শেখ মুজিবুর রহমান: এক বছরে তদন্ত কমিশনের ব্যাপারে শুধু একবার প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে, বলছেন আইনমন্ত্রী

বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পেছনের যড়যন্ত্র তদন্তের জন্য একটি কমিশন গঠনের ব্যাপারে গত এক বছরে মাত্র একবার প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে বলে দেশটির আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছেন।
এক বছর আগে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার বিচার হলেও এর পেছনের নানা যড়যন্ত্র এবং এর বিচারের আওতার বাইরে যারা রয়ে গেছে - তাদের চিহ্নিত করার জন্য একটা তদন্ত কমিশন গঠন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
১৯৭৫ সালের ১৫ই অগাস্ট এক সেনা অভ্যুত্থানের সময় হত্যাকাণ্ডে সপরিবারে নিহত হন শেখ মুজিবুর রহমান। শুধু তার দুই মেয়ে বেঁচে যান। সেই হত্যাকাণ্ডের পিছনে দেশি-বিদেশি নানা যড়যন্ত্রের কথা বিভিন্ন সময় বলা হয়েছে।
এত বড় হত্যাকাণ্ডের পেছনে আরো মানুষের পরোক্ষ-প্রত্যক্ষ ভূমিকা বা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেন না দলের নেতারা।
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তদন্ত কমিশন গঠন করার সিদ্ধান্ত একটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। তাই কমিটিতে কারা থাকবেন সেটা নির্ধারণ করা কালক্ষেপণের একটা কারণ হতে পারে।
আজ রবিবার শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম মৃত্যুবার্ষিকীতে এ নিয়ে আলোচনা আবার সামনে এসেছে।
তদন্ত কমিশন কেন আলোর মুখ দেখেনি এখনও?
সরকার যে তদন্ত কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সেটার কোন কার্যক্রম কেন এখনো শুরু হলো না?
বাংলাদেশ সরকারের আইনমন্ত্রী বলেন করোনা মহামারি মোকাবেলা করা সরকারের এখন প্রধান লক্ষ্য। তবে এ সময়ের মধ্যে কমিশন নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
"এই কাজটার ব্যাপারে আমাদের একটা প্রাথমিক আলাপ-আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কিন্তু এই প্যানডেমিকের সময় কিভাবে প্যানডেমিক সামলানো যায় সেটাই দেখছেন। সেই ক্ষেত্রে আমরা একটু দেরি করছি।"
"যে মুহূর্তে প্যানডেমিক সিচুয়েশন নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আসবে সেই মুহূর্তে কাজ শুরু করে সেই কমিশনে কারা থাকবে সেটার সিদ্ধান্ত নিয়ে, জনসমক্ষে ঘোষণা দিয়ে দেব" - বলেন মি. হক।
এদিকে তদন্ত কমিশনটি এক বছরের আলোর মুখ না দেখায় সরকার এই ব্যাপারটিকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।
আরো পড়ুন:

রাজনীতির বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই তদন্ত কমিশনের সদস্য কারা হবেন সেটা ঠিক করতেই সরকারের বিলম্ব হচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জোবাইদা নাসরিন বলছেন - কমিশনে দলের লোক থাকলে সেখানে একপেশে ইতিহাস হতে পারে, আবার নিরপেক্ষ কেউ থাকলে সেটা তারা মানবেন কিনা - সেটা নিয়েও সংশয় থেকে যাবে।
"তদন্ত কমিশনের কাজ হবে একটা ইতিহাসকে খুঁড়ে বের করা। সেই খোঁড়াখুঁড়ির জায়গাটাতে কে থাকবেন সেটা তারা এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। প্রলম্বিত হওয়ার পিছনে এটা কাজ করছে যে কে কে থাকবেন কমিশনে। তারা এখনো দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছে। কারণ রাজনীতি"।
ঘটনার প্রায় ৩৫ বছর পর ২০১০ সালে সেই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত সাবেক সেনা সদস্যদের মৃত্যুদণ্ড হয়।
আদালতের রায়ে হত্যাকাণ্ডের পেছনের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ ছিল - কিন্তু বিস্তারিত কিছু উঠে আসেনি।
সরকার তদন্ত কমিশনকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে - সেই প্রশ্নে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলছেন, প্রথমে দরকার ছিল বিচার করার, এবং সেই বিচার হয়েছে।
"আজ যারা তদন্তের গুরুত্ব নিয়ে কথা বলছে তাদের নিয়ে আমি কোন সন্দেহের চোখে দেখছি না। কিন্তু তাদের বক্তব্যটা নিঃসন্দেহে মানুষের মনে তাদের ব্যাপারে প্রশ্ন সৃষ্টি করবে।"
বিরোধীদল বিএনপির নেতারা তদন্ত কমিশন গঠনের কথা ওঠার পর গত বছর বলেছিলেন, তাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে টার্গেট করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই কমিশন করা হচ্ছে কিনা - এই প্রশ্ন তাদের রয়েছে।
আইনমন্ত্রী জানান, শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার বিচার হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, "এই কমিশন 'উইচহান্টিং' করবে না। যারা জীবিত নেই তাদের বিচার - এটাও কমিশন করবে না। যড়যন্ত্রে তাদের যে ভূমিকা ছিল সেটা সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে জনসমক্ষে প্রকাশ করবে।"








