কোভিড: বাংলাদেশেও অন্তঃসত্ত্বা এবং স্তন্যদাত্রী মায়েদের টিকা দেয়ার পরামর্শ

প্রতিবেশী দেশ ভারতেও গর্ভবতী নারীদের কোভিডের টিকা দেয়া হচ্ছে।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, প্রতিবেশী দেশ ভারতেও গর্ভবতী নারীদের কোভিডের টিকা দেয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশে অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং স্তন্যদাত্রী মায়েদের কোভিড-১৯ এর টিকা গ্রহণে কোন বাধা নেই এবং তাদেরকে টিকা দেয়া যেতে পারে বলে সুপারিশ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় টিকা পরামর্শক কমিটি।

এই কমিটির সদস্য ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, "আমরা মতামত দিয়েছি যে তাদেরকে টিকা দেয়া যেতে পারে।"

বেশ কয়েকটি বিষয় মাথায় রেখে এই সুপারিশ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, গর্ভবতী মায়েদের চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসকদের জাতীয় ফোরাম অবসটেট্রিক্যাল এন্ড গায়নিকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ-ওজিএসবি বেশ কিছুদিন আগেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে গর্ভবতী মা এবং যারা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ান তাদের টিকার আওতায় আনার আবেদন করে।

সেই পরিপ্রেক্ষিতেই এ বিষয়ে আলোচনায় বসে জাতীয় টিকা পরামর্শক কমিটি।

মি. আহমেদ বলেন, টিকা দেয়ার ক্ষেত্রে যেসব বিষয় মাথায় রাখা হয় তার মধ্যে একটি হচ্ছে ঝুঁকি এবং আরেকটি হচ্ছে সুফল। এক্ষেত্রে ঝুঁকির তুলনায় সুফল বেশি বলে তারা মনে করছেন।

আরো পড়ুন:

তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশে গর্ভবতী মায়েরা টিকা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে টিকার বিরূপ প্রতিক্রিয়াও মূল্যায়ন করা হয়েছে।

তার মতে, গর্ভবতী নারীদের টিকা দেয়ার যে ঝুঁকি তা অন্যদের তুলনায় বেশি নয়। আর এজন্যই তাদেরকে টিকা দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

"টিকা দেয়ার ঝুঁকি অতিরিক্ত নয়, কিন্তু বেনিফিট অনেক। ফলে এক সাথে দুটি জীবন রক্ষা করা যায়। এটার উপর ভিত্তি করে আমরা সুপারিশ করেছি," বলেন তিনি।

গর্ভবতী নারীদের অন্যদের তুলনায় কোভিড ঝুঁকি বেশি থাকে।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, গর্ভবতী নারীদের অন্যদের তুলনায় কোভিড ঝুঁকি বেশি থাকে।

মি. আহমেদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রেও গর্ভবতী এবং বুকের দুধ পান করাচ্ছেন এমন নারীদের টিকা দেয়া হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা সংস্থা-এনএইচএস এর ওয়েবসাইটেও গর্ভবতী নারী ও দুধপান করানো মায়েদের টিকা নিতে উৎসাহিত করা হয়েছে।

সেখানে বলা হয়েছে যে, যে কারো বয়স যদি ১৮ বছরের বেশি হয় এবং তিনি যদি গর্ভবতী হন কিংবা গর্ভধারণ করবেন বলে আশা করছেন, শিশুকে বুকের দুধ পান করাচ্ছেন কিংবা গর্ভধারণের চেষ্টা করছেন- এমন হলে তারা করোনাভাইরাসের টিকা নিতে পারবেন।

সেখানে বলা হয়েছে- কেউ গর্ভবতী হলে এবং এখনো টিকা নিয়ে না থাকলে তাহলে তার জন্য ফাইজার/বায়োএনটেক কিংবা মডার্নার টিকাকে অগ্রাধিকার দেয়া উচিত। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে যে, এই দুটি টিকা বিশ্বের অন্য দেশগুলোতেও গর্ভবতী নারীদের দেয়া হয়েছে এবং সেখান থেকে সুরক্ষার বিষয়ে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

এছাড়া কেউ যদি এরইমধ্যে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার প্রথম ডোজ নিয়ে থাকে তাহলে তাকে দ্বিতীয় ডোজও একই টিকা দেয়া উচিত বলে জানানো হয়।

এতে উল্লেখ করা হয়, টিকা গ্রহণের কারণে মা বা শিশু কেউই কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি নেই।

যেসব মায়েরা শিশুদের বুকের দুধ পান করাচ্ছেন তাদের বয়স ৪০ বছরের বেশি হলে যেকোন টিকা নেয়া যেতে পারে।

আর বয়স ৪০ বছর না হলে এবং অন্য কোন স্বাস্থ্য সমস্যা না থাকলে ফাইজার/বায়োএনটেক কিংবা মডার্নার টিকাকে অগ্রাধিকার দেয়ার কথা বলা হয়েছে।

এই ওয়েবসাইটে আরো বলা হয়েছে যে, কোভিড-১৯ এর টিকার কারণে গর্ভধারণে সমস্যা তৈরি হওয়ার কোন প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

টিকা গ্রহণের পর গর্ভধারণ থেকে বিরত হওয়ার দরকার নেই বলেও জানাচ্ছে যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা সংস্থা।