ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন: কারাবন্দী কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর অবশেষে জামিন দিল হাইকোর্ট

ছবির উৎস, Getty Images
বাংলাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে প্রায় এক বছর আগে আটক হওয়া কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরকে অবশেষে জামিন দিয়েছে ঢাকার হাইকোর্ট।
আজ এক আদেশে কিশোরকে ছয়মাসের জন্য জামিন দেয়া হয়।
তার বিরুদ্ধে গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানো ছাড়াও জাতির জনকের প্রতিকৃতি, জাতীয় সংগীত এবং জাতীয় পতাকাকে অবমাননার অভিযোগ আনা হয়েছিলো।
কার্টুনিস্ট কিশোরের ভাই আহসান কবির বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন যে, উচ্চ আদালত কার্টুনিস্ট কিশোরকে ছয় মাসের জামিন দিয়েছেন।
এর আগে কার্টুনিস্ট কিশোর ও একই মামলার আসামি মুশতাক আহমেদের ছয়বার জামিন আবেদন নাকচ হয়েছিলো আদালতে।
মুশতাক আহমেদ কারাগারে থাকাকালে গত বৃহস্পতিবার মৃত্যুবরণ করেন।
তার মৃত্যুর পর বাংলাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়।
বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:
মামলার এজাহারে যা বলা হয়েছে
মামলার এজাহারে র্যাব দাবি করেছে 'আই এম বাংলাদেশি' নামে একটি ফেসবুক পাতার মাধ্যমে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি বা সুনাম ক্ষুণ্ণ করার বা বিভ্রান্তি ছড়াবোর উদ্দেশ্যে, অপপ্রচার বা মিথ্যা জানা সত্ত্বেও গুজবসহ বিভিন্ন ধরণের পোস্ট দেয়া আছে যা জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে ও আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটায়।
"আই এম বাংলাদেশি পেজ পর্যালোচনায় দেখা যায় পেজটির এডমিন সায়ের জুলকারনাইন এবং আমি কিশোর, আশিক ইমরান, ফিলিপ শুমাখার, স্বপন ওয়াহিদ, মুশতাক আহমেদ নামের ফেসবুক আইডিসহ পাঁচজন এডিটর পরস্পর যোগসাজশে উক্ত ফেসবুক পেজটি পরিচালনা করে আসছে"। লেখা হয়েছে এজাহারে।
এতে আরও বলা হয়, আলামত পর্যালোচনা করে রাষ্ট্রবিরোধী পোস্ট, মহামারি করোনা ভাইরাস, সরকার দলীয় বিভিন্ন নেতার কার্টুন দিয়ে গুজব ছড়িয়ে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির প্রমাণ পাওয়া যায়।

ছবির উৎস, Getty Images
২০২০ সালের ৫ই মে লেখক মুশতাক আহমেদ, কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর, রাষ্ট্রচিন্তার সদস্য দিদারুল ইসলাম ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক মিনহাজ মান্নানকে আটক করে র্যাব।
পরে দিদারুল ইসলাম ও মিনহাজ মান্নান জামিনে মুক্তি পেলেও জামিন পাননি মুশতাক আহমেদ ও কার্টুনিস্ট কিশোর।
এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার মুশতাক আহমেদ কারাগারেই অসুস্থ হয়ে মারা যান।
লেখক মুশতাক আহমেদ ও কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরের জামিনের আবেদনের শুনানির নির্ধারিত দিন সোমবার আদালতে মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর খবর আদালতে আইনজীবীরা অবহিত করেন।
এরপর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলায় আটক কার্টুনিস্ট কিশোরের জামিনের আবেদন করলে আদালত তেসরা মার্চ আদেশ দেয়ার কথা জানান।
এর আগে রোববার তাকে রিমান্ডে নেয়ার আবেদন নাকচ করেছিলো ঢাকার একটি আদালত।

ছবির উৎস, Getty Images
২০২০ সালের মে মাসে বাংলাদেশের পুলিশ কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর এবং লেখক মুশতাক আহমেদকে ঢাকার বাসভবন থেকে গ্রেফতার করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে।
তাদের বিরুদ্ধে "ফেসবুকে করোনাভাইরাস নিয়ে গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানো", "জাতির জনকের প্রতিকৃতি", "জাতীয় সংগীত" এবং "জাতীয় পতাকাকে" অবমাননার অভিযোগ আনা হয়।
কে এই আহমেদ কবির কিশোর?
কিশোর একজন আন্তর্জাতিক পুরষ্কার বিজয়ী কার্টুনিস্ট, যিনি সরকারি কর্মকর্তা ও তাদের নীতির সমালোচনামূলক কার্টুন আঁকার কারণে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন বলে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছিলো।
তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে "লাইফ ইন দ্য টাইম অব করোনা" যা তার ফেসবুক পেজ "আই অ্যাম বাংলাদেশি"তে প্রকাশিত হয়। এতে ক্ষমতাসীন দলের নানা দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সমালোচনা করা হয়।
২০০৫ সালে দেশের একমাত্র কার্টুন ম্যাগাজিন 'উন্মাদ' কার্টুনিস্টদের জন্য পদক প্রবর্তন করে এবং প্রথম এই 'উন্মাদ' পদক পেয়েছিলেন আহমেদ কবির কিশোর।
কার্টুন এঁকেছেন এবং কাজ করেছেন বেশ কয়েকটি জাতীয় দৈনিকের রম্য সাময়িকীতে।
স্বৈরাচার ও জামায়াত-শিবির-রাজাকারবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে কার্টুন প্রদর্শনীতেও অংশ নিয়েছেন।
তার আঁকা কার্টুন নিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও জামায়াত-শিবির-রাজাকারবিরোধী একাধিক প্রদর্শনী হয়েছে।

ছবির উৎস, বিবিসি বাংলা
এ পর্যন্ত তার চারটি বই প্রকাশিত হয়েছে।
শিক্ষাজীবনে খুলনা বিএল কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশের পর বুয়েটে ভর্তি হলেও সেখানকার শিক্ষাজীবন শেষ না করেই যোগ দিয়েছিলেন নৌবাহিনীর অফিসার ক্যাডেট হিসেবে।
তবে সেখানেও চূড়ান্তভাবে না থেকে ফিরে আসেন তিনি।
পরে ধীরে ধীরে কার্টুনের জগতে আসেন তিনি।








