আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
ভারতের একটি গ্রামে ধর্ষণ ও হত্যার পর নিহতের পরিবার যেভাবে বেঁচে আছে
- Author, গীতা পান্ডে
- Role, বিবিসি নিউজ, হাথরাস
ঠিক এক বছর আগে ভারতের উত্তর প্রদেশের একটি গ্রামে উচ্চ বর্ণের প্রতিবেশীদের হাতে গণ-ধর্ষণ ও নিষ্ঠুরভাবে আক্রান্ত হওয়ার পর ১৯ বছর বয়সী একজন নারী নিহত হয়। পরে কর্তৃপক্ষ ওই পরিবারের সম্মতি ছাড়াই যখন রাতের অন্ধকারে জোর করে তার মৃতদেহ সৎকার করে তখন সারা বিশ্বেই নিন্দার ঝড় ওঠে।
চাপের মুখে সরকার এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত এবং দ্রুত বিচারের প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু এক বছর পর, ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত চারজনের বিচার শুরু হলেও, ভারতে ধীরগতির বিচার ব্যবস্থায় এই মামলায় খুব একটা অগ্রগতি হয়নি। নিহত ওই কিশোরীর পরিবার বিবিসিকে বলেছেন তারা তাদের নিজেদের বাড়িতেই বন্দীর মতো বসবাস করছেন এবং তাদের জীবন থমকে গেছে।
ওই তরুণী নিহত হওয়ার কয়েকদিন পর আমি প্রথমবারের মতো হাথরাস জেলার ভুলগারি গ্রামে গিয়েছিলাম। এই হত্যাকাণ্ডের খবরটি সারা বিশ্বেই সংবাদের শিরোনাম হয়েছিল, এবং সাংবাদিক ও ক্যামেরা ক্রুরা ভিড় করেছিল তার বাড়িতে। প্রায় সব ধরনের রাজনৈতিক দল থেকেই বিরোধী রাজনীতিবিদরা ওই বাড়িতে গিয়ে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার পাওয়ার লড়াই-এ পরিবারটিকে সমর্থন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
নিহত কিশোরীর মা আমাকে জানিয়েছিলেন যে যব চাষ করা হয়েছে এমন একটি ফসলের ক্ষেতে লম্বা লম্বা গাছের আড়ালে তিনি তার মেয়েকে ১৪ই সেপ্টেম্বর খুঁজে পেয়েছিলেন। তার দেহ ছিল ক্ষত বিক্ষত, জ্ঞান ছিল না বললেই চলে, কোমর থেকে নিচের দিকে পুরোটাই ছিল নগ্ন। তার মেরুদণ্ড ভাঙা ছিল। তার দেহ থেকে রক্ত পড়ছিল এবং রক্তবমি করছিল। প্রায় দুই সপ্তাহ মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ার পর ২৯শে সেপ্টেম্বর একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
সম্প্রতি আমি তার বাড়িতে আবার গিয়েছিলাম। দেখলাম পরিবারটি পুরো গ্রাম থেকে বিচ্ছিন্ন, সবাই বাড়িতে বন্দী হয়ে আছে, আধাসামরিক নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা মেশিনগান উঁচিয়ে বাড়ি পাহারা দিচ্ছে, বাড়ির গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসানো সিসিটিভি ক্যামেরার মধ্যেই লোকজনকে সর্বক্ষণ চলাচল করতে হচ্ছে, বাড়িতে কে আসছে আর কে বাইরে যাচ্ছে তার সবই এসব ক্যামেরায় রেকর্ড হয়ে যাচ্ছে। (উচ্চ বর্ণের লোকেরা তাদের ওপর হামলা চালাতে পারে এই আশঙ্কায় সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া নির্দেশে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।)
"একটা বছরই নষ্ট হয়েছে," বলেন ওই নারীর ভাই। "আধাসামরিক বাহিনীর কারণে আমরা বাড়িতে নিরাপদে আছি। কিন্তু কাজ করার জন্য আমরা বাড়ির বাইরে যেতে পারি না। ক্ষতিপূরণ হিসেবে আমাদের যে অর্থ দেওয়া হয়েছে এবং সরকার যে রেশন দিচ্ছে, তার ওপরেই আমরা বেঁচে আছি।"
রাজ্য সরকারের কাছ থেকে পরিবারটি ২৫ লাখ রুপি পেয়েছে। কেউ হত্যা ও ধর্ষণের মতো অপরাধের শিকার হলে তার পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আইনের আওতায় তারা এই অর্থ পেয়েছেন।
তার ভাই বলেন, "মনে হয় আমরাও যেন গ্রেফতার হয়েছি। দোকান থেকে কিছু কিনতে গেলে কিম্বা ডাক্তারের সাথে দেখা করতে গেলেও আমাদেরকে আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের সাথে নিয়ে যেতে হয়।"
আরো পড়তে পারেন:
মর্মান্তিক এই ঘটনার আগে পরিবারটির আয়ের প্রধান উৎস ছিল ছোট্ট কৃষি জমি, তার সঙ্গে কিছু দৈনন্দিন কাজ করে আরো কিছু রোজগার হতো। কিন্তু সেটা এখন আর সম্ভব হচ্ছে না। পরিবারের যে সাতটি মহিষ ছিল, এসব পশুর জন্য খাবার সংগ্রহ করতে বাইরে যেতে না পারায় ছয়টিকে বিক্রি করে দিতে হয়েছে। এছাড়াও কর্তৃপক্ষ তাদেরকে নতুন একটি বাড়ি এবং পরিবারের একজন সদস্যকে সরকারি চাকরি দেওয়ার যে অঙ্গীকার করেছিল তারা এখনও সেটা পূরণ করেনি।
নিহত ওই তরুণী একটি দলিত পরিবারের সদস্য। এই সম্প্রদায়ের লোকদের সঙ্গে কেউ মেলামেশা করে না, তাদেরকে বলা হয় অচ্ছুত, এবং ভারতে বর্ণ প্রথার নিচের দিকে তাদের অবস্থান।
মারা যাওয়ার আগে ওই তরুণী চারজন আক্রমণকারীর নাম বলে গেছেন যারা সবাই উচ্চবর্ণের ঠাকুর। তদন্তকারীরা তাদের বিরুদ্ধে একজন দলিত নারীকে হত্যা, গণ-ধর্ষণ ও বর্বর আক্রমণের অভিযোগ এনেছেন। এই মামলার বিচারও শুরু হয়েছে।
আরো পড়তে পারেন:
কিন্তু অভিযুক্তদের আত্মীয়রা বলছেন যে ঠাকুরদের একজনের সাথে ওই তরুণীর সম্পর্ক ছিল। তারা অভিযোগ করছেন যে নিহতের পরিবার এই সম্পর্ক মেনে নিতে না পারার কারণে পরিবারের সম্মান রক্ষার জন্য তারাই ওই তরুণীকে হত্যা করেছে।
প্রভাবশালী ঠাকুর রাজনীতিবিদরা অভিযুক্তদের পক্ষে বড় ধরনের সমাবেশও করেছে।
নিহত তরুণী ও অভিযুক্তদের বাড়ির মাঝখানে একটি সরু রাস্তা। কিন্তু তাদের মধ্যে যে দূরত্ব সেটা কয়েক শতাব্দী ধরেও দূর করা সম্ভব হয়নি। এই হত্যাকাণ্ডের পর সেই বিভাজন আরো গভীর ও বড় হয়েছে।
"আমাদের পূর্বপুরুষরা তাদের পূর্বপুরুষদের হাতে অন্যায় আচরণের শিকার হয়েছেন এবং এখনও আমাদের সঙ্গে বৈষম্য করা হচ্ছে," বলেন নিহত তরুণীর বড় ভাই। "আমাদের বোন আক্রান্ত হওয়ার পর, অথবা সে যখন হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে লড়াই করছিল, এমনকি সে মারা যাওয়ার পরেও গ্রামের কেউ তার সম্পর্কে জানার জন্য কিছু জিজ্ঞেস করতে আসেনি। কিন্তু পুরো গ্রামটিই অভিযুক্তদের সমর্থন জানাতে আদালতে গিয়ে হাজির হয়েছিল।"
নিজের বক্তব্য তুলে ধরতে এবং কিছু শুনানিতে অংশ নেওয়ার জন্য তিনি বেশ কয়েকবার হাথরাস জেলা আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার তাদের মায়ের আদালতে গিয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
পরিবারটি বলছে তারা যখন আদালতে যান তখন তাদের অনেক টেনশনে থাকতে হয়। তাদের আইনজীবী সীমা কুশওয়াহা অভিযোগ করেছেন যে তাদেরকে নানা ভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়, হুমকি দেওয়া হয়। কিন্তু আসামীদের আইনজীবী মুন্না সিং পুন্ধির এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
মিজ খুশওয়াহা বলেছেন, তিনি যখন আদালতে যাচ্ছিলেন তখন একজন পুরুষ একটি গাড়ি নিয়ে তার পেছনে পেছনে গিয়েছিলেন। এবং আদালতে পুরুষ আইনজীবীরা তাকে বলেছেন "দিল্লির একজন আইনজীবী হাথরাসের একটি মামলায় যুক্তি তুলে ধরতে পারে না। তারা আমাকে বসিয়ে দিতে চেয়েছে এবং বলেছে আমি যেন আমার সীমার মধ্যে থাকি।"
তিনি বলেন, মার্চ মাসে একদিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে আদালত দু'বার মুলতবি করতে হয়েছিল। বেশিরভাগ সময়ে তার গাড়ি পুলিশ পাহারা দিয়ে জেলার সীমান্ত পর্যন্ত নিয়ে যেত। সম্প্রতি তিনি এই মামলাটি হাথরাস জেলার বাইরে স্থানান্তর করার জন্য আদালতের কাছে অনুরোধ করেছিলেন কিন্তু হাইকোর্ট তার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে।
মিজ কুশাওয়াহা বলেন এখনও পর্যন্ত ১০৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য শোনা হয়েছে। সাক্ষীদের মধ্যে রয়েছেন ডাক্তার, পুলিশ কর্মকর্তা, পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় সাংবাদিকসহ আরো অনেকে। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে শুনানি শেষ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। "আমার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চেয়েছি," বলেন তিনি।
পরিবারটির দ্বিতীয় একটি মামলায়ও আইনজীবী হিসেবে কাজ করছেন তিনি। এই মামলাটির শুনানি হচ্ছে রাজ্যের রাজধানী লাখনৌতে। নিহত তরুণীর সৎকারের জন্য কর্তৃপক্ষ পরিবারের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছিল কিনা আদালতে এবিষয়ে বিচার চলছে। যদি না নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে এর সাথে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে আদালত সেটাও বিবেচনা করে দেখছে।
পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও এই আদালতের বিবেচনার জন্য তোলা হয়েছে। "পরিবার চায় তাদেরকে অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়া হোক। আমিও তাই মনে করি," বলেন মিজ কুশওয়াহা। "আধাসামরিক বাহিনী তাদের শারীরিক নিরাপত্তা দিতে পারে। কিন্তু তাদের মানসিক ও আবেগের নিরাপত্তার কী হবে? সরকারের উচিত হাথরাস জেলার বাইরে তাদের থাকার ব্যবস্থা করা যাতে তারা নতুন করে জীবন শুরু করতে পারে।"
আরো পড়তে পারেন:
গ্রামে দুটো বর্ণের লোকজনের মধ্যেই ভয়ভীতি ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। সেখানকার পরিবেশও উত্তেজনাপূর্ণ এবং শত্রুভাবাপন্ন।
অভিযুক্তদের পরিবারগুলো ক্ষুব্ধ। তারা অভিযোগ করেছেন যে সাংবাদিকরা তাদের বিরুদ্ধে কাজ করছে।
"আপনি কেন এখানে এসেছেন?" একজন অভিযুক্তের বয়স্ক আত্মীয় চিৎকার করে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন। "আমাদের ছেলেরা নির্দোষ। তারা এখন জেলে কারণ সংবাদ মাধ্যমে আমাদের ভিলেন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।"
গ্রামের বেশিরভাগ ঠাকুর পরিবার এবিষয়ে কথা বলতে চায় নি। তারা বলছে, বিষয়টি নিয়ে এখন আদালতে বিচার চলছে এবং তারা কিছুই জানে না। গ্রামের এক ব্যক্তি বলেন, "আমরা দারিদ্র ও মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে লড়াই করছি, বেঁচে থাকার জন্য যতোটুকু অর্থ প্রয়োজন সেটুকু আয় করার চেষ্টা করছি।"
"লোকজন তো কতো কিছুই বলছে, কিন্তু কে বলতে পারবে যে কী হয়েছে? একমাত্র তিনি (নিহত নারী) এবং সৃষ্টিকর্তাই জানেন," বলেন ৭৬ বছর বয়সী বলবীর সিং।
তিনি স্বীকার করেন যে গ্রামে এখনও কিছু উত্তেজনা রয়েছে, তবে বলেছেন, "যা হওয়ার হয়ে গেছে। আমাদের যেমন এখানে থাকতে হবে, তেমনি তাদেরও থাকতে হবে।"
নিহত তরুণীর পরিবার বলছে, তারা আর বেঁচে নেই।
তরুণীর মা যখনই তার "লম্বা ও কালো চুলের সুন্দর মেয়েটির" কথা ভাবেন তখনই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
"যেভাবে এটা হয়েছে তা আমরা এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না," বলেন তিনি। শাড়ি দিয়ে চোখের পানি মুছতে মুছতে তিনি বলছিলেন, "একজন মা কি কখনও তার সন্তানকে ভুলে যেতে পারে? যখন খেতে বসি তখন ওর কথা খুব মনে হয়, যখন বিছানায় ঘুমাতে যাই তখনও ওকে খুব মিস করি। আমি আমার দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারিনি যে আমি আমার মেয়েকে হারিয়ে ফেলব এবং এরকম এক নিষ্ঠুর এক ঘটনায়।"
"কিন্তু আমার মেয়ে খুব সাহসী ছিল। সে বার বার বলেছে যে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। গ্রামের লোকেরা এটা পছন্দ করে না। তারা বলে যে এই ঘটনায় আমাদের গ্রামের দুর্নাম হয় এবং আমাদের এটা চেপে যাওয়া উচিত।"
নিহত তরুণীর ভাবী বলেন এই বাড়িতে আর থাকা সম্ভব নয় কারণ "এর প্রত্যেকটা জায়গায় তার স্মৃতি জড়িয়ে আছে।"
"আমরা সবসময় একসঙ্গে থকতাম। আমি যখন সন্তানসম্ভবা, সে আমাকে রান্না কিম্বা কোন কাজই করতে দিত না। যেদিন সে মারা গেল সেদিনও সে সবজি রান্না করল এবং রুটি বানানোর জন্য আটার কাই তৈরি করল, এবং বলল মহিষের জন্য খাবার জোগাড় করে বাড়িতে ফিরে সে রুটি তৈরি করবে।"
"কিন্তু সে আর ফিরল না," কান্নায় ভেঙে পড়তে পড়তে বলেন তিনি।
তরুণীর ছোট ভাই বলেন, "গত বছর শুধু তুলসি গাছটাই বড় হয়েছে। আমার বোন যখন গাছটা লাগিয়েছিল তখন এটা ছিল ছোট্ট একটি চারা। এখন দেখেন এটা কতো বড় হয়ে গেছে।"
তার বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দূরের একটি জমিতে যেখানে তরুণীর মৃতদেহ সৎকার করা হয়েছিল সেখানে আমরা হেঁটে যাই।
গত বছর আমি যখন গিয়েছিল তখন সেটা ছিল ছাই-এর স্তূপ। এখন জায়গাটা সবুজ ঘাসে ঢেকে গেছে। গাছের কিছু ডালপালা পাশেই স্তূপীকৃত করে রাখা হয়েছে।
সেদিন রাতে কী হয়েছিল তার সব আলামতই মুছে গেছে।
পরিবারটির কাছে আমি তরুণীর ছাই-এর বিষয়ে জানতে চেয়েছিলাম। "বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা এগুলো কোথাও ছিটাবো না," বলেন তার ভাই।
তরুণীর ভাবী বলেন: "ওই চারজনকে যখন ফাঁসিতে ঝোলানো হবে এবং গত একটা বছর আমরা যে ধরনের যন্ত্রণা ভোগ করছি তাদের পরিবারও একই ধরনের যন্ত্রণা ভোগ করবে, তখনই আমরা সেটা করবো।"