আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
রোজিনা ইসলাম: জামিন আবেদনের শুনানি হলেও জামিন আজ হয়নি, রোববার আদেশের দিন নির্ধারণ করেছে আদালত
বাংলাদেশে প্রথম আলোর সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের জামিন আজ হয়নি।
তার আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী বিবিসিকে বলেছেন, আগামী রোববার জামিনের বিষয়ে আদেশ হবে বলে তারা জানতে পেরেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, দুপুরের পর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতের বিচারক রোববার জামিনের আদেশের দিন নির্ধারণ করেছেন।
সরকারি আইনজীবী বা পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু বিবিসিকে একই তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে বেলা সাড়ে বারটার দিকে আদালতে আজ ভার্চুয়াল শুনানি করা হয়। তাতে সরকার পক্ষ এবং রোজিনা ইসলামের পক্ষের আইনজীবীরা তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
সরকারের পক্ষে আইনজীবী জামিনের আবেদনের বিরোধিতা করেছেন।
এর আগে মিজ ইসলামের আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী জানান, আদালত সরকার পক্ষ এবং অভিযুক্তের পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদেশ পরে দেবেন বলে জানিয়েছিলেন। শুনানির পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন তারা আজ বৃহস্পতিবার আদেশ পাবেন বলে আশা করছেন।
ওদিকে রোজিনা ইসলাম কাশিমপুর কারাগারে রয়েছেন এবং ভার্চুয়াল শুনানি হওয়ায় তাকে আদালতে আনা হয়নি।
বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:
এর আগে গত মঙ্গলবার রোজিনা ইসলামকে রিমান্ডে নেয়ার জন্য পুলিশের আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলো আদালত ।
গত সোমবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তার কক্ষে পাঁচ ঘন্টার বেশি সময় রোজিনা ইসলামকে আটকে রাখার পর পুলিশের কাছে হস্তান্ত করা হয়েছিল।
সোমবার রাতেই তার বিরুদ্ধে অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের আওতায় মামলা করা হয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে।
সেই মামলায় তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় নথি চুরি এবং অনুমতি ছাড়া সেই নথির ছবি তোলার অভিযোগ আনা হয়েছে।
তাকে প্রথমে আটকে রাখা এবং তারপর শত বছরের পুরোনো আইনে মামলা দেয়ার ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।
সাংবাদিকদের সব সংগঠন প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছে।
সোমবার বিকেল যখন তাকে স্বাস্থ্য সচিবের পিএস-এর কক্ষে তাকে আটকে রাখা হয়েছিল।
সেই ঘটনার কিছবি এবং ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যাচ্ছে তাকে গলা চেপে ধরে রেখেছেন সচিবালয়ের এক নারী কর্মকর্তা।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদন করার জন্য নানা সময়ে আলোচনায় আসা রোজিনা ইসলামকে সোমবার রাতে শাহবাগ থানায় রাখা হয়েছিল।
পরে মঙ্গলবার সকালে তাকে আদালতে নেয়া হয়। সেদিন জামিন আবেদনের ওপর আংশিক শুনানি হয়েছিল। তবে আদালত রিমাণ্ডে না দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিল।
সাংবাদিকদের প্রতিবাদের মুখে বুধবার সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, তথ্য মন্ত্রী হাছান মাহমুদ এবং আইনমন্ত্রী আনিসুল হক রোজিনা ইসলাম ন্যায় বিচার পাবে বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন।
তবে সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও তথ্য মন্ত্রী হাছান মাহমুদ দুজনই রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নথি চুরির যে অভিযোগ এনেছে সেটিই পুনরুল্লেখ করেছেন।
তবে সরকারের মন্ত্রীরা যাই বলুন, রোজিনা ইসলামকে সচিবালয়ে আটকের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সোমবার বিকেল থেকেই সাংবাদিকরা প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠেন।
বুধবার ঢাকায় প্রেসক্লাবের সামনে, সেগুন বাগিচায় রিপোর্টার্স ইউনিটির সামনে ও কারওয়ান বাজারে সাংবাদিকদের নানা সংগঠন রোজিনা ইসলামের মুক্তির দাবিতে নানা কর্মসূচি পালন করেছে।
ঢাকার বাইরে সারাদেশে সাংবাদিকদের সংগঠনগুলোও মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছে।
ওদিকে জাতিসংঘ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ দেশী বিদেশ নানা সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান রোজিনা ইসলামকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।