদের অংশগ্রহণ, তাদের ওপর হামলা, উপাচার্যের কার্যালয় ঘেরাও এবং ক্যাম্পাসে পুলিশের এ্যাকশন- সব কিছুতে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে। এখন মাথা ঠাণ্ডা রেখে কাজ করাই সমাধানের কার্যকরী পথ হবে।

একই বিষয়ে লিখেছেন বগুড়ার শেরপুর থেকে সম্পদ কুমার পোদ্দার:

''আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা যেতো, যা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ হতো। তা না করে কেন কাপুরুষোচিত সশস্ত্র হামলা চালানো হলো? কেন প্রশাসন তাঁদের উপর মিথ্যে দোষারোপ করছে?

''বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো ক্যাম্পাস সিসি ক্যামেরার আওতাভুক্ত। যদি সত্যি তাঁরা কিছু করে থাকে তাহলে সিসি ক্যামেরা ফুটেজ দেখে দেখে তাদের শনাক্ত করা হোক। আমি এই পুলিশের হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি করছি।

''সেইসাথে হামলার সাথে জড়িত পুলিশ প্রশাসনের সদস্য ও অন্যান্য দোষীদের বিচারের দাবি করছি।''

আপনার মতো অনেক ছাত্র-ছাত্রীও যে ক্ষুব্ধ হয়ে আছেন তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই মিঃ পোদ্দার। তবে এই ঘটনায় জড়িতদের বিচারের সম্ভাবনা কতটুকু আছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। তবে সব জটিলতার শান্তিপূর্ণ সমাধান হোক, সেটাই সবার কাম্য।

বাংলাদেশের আরেকটি জটিলতা হচ্ছে সরকারি চাকরি। এক সময় সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলন হয়েছে। সেই আন্দোলনের সফল নেতা এখন জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতায় পরিণত হয়েছেন।

সরকারি চাকরির বয়স কেন?

এখন চলছে সরকারি চাকরিতে বয়স-সীমার বিরুদ্ধে আন্দোলন। সে বিষয়ে লিখেছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে মেনহাজুল ইসলাম তারেক:

''মানব সম্পদকে বয়সের ফ্রেমে আটকিয়ে রাখা কখনই কাম্য নয়। বিশ্বের উন্নত দেশের সাথে তাল মিলিয়ে চাকুরিতে প্রবেশের বয়স অবশ্যই বাড়াতে হবে। চাকরিতে কোন বয়স-সীমাই থাকা উচিত নয়।

''বাংলাদেশের আমলারা মনে করে, বয়স-সীমা বাড়ালে বেকারত্ব বাড়বে, যা নিতান্তই অমূলক। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, এমপি, চেয়ারম্যান, মেম্বার যদি ৬০ বছর বয়সেও জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হতে পারেন, তাহলে সাধারণ মানুষের জন্য এমন আইন কেন?

''একই দেশে কখনও দুই ধরনের আইন থাকতে পারে না।''

এক দিক থেকে আপনি ঠিকই বলেছেন মিঃ ইসলাম, এক দেশে কেন দু'রকম আইন থাকবে। কিন্তু সরকারি চাকরিতে বয়স-সীমার নিশ্চয়ই কোন কারণ আছে। এক দিকে যেমন চাকরিতে ঢোকার জন্য বয়স-সীমা অন্যদিকে অবসরের জন্যও বয়স বেঁধে দেয়া আছে, যেটা প্রাইভেট সেক্টরে সর্বত্র নেই।

তবে এই আন্দোলনের ফলে সরকার বয়স-সীমা বাড়াবে কি না, তা দেখার বিষয়।

ইভ্যালি গ্রাহকদের কী হবে?

বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি নিয়ে একটি চিঠি লিখেছেন ঝিনাইদহ থেকে কাজী সাঈদ:

''আদালতের ঠিক করে দেওয়া ইভ্যালির পরিচালনা পর্ষদ তিন মাস পর এসেও নাকি এখনো প্রতিষ্ঠানটির দায়-দেনা আর সম্পদের হিসেব নিকেশই শেষ করতে পারেনি। কোন আয় না থাকলেও বিভিন্ন খরচ মেটাতে তাদের গাড়ি, কম্পিউটারসহ অন্যান্য সম্পদও বিক্রি করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

''তাহলে লাভটা কী? কোম্পানির কোথায় কী আছে এটা তো মালিকপক্ষ ভাল জানেন, তাদেরকে কেন সাথে নিয়ে কাজ করা হচ্ছেনা? কোম্পানি বন্ধ করে দিয়ে যদি গ্রাহকের টাকা পাওয়া না যায় তাহলে বন্ধ করাটা কতটা যুক্তিসঙ্গত? মাথায় ব্যথা হলে মাথা কেটে না ফেলে ওষুধ খাওয়াটা যুক্তিসংগত নয় কি?''

প্রশ্ন হচ্ছে মিঃ সাঈদ, গ্রাহকের টাকা ফেরত পাবার জন্যই কি ইভ্যালি বন্ধ হয়েছিল? আর কোম্পানির সব কিছু বিক্রি করে দিয়েও যে গ্রাহকের টাকা ফেরত দেবার মত অর্থ জোগাড় করা যাবে, তাও তো নিশ্চিত না।

ইভ্যালি থেকে যাই আরেকটি জটিল বিষয়ে, আর তা হল নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে আলাপচারতিা।

নির্বাচন কমিশন কি স্বাধীন?

কমিশন গঠন সম্পর্কিত একটি আইনের খসড়া সম্প্রতি বাংলাদেশের মন্ত্রী পরিষদে অনুমোদন পেয়েছে এবং সে বিষয়ে লিখেছেন রংপুরের লালবাগ থেকে মোহাম্মদ মহসীন আলী:

''প্রস্তাবিত খসড়ায় যা বলা হয়েছে তাতে পুরনো সার্চ কমিটি গঠনের নীতিমালার বাইরে কিছু নাই। যখন রাজনৈতিক বিবেচনায় পদ পদবী পাওয়া লোকজন কমিশনার হিসেবে শপথ নেন, তখন তাদের পক্ষে নিরপেক্ষ হওয়া কতটা সম্ভব?

''ক্ষমতাসীন দলের সাথে কোন এক সময় সংশ্লিষ্টতা কখনো ছিল না, এরকম সেক্টরের কোন লোক এযাবতকালে নির্বাচন কমিশনের সদস্য হয়েছে বলে জানা নাই। কাজেই নির্বাচন কমিশন ইতোপূর্বে যেভাবে গঠিত হয়েছে এবারও তাই হবে, এটাই স্বাভাবিক।

''রাজনৈতিক দলের নেতাদের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন কখনই সম্ভব নয়। কাজেই নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের খবরের পাশাপাশি হুদা কমিশনের বিগত পাঁচ বছরের সফলতা ব্যর্থতার উপর বিশেষ প্রতিবেদন প্রচারের প্রস্তাব করছি।''

আসল প্রশ্ন হচ্ছে মিঃ আলী, নির্বাচন কমিশন কি বাংলাদেশে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে? যদি না পারে - এবং সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা আমাদের সেটাই বলে - তাহলে কোন আইনে, কোন সার্চ কমিটির সুপারিশে, কাকে নিয়ে গঠন করা হল, এসব অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যায় না?

নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, তাদের কার্যক্রমে সরকারের হস্তক্ষেপ করার কথা নয়। কিন্তু বাস্তবতা কি তাই বলে? যদি তাই বলতো, তাহলে বাংলাদেশের মানুষ কেন নির্বাচন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে?

নারায়ণগঞ্জ কি ভবিষ্যতের পথ দেখাচ্ছে?

নির্বাচনের বিষয়েই থাকি। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:

''গণমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে নির্বাচন অনেকটা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে। অনেকে বলছেন এ নির্বাচন আগামী জাতীয় নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়ার ইঙ্গিত বহন করে, আবার অনেকে বলছেন এ নির্বাচন বিএনপিসহ বিরোধীদের নির্বাচনে আনার সরকারের একটি নতুন কৌশল। আমার প্রশ্ন কোনটি সত্য? এ নির্বাচন কি সত্যিই আগামী নির্বাচনের কোন আগাম বার্তা বহন করে?''

শুধু একটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন দিয়ে আগামী দিনের জাতীয় নির্বাচন সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে বলে আমার মনে হয় না মিঃ রহমান।

নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী যে জয়ী হবেন তা নিয়ে সবাই একমত ছিলেন, কারণ তার জনপ্রিয়তা নিয়ে কোন প্রশ্ন নেই। কিন্তু আগামী জাতীয় নির্বাচন কীভাবে হবে, তার ইঙ্গিত পেতে হলে আমাদের হয়তো ঢাকা বা চট্টগ্রামে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

বিবিসির ভ্রান্তি

পরের চিঠি নির্বাচনের পরিচালনা নয়, বরং নারায়ণগঞ্জ নির্বাচনের ফলাফল প্রচারে বিবিসির পরিবেশনা নিয়ে লিখেছেন সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে গাজী মোমিন উদ্দিন:

''আমি অবাক হলাম এই নির্বাচনের ফলাফলের ওপর ওয়েবসাইটে দেওয়া খবরটিতে। সেখানে বিজয়ী প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধান, প্রাপ্ত ভোট ও বিজিত প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা কোনটি ঠিক নেই।

''প্রিয় বিবিসি বাংলা তাদের পক্ষে যে উত্তরই দিক সেটি গ্রহণযোগ্য হবে না, কারণ আমি নিউজটি দেখেছি ফলাফল ঘোষণার বহু সময় পরে। এই ভ্রান্তি সংশোধনে অলসতা কেন?''

আমাকে বেশ বিপদেই ফেলেছেন মিঃ মোমিন উদ্দিন। আমার উত্তর আপনার গ্রহণযোগ্য হবে না, তা ঠিক আছে। কিন্তু আমি তো উত্তর দেবার সুযোগই পাচ্ছি না।

আপনি অভিযোগ করেছেন, আমাদের ওয়েবসাইটে ভোটের ব্যবধান, প্রাপ্ত ভোট ইত্যাদি সঠিক ছিল না। কিন্তু আপনি কখন ওয়েবসাইট দেখেছিলেন, ওয়েবসাইটে কী পরিসংখ্যান দেয়া ছিল আর সঠিক পরিসংখ্যান কী ছিল বা সেটা কোথায় দেখেছেন, তা কিছুই বলেন নি।

এগুলো না জানলে তো আমার পক্ষে উত্তর দেয়া সম্ভব না।

শর্টওয়েভ বিভ্রাট

বিবিসি সম্পর্কিত আর দুটি চিঠি দিয়ে শেষ করছি। প্রথমে আমাদের সম্প্রচার নিয়ে একটি অভিযোগ, লিখেছেন কুড়িগ্রামের রাজবপুর থেকে মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সোহেল:

''আমি নিয়মিত শর্টওয়েভে বিবিসি বাংলার অনুষ্ঠান শুনি। কিন্তু বেশ কিছুদিন থেকে লক্ষ্য করছি অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার আগেই সেন্টার বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।

''যেমন, গত ১৪ই জানুয়ারি শুক্রবার রাত ৮টা বাজতেই সেন্টার বন্ধ করা হলো। আমি ৯৯০০ কিলোহার্টজে শুনছিলাম। কিন্তু সেসময় সর্বশেষ শিরোনাম বলছিলেন। প্রথম শিরোনাম বলার পর যখনই ইউক্রেনে.... বললেন আর সেন্টা বন্ধ হয়ে গেল! কাজেই শিরোনামের বাকি কথাগুলো শুনতে পারিনি।

''কেন এমন হচ্ছে? আপনাদের বেঁধে দেওয়া সময়ের চেয়ে বেশি সময় নিচ্ছেন নাতো?''

না মিঃ ইসলাম, আমাদের অনুষ্ঠানের উপস্থাপক নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি নিচ্ছেন না। তারা সবাই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং অভিজ্ঞ। তারা অনুষ্ঠান শুধু মিনিট নয়, সেকেন্ড গুনে পরিচালনা করেন।

অঘটন যে ঘটে না তা বলবো না। তবে যে ধরনের অঘটনের কথা আপনি বলছেন, তা খুবই বিরল। আপনার কথা শুনে মনে হচ্ছে, বিভ্রাটটা হচ্ছে শর্টওয়েভ সম্প্রচারে।

বিবিসির জন্য ট্যাক্স

সম্প্রচার থেকে আসি টাকা পয়সার বিষয়ে। বিবিসির অর্থায়নের সাথে বাংলাদেশের মানুষের একটি নেতিবাচক তুলনা করে লিখেছেন সাতক্ষীরার তালা থেকে দিপায়ন মণ্ডল:

''বিবিসি বাংলা চলে ব্রিটেনের নাগরিকদের টেলিভিশনের লাইসেন্স ফি'র টাকায়। এই তথ্যটি শোনার পর ব্রিটিশ নাগরিকদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ বেড়ে গেল। অথচ হতভাগ্য আমরা বাংলাদেশি নাগরিক যারা সরকারের ট্যাক্স, খাজনা পর্যন্ত দিতে চাই না, দিলেও ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করি।

''নাগরিক অধিকার পুরোপুরি পাওয়ার জন্য ব্যাকুল, কিন্তু সরকারি পে যেগুলি তা দিতে চাই না। আমরা কবে সচেতন হব?''

আপনার প্রথম কথার সাথে আমি একমত মিঃ মণ্ডল, যে ব্রিটিশ জনগোষ্ঠীর বৃহৎ অংশ সানন্দে বিবিসির অর্থায়নের জন্য লাইসেন্স ফি দিয়ে এসেছেন। তবে ব্রিটেনের বর্তমান সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা ২০২৭ সালে এই লাইসেন্স ফি বাতিল করবে। পাঁচ বছর পর বিবিসির অর্থায়ন কীভাবে হবে, তা নিয়ে কাজ এখন থেকেই শুরু হয়ে যাবে।

কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:

মুহাম্মদ আব্দুল হাকিম মিঞা, ভোলাহাট, চাঁপাই নবাবগঞ্জ।

রহমত আলি মোড়ল, তালা, সাতক্ষীরা।

ইব্রাহিম হোসেন, দৌলতপুর, খুলনা।

দীপক চক্রবর্তী, দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড়।

এহসান আহমেদ সাবির, সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়।

ঝুমুর সুলতানা, ডুমুরিয়া, খুলনা।

শামীম উদ্দিন শ্যামল, ধানমন্ডি, ঢাকা।

শামীমা আক্তার লিপি, তালা, সাতক্ষীরা।