আবরার ফাহাদ: বুয়েট শিক্ষার্থী হত্যায় নতুন করে অভিযোগ গঠন হল, পেছালো আদালতের যুক্তিতর্ক

ফেসবুকে প্রকাশ করা আবরার ফাহাদের একটি সেলফি

ছবির উৎস, ABRAR FAHAD/FACEBOOK

ছবির ক্যাপশান, ফেসবুকে প্রকাশ করা আবরার ফাহাদের একটি সেলফি (ফাইল চিত্র)

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের মামলায় প্রথম দফা অভিযোগ গঠনের প্রায় এক বছর পর ২৫ জন আসামীর বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে মামলায় নতুন করে অভিযোগ গঠন করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবু আবদুল্লাহ ভুঁইয়া বিবিসিকে বলেছেন, গত বছরের ১৫ই সেপ্টেম্বর এ মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, "কিন্তু আদালতে চার্জ-ফর্মে ঘটনাস্থলের নাম ভুল লেখা হয়েছিল, এরকম আরো কিছু ভুল ছিল। যেমন গেস্টরুমের জায়গায় গেস্টহাউজ লেখা ছিল ওই ফর্মে, কিন্তু বুয়েটে কোন গেস্টহাউজ নেই।"

তিনি বলেন, "বিষয়টি রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের নজরে আসার পর আমরা পুনরায় অভিযোগ গঠনের আবেদন করি। সে আবেদন প্রেক্ষিতে শুনানির পর আজ আদালত এই রায় দিয়েছে।"

ভিডিওর ক্যাপশান, কীভাবে এতো সহিংস হয়ে উঠলো ছাত্রলীগ?

এখন আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য আগামী ১৪ই সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছে আদালত।

এদিকে, আজ ৮ই সেপ্টেম্বর এই মামলায় যুক্তিতর্ক শুরু হবার কথা ছিল। কিন্তু নতুন করে অভিযোগ গঠনের কারণে সেটি পিছিয়ে গেছে।

২০১৯ সালের ৭ই অক্টোবর ভোররাতে বুয়েটের শেরে বাংলা হল থেকে আবরার ফাহাদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

তখন অভিযোগ ওঠে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে এবং ক্ষমতাসীন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দিকে অভিযোগের আঙুল ওঠে।

আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় সব মিলিয়ে ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে ২০১৯ সালের ১৩ই নভেম্বর চার্জশিট তৈরি করে ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশ।

এরপর ২০২০ সালের ১৫ই সেপ্টেম্বর মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়।

এই মামলায় চার্জশিটভুক্ত ২৫ জন আসামির মধ্যে ২১ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ছাত্র বিক্ষোভ হয়। এই হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে সমাজের নানা শ্রেণী-পেশার মানুষও সোচ্চার হয়।

সে প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বা বুয়েট কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে সব ধরনের রাজনৈতিক সংগঠন এবং ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন।