করোনা ভাইরাস: সময় মতোই পাওয়া যাবে সিরামের টিকা- স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

রাজধানী ঢাকায় একটি টিকাদান কেন্দ্র।

ছবির উৎস, Munni Akter

ছবির ক্যাপশান, রাজধানী ঢাকায় একটি টিকাদান কেন্দ্র।
    • Author, মুন্নী আক্তার
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের টিকার যোগানে টান পড়ার কোন শঙ্কা আপাতত নেই এবং সিরাম ইন্সটিটিউটের কাছ থেকে যে পরিমাণ টিকা কেনা হয়েছে সেগুলো সময় মতোই পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

সংস্থাটির মুখপাত্র নাজমুল ইসলাম জানান, বেক্সিমকোর মাধ্যমে ভারতের সিরাম ইন্সটিটিউট থেকে যে টিকা কেনা হয়েছে সেটি একটি ত্রি-পক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে হয়েছে। তাই সেই টিকাগুলো সময় মতোই পাওয়া যাবে।

তিনি বলেন, "এটি একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি। বিজনেসের এই জায়গাটাতে সবাই তাদের কমিটমেন্ট ঠিক রাখবে সেটাই তো সারা দুনিয়াতেই আশা করা হয়।"

বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের মাধ্যমে ভারতের সিরাম ইন্সটিটিউট থেকে তিন কোটি ডোজ করোনাভাইরাসের টিকা কিনেছে বাংলাদেশ।

চুক্তি অনুযায়ী, মোট ৬ মাসের মধ্যে প্রতি মাসে ৫০ লাখ ডোজ করে টিকা পাঠানোর কথা রয়েছে। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে টিকা এসেছে মাত্র ২০ লাখ। আর চলতি মাসে এখনো টিকার চালান আসার বিষয়ে কোন তথ্য নেই।

এবিষয়ে মি. ইসলাম বলেন, টিকা আসার বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোন তারিখের কথা জানায়নি বেক্সিমকো।

"তবে আমরা আশাবাদী। আমরা চাই আমাদের টিকা ঠিক সময়ে চলে আসুক এবং টিকাদান কর্মসূচীর যে গতিটা আছে সেটা অব্যাহত থাকুক," তিনি বলেন।

এদিকে, সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে অক্সফোর্ড ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার উদ্ভাবিত করোনাইরাস টিকার প্রয়োগ বিশ্বের অনেক দেশে স্থগিত হলেও বাংলাদেশে কর্তৃপক্ষ বলছে, এই টিকার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা স্থগিত করা হয়েছে বুলগেরিয়া, আইসল্যান্ড, থাইল্যান্ড, ডেনমার্ক ও নরওয়েতে। সর্বশেষ এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে নেদারল্যান্ডস।

কোভিড-১৯ এর টিকাদান কেন্দ্র

ছবির উৎস, Munni Akter

ছবির ক্যাপশান, কোভিড-১৯ এর টিকাদান কেন্দ্র

এই ঘটনায় বাংলাদেশের সামাজিক মাধ্যমে কিছু আলোচনা হলেও যারা টিকা নিচ্ছেন তারা জানিয়েছেন যে, এই টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে চিন্তিত নন তারা।

বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকার মিরপুরে একটি ডেন্টাল কলেজে স্থাপিত করোনাভাইরাসের টিকাদান কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে অনেকেই এসেছেন অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনাভাইরাসের টিকা নিতে।

আরো পড়ুন:

এই টিকা কেন্দ্রে আসা অনেকেই বলেছেন যে, পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি নিয়ে তারা চিন্তিত নন। বরং নিজেদের সুরক্ষার তাগিদেই টিকা নিতে এসেছেন তারা।

টিকা নিয়ে বের হয়ে আসা চিত্রা দেওয়ান বলেন, "সবাই দিচ্ছে টিকা। আমাদের চল্লিশের বেশি বয়স হয়ে গেছে। তাই সুরক্ষার জন্য দিচ্ছি।"

একই ধরনের কথাই বলেছেন সীমা চক্রবর্তীও। তিনি জানান, টিকা নিয়ে মোটেই ভীত নন তিনি। "আমার কোন ভয় লাগেনি। এটা তো ভালোর জন্যই দেয়া হচ্ছে। সুরক্ষার জন্য। তাই ভয় নেই।"

প্রতিদিন সকাল নটা থেকে বেলা তিনটা পর্যন্ত টিকা দেয়ার নিয়ম রয়েছে।

তবে, বেলা সাড়ে বারোটার কিছু পরে টিকাদানের এই কেন্দ্রটিতে দেখা যায়, টিকা নিতে এসে অনেকেই টিকা না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

এসএমএস-এর মাধ্যমে পাওয়া বার্তা অনুযায়ী আজই টিকা দেয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত টিকা পাননি তারা।

যাতে ক্ষুব্ধ হওয়ার কথা জানিয়েছেন মিরপুর ১১ নম্বর সেকশন থেকে আসা ইয়াসমীন সুলতানা। তিনি বলেন, "এসে দেখি টিকা নাই। টিকা শেষ।"

টিকা নিতে এসে না পেয়ে ফিরে গেছেন অনেকে।

ছবির উৎস, Munni Akter

ছবির ক্যাপশান, টিকা নিতে এসে না পেয়ে ফিরে গেছেন অনেকে।

টিকাদান কেন্দ্রটির ভ্যাকসিন কর্মসূচীর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিক জানান, প্রতিদিন ৬০০ ডোজ টিকা দেয়ার সক্ষমতা রয়েছে তাদের। সেগুলো শেষ হয়ে গেলে আর দেয়া যায় না।

তিনি জানান, এসএমএস পাওয়ার পরও সেদিন যারা আসেনি তারা আজ আসার কারণে টিকা আগেই শেষ হয়ে গেছে। এমন ঘটনা এর আগেও ঘটেছে।

তবে আজ যারা টিকা পাননি তারা কাল বা পরে যেকোন দিন গেলে টিকা পাবেন বলেও জানান আবু বকর সিদ্দিকী।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র নাজমুল ইসলাম বলেন, নির্ধারিত তারিখেই টিকা পাওয়ার নিয়ম রয়েছে। এর ব্যতিক্রম হলে সেই অভিযোগটি খতিয়ে দেখবেন তারা।

এটাকে বিচ্ছিন্ন একটি ঘটনা বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিটি কেন্দ্রে বুথ অনুযায়ী টিকা দেয়ার একটি সুনির্দিষ্ট মাত্রা রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রতি বুথে প্রতিদিন দেড়শ জনকে টিকা দেয়ার নির্দেশনা রয়েছে। সে সংখ্যা অনুযায়ী, রেজিস্ট্রেশনকারীদের টিকা দেয়ার জন্য এসএমএস পাঠানো হয়। কাজেই টিকা না পাওয়ার কোন কারণ নেই।

বাংলাদেশে গত ৭ই ফেব্রুয়ারি থেকে টিকাদান কার্যক্রম চলছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এখনো পর্যন্ত ৪৫ লাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষ করোনাভাইরাসের টিকা নিয়েছেন। নিবন্ধন করেছেন প্রায় ৬০ লাখ মানুষ।