আফগানিস্তান: কাবুলে বিমানবন্দরের বাইরে হট্টগোলে সাতজনের মৃত্যু

কাবুল বিমানবন্দরের সামনে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ভিড় সামাল দেবার চেষ্টা

ছবির উৎস, Reuters

ছবির ক্যাপশান, কাবুল বিমানবন্দরের সামনে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ভিড় সামাল দেবার চেষ্টা

কাবুল বিমানবন্দরের বাইরে মানুষের জটলার কারণে সাত জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর দিচ্ছে ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এরা সবাই আফগানিস্তানের নাগরিক।

তালেবান আফগানিস্তানের দখল নেয়ার পরে বহু মানুষ যে কোনোভাবে আফগানিস্তান ত্যাগ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বিবৃতিতে এক মুখপাত্র বলেন, "সরেজমিনে পরিস্থিতি খুবই জটিল তবে আমরা চেষ্টা করছি সতর্কতা ও নিরাপত্তার সাথে সবকিছু সামাল দিতে।"

কাবুল বিমানবন্দরের বাইরে দেশ ছাড়তে চাওয়া হাজারো আফগানের ভিড়ে তুমুল নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে।

গত সপ্তাহে এভাবেই কাবুল বিমানবন্দরে প্রবেশের চেষ্টা করেন অনেকেই

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, গত সপ্তাহে এভাবেই কাবুল বিমানবন্দরে প্রবেশের চেষ্টা করেন অনেকেই

নিজ নিজ দেশের নাগরিকদের এবং আফগান সহকর্মীদের মধ্যে যারা যোগ্য তাদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন দেশের সরকার।

কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নিয়ন্ত্রণে থাকা প্রায় ৪,৫০০ মার্কিন সৈন্য এবং নয়শো জন ব্রিটিশ সৈন্যরা কাবুল থেকে ছেড়ে যাওয়া বিমানের নিরাপদ উড্ডয়ন নিশ্চিত করতে টহল দিচ্ছে।

যেসব আফগান নাগরিকদের কাছে দেশ ছাড়ার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই তাদের ঠেকাতে তালেবানরাও বিমানবন্দরকে ঘিরে তল্লাশী চৌকি বসিয়েছে।

এএফপির প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী বিমানবন্দের সামনে প্রায় ১০ হাজারের মতো মানুষ জড়ো হয়েছিল।

বিমানবন্দরের ভেতরে বিমানে ওঠার জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছে একদল মানুষ

ছবির উৎস, Reuters

ছবির ক্যাপশান, বিমানবন্দরের ভেতরে বিমানে ওঠার জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছে একদল মানুষ

'কোন দেশই সবাইকে বের করে আনতে পারবে না'

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৩১শে অগাস্টের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে তাদের লোক সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে।

কিন্তু এই সময়সীমা বাড়ানোর জন্য তার উপরে চাপ ক্রমশ বাড়ছে।

বাইডেন প্রশাসন বলছে, প্রায় ১৫ হাজার আমেরিকান এবং ৫০ থেকে ৬০ হাজার আফগানকে সরিয়ে আনা বাকি।

এর বাইরেও আফগানিস্তানের অনেক নাগরিক তালেবানের ভয়ে দেশ ছাড়তে চাচ্ছে বলা হচ্ছে।

কয়েকটি দেশ বলেছে, এ মাসের শেষ নাগাদ আফগানিস্তান থেকে সব বিদেশি নাগরিক সরিয়ে আনা সম্ভব হবে না।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেন ওয়ালেস বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ঠিক করা ডেডলাইনের মধ্যে "কোন দেশই সবাইকে বের করে আনতে সক্ষম হবে না"।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান জোসেফ বোরেল বলেছেন, এ মাসের শেষ দিনের মধ্যে ষাট হাজার মানুষকে বের করে আনা 'গানিতিকভাবে অসম্ভব'।

ভিডিওর ক্যাপশান, তালেবানের আফগান দখলের পর সৌদি, ইরান, তুরস্ক, পাকিস্তানসহ মুসলিম বিশ্বের প্রতিক্রিয়া কী?