আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়েছে সরকারের ভুল নীতির কারণে: মির্জা ফখরুল
- Author, সানজানা চৌধুরী
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে দূরপাল্লার যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ঈদের ছুটি কাটাতে সব বিধি নিষেধ উপেক্ষা করে বাড়ির পথে ছুটে যান অসংখ্য মানুষ।
ফেরিতে না হলে ট্রাক, পিক-আপ, লেগুনা, পণ্য পরিবহনের গাড়ি, এমনকি পায়ে হেঁটেই গন্তব্যের পথ ধরেন তারা।
এভাবে গাদাগাদি করে এক জেলা থেকে আরেক জেলায় যাতায়াত করোনাভাইরাসের সংক্রমণ সামনের দিনগুলোয় আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ঈদের ছুটি শেষে এই মানুষগুলো যখন আবার শহরের দিকে আসতে শুরু করবে তখন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
শুক্রবার ঈদের দিন সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, বিধি নিষেধ অমান্য করার মাসুল মানুষকে দিতে হবে।
তিনি জানান, "ঈদ পরবর্তী শহরমূখী জনস্রোত উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ উপেক্ষা করার মাসুল কিন্তু সবাইকে দিতে হবে।"
আরও পড়তে পারেন:
অন্যদিকে এই পরিস্থিতির জন্য সরকারের যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাব এবং ভুল নীতিকে দুষছে বিএনপি।
সকালে জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত শেষে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করেন যে, সরকার সঠিক কোন পরিকল্পনা ছাড়াই লকডাউন দেয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
মি. আলমগীর বলেন, "সরকারের ভুল নীতির কারণে মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে গেছে। লকডাউন বলছে, কিন্তু কোন লকডাউন পালন হচ্ছে না। গণপরিবহন বন্ধ করা হয়নি। তাদের ভুল নীতির কারণে জনগণের কোন আনন্দ নেই।"
এদিকে, ঈদে যেসব মানুষ এক জেলা থেকে আরেক জেলায় ভ্রমণ করেছেন তারা যেন নিরাপদে যার যার কর্মস্থলে ফিরে আসতে পারে সেক্ষেত্রে দূর পাল্লার যান চলাচলের কোন বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতারা।
দূরপাল্লার যান চলাচলের দাবিতে ঈদের দিনের কর্মসূচিতে তারা এমন মন্তব্য করেন।
এ সময় তারা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে মোট আসনের অর্ধেক যাত্রী নিয়ে দূরপাল্লার পরিবহন চালুসহ পাঁচ দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
দূরপাল্লার এই পরিবহন খুলে দেয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাজাহান খান জানান, তারা এই কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন পরিবহন মালিক এবং যাত্রী সাধারণ উভয়ের স্বার্থের কথা ভেবে।
তিনি একে আন্দোলন বা বিক্ষোভ বলছেন না।
মি. খান বলেন "আমরা আন্দোলন করলে, ধর্মঘটের মতো কর্মসূচি দিতাম। আমরা সেটা করছি না। এই কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা সরকারের কাছে আমাদের নিবেদন জানিয়েছি যে, এই দাবিগুলো আপনারা মেনে নিয়ে আমাদের মালিক শ্রমিকদের রক্ষা করেন অপরদিকে আমাদের যাত্রী সাধারণের যাতায়াতের সুযোগটা অন্তত করে দেন।"
যারা ঈদের ছুটি কাটাতে গ্রামে গেছেন, তারা আবার ফিরে আসবে। এই যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে কয়েকদিনের জন্য হলেও দূরপাল্লার পরিবহন চালু করা জরুরি বলে জানান তিনি।
চলমান লকডাউন পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা দূরপাল্লার পরিবহন খাত বড় ধরণের সংকটের মুখে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শ্রমিক-মালিকরা আয়-উপার্জন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শ্রমিকদের পরিবারগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছে।
এই শ্রমিকরা লকডাউন চলাকালীন সময়ে কীভাবে চলবে, কি ধরনের সহায়তা পাবে, এই ব্যাপারে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন তিনি।
গাবতলি বাস টার্মিনালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাস চালুর দাবিতে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে পরিবহন শ্রমিকরা মহাখালীতে দূরপাল্লার বাস চালু করার দাবিতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির হওয়ায় ঢাকার বাইরে রাজশাহী গাজীপুরসহ আরও কয়েকটি জেলার পরিবহন শ্রমিকরা একযোগে রাজপথে বিক্ষোভ করছেন বলে জানা গেছে।
এতে সমর্থন দিয়েছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনসহ বেশ কয়েকটি সংগঠন।