ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট রাইসিকে যুক্তরাষ্ট্র: "আলোচনার পথ চিরদিন খোলা থাকবে না"

ছবির উৎস, AFP
পরমাণু শান্তি চুক্তি পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে আলোচনায় ফিরে আসার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নতুন প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের একজন মুখপাত্র এই বলে ইরানকে হুঁশিয়ার করে দেন যে, কূটনৈতিক আলোচনার পথ চিরদিনের জন্য খোলা থাকবে না।
২০১৮ সাল হতে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে করা পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে যান এবং নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
এব্রাহিম রাইসি গতকাল বৃহস্পতিবার ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেয়ার পর বলেন, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে চলমান নিষেধাজ্ঞার অবসানের জন্য 'যে কোন কূটনৈতিক পরিকল্পনায়' সমর্থন দেবেন।
তিনি বলেন, "ইরানের বিরুদ্ধে সব ধরনের অবৈধ মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অবশ্যই তুলে নিতে হবে।"
পশ্চিমা দেশগুলো অভিযোগ করে যে ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। তবে ইরান সবসময় এই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে।
২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে ছয়টি দেশের যে চুক্তি হয় তাতে সই করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন, রাশিয়া এবং জার্মানি। এই চুক্তির অধীনে ইরান তার কিছু পরমাণু কর্মসূচী বন্ধ রাখতে রাজী হয়, বিনিময়ে অন্যদেশগুলো নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার অঙ্গীকার করে। এই নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতির মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছিল।
কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেলেন, ইরান তখন আবার নতুন করে নিষিদ্ধ পরমাণু কর্মসূচী চালু করে।
এই পরমাণু চুক্তি পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় ইরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া অন্য পাঁচটি দেশ, যারা এখনও চুক্তি থেকে বেরিয়ে যায়নি। এসব দেশ চেষ্টা করছে ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে চুক্তিটি আবার কার্যকর করতে। তবে এই আলোচনা গত কয়েক সপ্তাহ ধরে স্থগিত হয়ে আছে।

ছবির উৎস, Getty Images
এব্রাহিম রাইসি ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র নেড প্রাইস সাংবাদিকদের বলেন, "আমরা ইরানের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি তারা যেন যত শীঘ্র সম্ভব আলোচনার টেবিলে ফিরে আসে, যাতে করে আমরা আমাদের কাজ শেষ করার জন্য চেষ্টা করতে পারি।"
অন্যান্য খবর:
তিনি বলেন, "প্রেসিডেন্ট রাইসিকে আমরা তার পূর্বসূরীদের দেয়া সেই একই বার্তাই দেব .. যুক্তরাষ্ট্র নিজের এবং তার মিত্রদের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থ রক্ষা করবে, এই স্বার্থকেই প্রাধান্য দেবে। আমরা আশা করবো, ইরান কূটনৈতিক পথে সমাধান খুঁজে বের করার এই সুযোগ কাজে লাগাবে।"
তবে তিনি আরও বলেন, "এই প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকাল ধরে চলতে পারে না।"
এব্রাহিম রাইসি ইরানে একজন বেশ রক্ষণশীল ধর্মীয় নেতা হিসেবে পরিচিত। তিনি হাসান রুহানির পর ইরানের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিলেন। হাসান রুহানিকে পশ্চিমা দেশগুলো একজন মধ্যপন্থী বলে বিবেচনা করতো।
৬০ বছর বয়সী এব্রাহিম রাইসি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহা আলি খামেইনির বেশ ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। এমন কথা চালু আছে যে তিনিই হয়তো আয়াতোল্লাহ আলি খামেইনির উত্তরসূরী হবেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পদে।
এব্রাহিম রাইসির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ইরানের বিধ্বস্ত অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা। অর্থনীতির বেহাল দশার কারণে ইরানের সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে, সেখানে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে।
ইরানে ঔষধেরও তীব্র সংকট চলছে। ইরান এজন্যে যুক্তরাষ্ট্রের জারি করা নিষেধাজ্ঞাকে দোষারোপ করছে।

ছবির উৎস, EPA
অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি ইরানকে করোনাভাইরাসেরও মোকাবেলা করতে হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানেই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি। সেখানে গত তিন দিন ধরে সর্বোচ্চ সংক্রমণের রেকর্ড হচ্ছে।
ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমে বেশ কিছু সরকার বিরোধী বিক্ষোভও হতে দেখা গেছে। পানির সংকটের কারণে এই বিক্ষোভ শুরু হয়।
আরও পড়ুন:
এব্রাহিম রাইসি ছিলেন ইরানের বিচার বিভাগের সাবেক প্রধান। অতীতে তিনি তার মানবাধিকারের রেকর্ডের জন্য ব্যাপকভাবে সমালোচিত হন। ১৯৮৮ সালে ইরানে হাজার হাজার রাজনৈতিক বন্দীর মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা ছিল বলে অভিযোগ করে মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো।
যেসব গোপন ট্রাইব্যুনালে এই রাজনৈতিক বন্দীদের বিচার করা হয়, তার চারজন বিচারকের একজন ছিলেন মিস্টার রাইসি। এই ট্রাইব্যুনালগুলো ইরানে 'ডেথ কমিটি' নামে পরিচিতি পায়।
এব্রাহিম রাইসি বলেছিলেন, এসব মৃত্যুদন্ডের রায় যুক্তিযুক্ত ছিল, কারণ তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ রুহুল্লা খোমেনি এ নিয়ে একটি ধর্মীয় ফতোয়া জারি করেছিলেন।
মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র ২০১৯ সালে মিস্টার রাইসির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল।








