ইন্দোনেশিয়ায় বাঘের হাতে চিড়িয়াখানাকর্মীর মৃত্যু, পলাতক বাঘেদের ভাগ্যে যা ঘটলো

সুমাত্রা বাঘ বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, সুমাত্রা বাঘ বিপন্ন হয়ে পড়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার বোর্নিও দ্বীপের একটি চিড়িয়াখানা থেকে বিপন্ন প্রজাতির দুটি সুমাত্রা বাঘিনী পালিয়ে গেছে। এদের হামলায় চিড়িয়াখানার এক কর্মী নিহত হয়েছেন।

কয়েকদিন ধরে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ভূমিধ্বস হলে সিনকা চিড়িয়াখানার বাঘের খাঁচাটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এক পর্যায়ে ১৮ মাস বয়সী বাঘ দুটি পালিয়ে যায়।

শনিবার ট্রাঙ্কুইলাইজার তীর ছুড়ে অর্থাৎ চেতনানাশক দিয়ে একটি প্রাণীকে ধরা সম্ভব হয়েছে।

কিন্তু অন্য বাঘটি আক্রমণাত্মক আচরণ করায় একে গুলি করে মেরে ফেলা হয়।

এর আগে ওই বাঘটিকে ট্রাঙ্কুইলাইজার তীর ছুড়ে শান্ত করার চেষ্টা করা হলেও সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

শুক্রবার গভীর রাতে প্রাণীগুলি পালিয়ে যাওয়ার পর চিড়িয়াখানার ৪৭ বছর বয়সী এক কর্মীকে বাঘের ঘেরের কাছে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, তার শরীরে কামড়ের ক্ষত এবং আঁচড়ের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে।

আরও পড়তে পারেন:

বাঘ

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, বাঘ

এছাড়া ঘেরের কাছাকাছি একটি উটপাখি এবং একটি বানরসহ বেশ কয়েকটি মৃত প্রাণী পাওয়া যায়।

বাঘ দুটো পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পশ্চিম কালিমন্টানের সিঙকাওয়াং শহরে বড় ধরণের অভিযান পরিচালনা করা হয়।

কাছাকাছি থাকা আকর্ষণীয় পর্যটন স্পটগুলো বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় পুলিশ এবং লোকজনকে বাড়িতে থাকতে বলা হয়।

কর্মকর্তারা দুটি প্রাণীকে জীবন্ত ধরার আশা করলেও একটি বাঘের ওপর গুলি চালাতে বাধ্য হন বলে জানান।

স্থানীয় সংরক্ষণ সংস্থার প্রধান সাদাতা নূর আদিরামন্ত এএফপিকে বলেছেন, "আমরা প্রথমে একটি ট্রাঙ্কুইলাইজার বন্দুক দিয়ে চেষ্টা করেছি কিন্তু এটি কাজ করেনি, তাই আমরা বাঘটিকে গুলি করতে বাধ্য হই। কারণ বাঘটি খুবই আক্রমণাত্মক আচরণ করেছিল"।

"আমরা ভয় পেয়েছিলাম যে এটি হয়তো পালিয়ে আশেপাশের এলাকার দিকে চলে যাবে," তিনি আরও বলেন "যদিও আমরা বাঘটিকে জীবিত অবস্থায় ধরার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি, তবে আমাদের অগ্রাধিকার হল মানুষের সুরক্ষা"

বেঁচে যাওয়া বাঘটিকে চিড়িয়াখানায় ফিরিয়ে নিতে একটি খাঁচা প্রস্তুত করা হয়েছে। সেটার ভেতরে এমন অনেক প্রাণী রাখা হয়েছে যেন বাঘটি সেগুলো শিকার করে খাওয়ার লোভে ভেতরে প্রবেশ করে।

চিড়িয়াখানার চারপাশে ঘন জঙ্গলে পলাতক বাঘেদের খুঁজে বের করতে ড্রোনও ব্যবহার করা হয়েছিল। স্থানীয় পুলিশ প্রধান সিএনএন ইন্দোনেশিয়াকে বলেছেন, "বাঘ দুটিকে খুঁজে পেতে আমাদের বেশ কষ্ট হয়েছিল।"

তবে কর্মকর্তারা ট্রাঙ্কুইলাইজার তীর ছুড়ে একটি বাঘকে জীবিত অবস্থায় ধরতে সক্ষম হন। প্রাণী বিশেষজ্ঞরা এখন চিড়িয়াখানায় নজরদারি করছেন।

সুমাত্রা বাঘ বিপন্ন হয়ে পড়েছে, বনের ভেতরে এই প্রজাতির বাঘের সংখ্যা ৪০০টিরও কম করে ধারণা করা হচ্ছে।

আরো খবর: