আফগানিস্তান: কাবুল বিমানবন্দরের কাছে গাড়ি লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলা

মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা বলছেন, আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একটি ড্রোন হামলা চালানোর মাধ্যমে বিমাবন্দরে আরেকটি আত্মঘাতী হামলা ঠেকানো হয়েছে।

মার্কিন কেন্দ্রীয় কমাণ্ড বলছে, ড্রোন হামলার লক্ষ্য ছিল একটি গাড়ি যাতে ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠীর আফগান শাখার (আইএস-কে) অন্তত একজন সদস্য অবস্থান করছিল।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র এই বলে সতর্ক করে দিয়েছিল যে, কাবুল বিমানবন্দরে আরেকটি সন্ত্রাসী হামলা হতে পারে বলে তাদের কাছে নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে।

কাবুল বিমানবন্দরে বৃহস্পতিবার এক আত্মঘাতী হামলায় অন্তত ১৭০ জন মানুষ নিহত হয়। এদের মধ্যে ১৩ জন আমেরিকান সৈনিকও ছিল। ওই হামলার দায় স্বীকার করে আইএস-কে।

রবিবার মার্কিন কেন্দ্রীয় কমাণ্ডের ক্যাপ্টেন বিল আরবান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি 'আসন্ন হুমকি' নির্মূল করতে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

"আমরা নিশ্চিত, আমরা সফলভাবেই লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছি", বলেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, "যে গাড়িকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা হয়েছে সেখানে দ্বিতীয় একটি বিষ্ফোরণ ঘটে যা ইঙ্গিত দিচ্ছে সেখানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিষ্ফোরক রাখা ছিল"।

পরে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় কমাণ্ড সেখানে বেসামরিক হতাহতের খবর সম্পর্কে ওয়াকিবহাল আছ। "এটা পরিষ্কার নয় সেখানে ঠিক কী ঘটেছে, তবে আমরা তদন্ত করছি", বলেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, "সেখানে নিরীহ মানুষের প্রাণহানী হলে কেন্দ্রীয় কমাণ্ড গভীর দুঃখ পাবে"।

ওদিকে কাবুলের পুলিশ জানিয়েছে কাবুল বিমানবন্দরের কাছে একটি বাড়িতে রকেট হামলায় একটি শিশু মারা গেছে।

এর আগে বিভিন্ন সূত্রের খবরে বলা হয়েছিল, কাবুলের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে বিরাট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। কোন কোন সূত্র এটিকে একটি রকেট হামলা বলে বর্ণনা করেছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা কিছু ছবিতে দেখা যাচ্ছে, সেখান থেকে ধোঁয়া উঠছে আকাশে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, সেখানে একটি বিস্ফোরণ ঘটেছে। তবে কিভাবে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে, তা পরিস্কার নয়।

বিবিসির সাংবাদিক সেকান্দার কেরমানি বলছেন, তার একটি সূত্র তাকে জানিয়েছে, এটি হয়তো একটি রকেট হামলা ছিল এবং এই রকেট বিমানবন্দরের কাছে একটি বাড়িতে আঘাত করেছে, বিমানবন্দরে নয়। কোন হতাহতের খবর এখনো পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

বিমানবন্দরের কাছে শোনা বিস্ফোরণের সঙ্গে মার্কিন হামলার কোন সম্পর্ক আছে কীনা সেটা পরিস্কার নয়।

কাবুলে এখন আর খুব বেশি বিদেশি সাংবাদিক নেই। তবে আল জাজিরার একজন সাংবাদিক, সেখান থেকে তার এক রিপোর্টে বলছেন, আজ সকালে তিনি কাবুল বিমানবন্দরে একটি মার্কিন বিমানও দেখেননি।

নেটোর অন্যসব দেশ এরই মধ্যে তাদের উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত করে চলে এসেছে। সর্বশেষ বৃটেনের উদ্ধার ফ্লাইটগুলো গতকাল কাবুল ছেড়েছে। ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতও আফগানিস্তান ছেড়েছেন।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র বলেছিল, তারা শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাবে, অর্থাৎ ৩১শে অগাস্টের মধ্যে সৈন্য প্রত্যাহারের যে সময়সীমা বেঁধে দেয়া আছে, সেপর্যন্ত।

রয়টার্স বার্তা সংস্থা একজন পশ্চিমা নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে বলছে, এই অভিযান কখন শেষ হবে, তা এখনো ঠিক হয়নি, তবে এখনো এক হাজারের মতো বেসামরিক নাগরিক বিমানবন্দরে আছে সেখান থেকে ফ্লাইট ধরার আশায়।

এদিকে তালেবান বলছে, ৩১ অগাস্টের পর বিমানবন্দরের দায়িত্ব নেয়ার জন্য তারা পুরোপুরি প্রস্তুত।

নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতি

এদিকে আফগানিস্তানে সবার অংশগ্রহনের ভিত্তিতে যে সরকার গঠনের কথা তালেবান দিয়েছিল, সেই আলোচনা কোন পর্যায়ে আছে, সে সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানা যাচ্ছে না। দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে তালেবান কাবুলে ঢুকেছে, কিন্তু এখনো দেশটিতে কার্যত কোন সরকার নেই।

তালেবানের একজন মুখপাত্র টেলিভিশনে এক ভাষণে বলেছেন, তারা যে সরকার গঠনের আলোচনা চালাচ্ছেন, সেটা সবাইকে নিয়েই করা হবে এবং শীঘ্রই আলোচনা একটা উপসংহারে পৌছাবে ।

তবে রোববার তালেবান উচ্চশিক্ষা বিষয়ক একজন অস্থায়ী মন্ত্রী নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। এর আগেও এরকম কিছু মন্ত্রী নিয়োগের ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। তালেবান আফগানিস্তানের সব বাণিজ্যিক ব্যাংক খোলারও নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু বলেছে, লোকজন সপ্তাহে সর্বোচ্চ দুশত ডলার পর্যন্ত ব্যাংক থেকে তুলতে পারবে।