ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে লঞ্চে আগুনের ঘটনায় অভিযান-১০ এর মালিকদের একজন গ্রেপ্তার, জানিয়েছে র‍্যাব

পুড়ে যাওয়া লঞ্চ

ছবির উৎস, Akkas Shikdar

ছবির ক্যাপশান, পুরো লঞ্চে আগুন ছড়িয়ে পড়লে বহু যাত্রী জীবন বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ দেন। বেশ কিছু যাত্রীর সন্ধান এখনো মেলেনি বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন বা র‍্যাব বরগুনাগামী অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এটির অন্যতম মালিক মোহাম্মদ হামজালাল শেখকে গ্রেপ্তার করেছে।

সোমবার ভোরে ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন র‍্যাবের মুখপাত্র কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

রবিবার নৌপরিবহন অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা ঢাকার নৌ-আদালতে যে মামলা করেছিলেন, তাতে লঞ্চের চার মালিকসহ আটজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল।

গত সপ্তাহে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে থাকার সময় যাত্রীবোঝাই ওই লঞ্চটিতে আগুন লাগে এবং এতে কমক্ষে ৩৮ জনের মৃত্যু ঘটে। বেশিরভাগ মানুষ এতটা পুড়ে যায় যে তাদের মরদেহ চিহ্নিত করা যায়নি।

অভিযান-১০ লঞ্চের চারজন মালিকের মধ্যে হামজালাল শেখের ৫০ শতাংশের মালিকানা রয়েছে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

র‍্যাবের কর্মকর্তারা বলেছেন, মামলায় উল্লেখ করা বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে তারা অভিযান চালাচ্ছেন।

নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মামলায় বলা হয়েছে, লঞ্চটিতে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র, বয়া ও বালুর বাক্স ছিল না, এবং এটি অননুমোদিত লোকবল দিয়ে পরিচালনা করা হচ্ছিল।

ভিডিওর ক্যাপশান, ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে লঞ্চে ভয়াবহ আগুনের দৃশ্য

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকার সদরঘাট থেকে ছেড়ে রাতে বরিশাল হয়ে বরগুনার উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে অবস্থানের সময় রাত তিনটা নাগাদ লঞ্চটিতে আগুন ধরে যায়।

পুরো লঞ্চে আগুন ছড়িয়ে পড়লে বহু যাত্রী জীবন বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ দেন। বেশ কিছু যাত্রীর সন্ধান এখনও মেলেনি বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

আগুনে পুড়ে এবং নদীতে ডুবে ৩৮ জনের মৃত্যু হয়। আহত অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন লঞ্চের আরও অন্তত ৭০ যাত্রী জন।

একই ঘটনায় বরগুনার আদালতে হামজালাল শেখকে প্রধান আসামি করে এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে আলাদা একটি মামলা হয়েছে। আদালত সংশ্লিষ্ট থানাকে মামলাটি এজাহার হিসাবে গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে।

বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর: