আবরার ফাহাদ: বুয়েট ছাত্র হত্যা মামলায় ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড, পাঁচজনের যাবজ্জীবন

ফেসবুকে প্রকাশ করা আবরার ফাহাদের একটি সেলফি

ছবির উৎস, ABRAR FAHAD/FACEBOOK

ছবির ক্যাপশান, ফেসবুকে প্রকাশ করা আবরার ফাহাদের একটি সেলফি

বাংলাদেশের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা মামলার রায়ে ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

এছাড়া পাঁচজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবু আব্দুল্লাহ ভূঁইয়া বিবিসি বাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এই মামলায় মোট ২৫ জন আসামি ছিল।

মামলায় অভিযুক্ত ২২ আসামী কারাগারে রয়েছেন, তিনজন পলাতক।

রায়ের প্রতিক্রিয়া আবরার ফাহাদের মা রোকেয়া খাতুন বলেছেন, এই রায়ে তারা সন্তুষ্ট, তবে যে পাঁচজনের যাবজ্জীবনের হয়েছে, তাদেরও মৃত্যুদণ্ড চান তারা।

যাদের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে, তাদের রায় দ্রুত কার্যকরের জন্য পরের ধাপগুলোও দ্রুত এগোবে বলে আশাবাদ জানান মিসেস খাতুন।

ব্যানারে মন্তব্য লিখছেন একজন বুয়েটের শিক্ষার্থী
ছবির ক্যাপশান, জাস্টিস ফর আবরার লেখা একটি ব্যানারে নানা মন্তব্য লিখছেন একজন বুয়েটের শিক্ষার্থী

আসামীদের বিরুদ্ধে মোট তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে, ৩০২ ধারায় নরহত্যা, ৩০২ এর ৩৪ ধারা অনুযায়ী হত্যার পূর্ব-পরিকল্পনা এবং ১০৯ ও১১৪ ধারায় হত্যায় অংশগ্রহণের অভিযোগ গঠন করা হয়।

এসব অভিযোগে বলা হয়, তারা পরস্পর যোগসাজশে 'শিবির সন্দেহে' আবরার ফাহাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট এবং ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে।

২০২১ সালের আটই সেপ্টেম্বর এই মামলার অভিযোগে কিছু ভুল সংশোধন করে অভিযোগ পুনর্গঠন করা হয়েছে।

তখন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবু আবদুল্লাহ ভুঁইয়া বিবিসিকে বলেছেন, গত বছরের ১৫ই সেপ্টেম্বর এ মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল।

কিন্তু আদালতে চার্জ-ফর্মে ঘটনাস্থলের নাম এবং এরকম আরও কিছু ভুল ছিল, যা সংশোধনের পর পুনরায় অভিযোগ গঠন করা হয়।

বিচার চলাকালে মোট ৪৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।

আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার চেয়ে বুয়েটে দেয়ালচিত্র

ছবির উৎস, BBC

ছবির ক্যাপশান, আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার চেয়ে বুয়েটে দেয়ালচিত্র (ফাইল চিত্র)

ঘটনাপ্রবাহ

কুষ্টিয়ার ছেলে আবরার ফাহাদ বুয়েটের ইলেকট্রিকাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

২০১৯ সালের সাতই অক্টোবর বুয়েটের শেরেবাংলা হলের সিঁড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

তখন চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহরাব হোসেন বিবিসিকে জানিয়েছিলেন, পুলিশের ধারণা রাত দুইটা থেকে আড়াইটার দিকে হত্যার ঘটনা ঘটে। মরদেহ উদ্ধার করা হয় ভোরে।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ পরদিন চকবাজার থানায় একটি মামলা করেন।

সেখানে অভিযোগ করা হয়, শিবির সন্দেহে তাকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে মেরেছে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

সেখানে বুয়েট ছাত্রলীগের ১৯ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়।

আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীদের মশাল মিছিল

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীদের মশাল মিছিল (ফাইল চিত্র)

আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বুয়েট কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানটির ২৬জন ছাত্রকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়।

আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ছাত্র বিক্ষোভ হয়।

এই হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে সমাজের নানা শ্রেণী-পেশার মানুষও সোচ্চার হয়েছে।

শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে বুয়েটের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করতে শুরু করে।