করোনা ভাইরাস ভ্যাকসিন: সিরাম ইনস্টিটিউট ও কোভ্যাক্স থেকে আগামী মাসে কিছু টিকা পাওয়ার আশা

ভারত করোনাভাইরাসের টিকা রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার পর বাংলাদেশের টিকাদান কর্মসূচীতে সংকট সৃষ্টি হওয়ার প্রেক্ষাপটে আগামী মাসে কিছু টিকা পাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানালেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।

মে মাসে দুটি সূত্র থেকে সব মিলিয়ে একুশ লাখ ডোজ টিকা পাওয়া যাবে বলে জানাচ্ছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা: আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম।

রবিবার তিনি জানান, ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে পাওয়া যাবে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ২০ লাখ ডোজ টিকা। আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বৈশ্বিক উদ্যোগ কোভ্যাক্স থেকে পাওয়া যাবে ফাইজার-বায়োএনটেকের এক লাখ ডোজ।

এদিকে, বাংলাদেশের স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো খবর দিচ্ছে, ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়কে জানিয়ে দিয়েছে যে, ব্যাপক আভ্যন্তরীণ চাহিদা তৈরি হওয়ার কারণে তাদের পক্ষে আর বাইরের কোন দেশকে আপাতত সিরামের তৈরি টিকা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এই খবরটি অবশ্য বিবিসির পক্ষ থেকে নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের কোন বক্তব্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক অধ্যাপক আলম বলছেন, 'অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকাটাই আমরা আশা করছি যে, আমাদের ঘাটতির যেটুক সম্ভাবনা, ২০ লাখ ডোজ, আমাদেরকে বেক্সিমকোর উচ্চতম মহল আমাদের জানিয়েছে যে, তারা এই টিকা এর মধ্যেই এনে দেবে।''

''কোভ্যাক্সের টিকাটা আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে আমাদের দেবে বলে বলেছে। ওখানে ফাইজারের এক লক্ষ ডোজ দেয়ার কথা।'' তিনি জানান।

বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস উপলক্ষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন:

অবশ্য এর একদিন আগে শনিবার বেক্সিমকোর ব্যাবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হাসান সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছিলেন সিরাম থেকে প্রাপ্য টিকার চালান আনার জন্য ভারত সরকারের ওপর চাপ দিতে।

তিনি বলেন, "সিরামকে দেড় কোটি ডোজ টিকার জন্য অগ্রিম অর্থ দিয়েছে বাংলাদেশ, তাই সেটি ভারত আটকাতে পারে না।"

"সরকারের তাদেরকে স্পষ্ট বলা উচিৎ যে আমরা অগ্রিম টাকা দিয়েছি। এটা আমাদের অধিকার। ফোনে কথা বলা নয়। শক্ত স্টেপ নিতে হবে"।

"সিরাম জানিয়েছে যে তারা বাংলাদেশের জন্য ৫০ লাখ ডোজ রেডি করে রেখেছে কিন্তু মিনিস্ট্রি অফ এক্সটারনাল এফেয়ার্স ছাড়পত্র দিচ্ছে না। তাই ভ্যাকসিন আনার বিষয়ে এখন বাংলাদেশ সরকারের চুপ করে থাকার কারণ নেই। " বলেন মি. পাপন।

অ্যাস্ট্রজেনেকা-অক্সফোর্ড উদ্ভাবিত টিকাটি তৈরি করতে ভারতের সেরাম ইন্সটিটিউট। সেখান থেকে তিন কোটি ডোজ টিকা কেনার জন্য বাংলাদেশ চুক্তি করেছে।

তবে ভারত থেকে উপহার হিসাবে পাওয়া ২০ লাখ ডোজ টিকাসহ বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত এক কোটি ২ লাখ ডোজ টিকা পেয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত বাংলাদেশে ৫৭ লাখ ৭৮ হাজার ৬৮৬ জন প্রথম ডোজের টিকা নিয়েছেন, দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ১৯ লাখ ৬৭ হাজার ৯৭৫৪ জন।

বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর: