আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
আফগানিস্তান: পাঞ্জশের উপত্যকায় তালেবানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ লড়াইয়ে কী ঘটছে?
আফগানিস্তানের পাঞ্জশের উপত্যকায় তালেবান বাহিনী এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ডাক দেয়া স্থানীয় মিলিশিয়া বাহিনীর মধ্যে লড়াই চলছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
পাঞ্জশের উপত্যকা হচ্ছে আফগানিস্তানের একমাত্র অঞ্চল যা এখনো তালেবানের নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়ে গেছে।
দুই পক্ষই দাবি করছে, তাদের হামলায় প্রতিপক্ষের বহু যোদ্ধা হতাহত হয়েছে। তবে বিবিসি কোন পক্ষের দাবিই স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর তালেবান সেখানে অভিযান চালাতে শুরু করেছে।
তিনি রয়টার্স বার্তা সংস্থাকে জানান, তালেবান যোদ্ধারা পাঞ্জশের উপত্যকায় ঢুকে পড়েছে এবং কিছু এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
কিন্তু পাঞ্জশেরের বিদ্রোহী গোষ্ঠী ন্যাশনাল রেসিস্ট্যান্স ফ্রন্ট অব আফগানিস্তানের (এনআরএফএ) একজন মুখপাত্র বলছেন, পাঞ্জশের উপত্যকার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে তাদের হাতে এবং তালেবানকে তারা হটিয়ে দিয়েছেন।
আফগানিস্তানের এই দূর্গম অঞ্চলটি বরাবরই তাদের প্রতিরোধের জন্য খ্যাত। ১৯৮০-এর দশকে আফগানিস্তানে সোভিয়েত বাহিনীর বিরুদ্ধে এবং ১৯৯০ এর দশকে তালেবানের বিরুদ্ধে এই অঞ্চল শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল।
পাঞ্জশের উপত্যকার বিদ্রোহীদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ৩২ বছর বয়সী আহমাদ মাসুদ। তিনি ব্রিটেনের স্যান্ডহার্স্ট মিলিটারি একাডেমিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং আফগানিস্তানের কিংবদন্তী প্রতিরোধ কমান্ডার প্রয়াত আহমাদ শাহ মাসুদের ছেলে।
আহমাদ শাহ মাসুদকে পাঞ্জশেরের সিংহ বলে বর্ণনা করা হতো। সোভিয়েত বিরোধী প্রতিরোধ লড়াইয়ে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৯০ এর দশকে তালেবানের বিরুদ্ধেও তিনি জোর লড়াই চালান। ২০০১ সালে আল কায়েদা তাকে এক আত্মঘাতী স্কোয়াড পাঠিয়ে হত্যা করে। তখন আহমাদ মাসুদ ছিলেন একজন কিশোর।
আরও পড়ুন:
ব্রিটেনের স্যান্ডহার্স্ট থেকে পাশ করে বেরুনোর পর আহমাদ মাসুদ লন্ডনের কিংস কলেজ থেকে ওয়ার স্টাডিজে স্নাতক ডিগ্রি নেন। ২০১৬ সালে তিনি দেশে ফিরে যান। গতমাসে তিনি তালেবানবিরোধী ন্যাশনাল রেসিস্ট্যান্স ফ্রন্ট গঠন করেন।
তালেবান কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর আহমাদ মাসুদ এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, "আমি আত্মসমর্পন করার চেয়ে মৃত্যুবরণ করাকেই শ্রেয় মনে করবো। আমি আহমাদ শাহ মাসুদের ছেলে। আত্মসমর্পন শব্দটি আমার অভিধানে নেই।"
আহমাদ মাসুদ এখন কয়েক হাজার স্থানীয় মিলিশিয়া এবং সেনাবাহিনীর কিছু ইউনিটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
তালেবানের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি আন্তর্জাতিক সাহায্যের আহ্বান জানিয়েছেন।