মুশফিকুর রহিমকে জরিমানা করলো বিসিবি

বঙ্গবন্ধু টি টোয়েন্টি কাপের একটি ম্যাচে সতীর্থের সাথে মারমুখী আচরণের শাস্তি হিসেবে ম্যাচ ফির ২৫ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে মুশফিকুর রহিমকে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মুশফিক খেলার মধ্যে নিজ দলের খেলোয়াড়ের প্রতি অসম্মানজনক আচরণ করেছে বলে দেখা গেছে।

মুশফিকের আচরণে একটি ডিমেরিট পয়েন্টও যোগ করা হয়েছে।

চার ডিমেরিট পয়েন্ট হলে মুশফিককে এক ম্যাচ নিষিদ্ধ করা হবে।

এই ঘটনায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড মুশফিককে আনুষ্ঠানিকভাবে সতর্ক করে দিয়েছে।

মুশফিকের আচরণ বিসিবির আচরণবিধির লেভেল-১ এ পড়েছে এই ক্ষেত্রে শাস্তি আনুষ্ঠানিক সতর্কতা থেকে শুরু করে ম্যাচ ফির ৫০ শতাং জরিমানা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

মাঠে উপস্থিত আম্পায়ার গাজী সোহেল এবং মাহফুজুর রহমান এবং তৃতীয় ও চতুর্থ আম্পায়ারের প্রতিবেদন অনুযায়ী ম্যাচ রেফারি রকিবুল হাসান এই শাস্তি দেন মুশফিকুর রহিমকে।

সকালে ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি দেন মুশফিকুর রহিম

"প্রথমত আমি গতকালের ম্যাচে যে ঘটনা ঘটেছে তার জন্য ভক্ত ও দর্শকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি," এভাবে নিজের ফেসবুক পাতায় একটি বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম।

ওই পোস্টে তিনি ঢাকার দলের খেলোয়াড় নাসুম আহমেদের সাথে একটি ছবি দেন।

বাংলাদেশ জাতীয় দলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় এবং সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের এই ক্ষমা প্রার্থনা সোমবার ক্রিকেট মাঠে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে।

ওই ঘটনার যে ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে দেখা যায় যে ফিল্ডিং করার সময় উইকেট-কিপার মুশফিক তার সহ-খেলোয়াড়ের দিকে তেড়ে যাচ্ছেন। আর এরপর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয় মুশফিকের আচরণ নিয়ে।

ফেসবুক পোস্টে এই তারকা খেলোয়াড় বলেন, আমি আমার সতীর্থ নাসুম আহমেদের কাছে ইতোমধ্যে ক্ষমা চেয়েছি। আমি সর্বশক্তিমানের কাছেও ক্ষমাপ্রার্থী।

"আমি বিশ্বাস করি আমার অঙ্গভঙ্গি গ্রহণযোগ্য ছিল না। আমি কথা দিচ্ছি মাঠে বা মাঠের বাইরে আমি এমন আচরণের পুনরাবৃত্তি করবো না।"

আরো পড়ুন:

কী হয়েছিল মাঠে

বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের প্রথম এলিমিনেটরে ঢাকার অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমকে দেখা যায় দু'বার তিনি তার সতীর্থ নাসুম আহমেদের দিকে হাত তুলে মারমুখী ভঙ্গি করছেন।

প্রথমবার দ্বিতীয় ইনিংসের ১৩তম ওভারে - সে সময় নাসুমের করা বল সার্কেলের ভেতরে ঠেলে দিয়ে রান নেন ফরচুন বরিশাল দলের আফিফ হোসেন। নাসুম ও মুশফিকুর রহিম দু'জনেই বলটি ধরতে ছুটে যান।

এরপর দেখা যায় মুশফিক বল ধরেই মারের মতো ভঙ্গি করছেন নাসুমের দিকে।

এরপর তাকে স্ট্যাম্পের পেছনে থাকতে ইশারা করেন মুশফিকুর রহিম।

পরে ১৭তম ওভারে আফিফ হোসেন পুল করলে বল শর্ট ফাইন লেগের দিকে বল যায়, মুশফিকুর রহিম বলটি ধরতে দৌঁড় দেন।

ওই একই জায়গায় ফিল্ডার ছিলেন নাসুম আহমেদ। তিনিও বলটি ধরতে যান প্রথমে, কিন্তু পরে মুশফিককে দেখে পিছিয়ে যান। তখন মুশফিক ক্যাচটি ধরে নাসুমের দিকে আবারও একই ভাবে মারার ভঙ্গি করেন।

এরপর ক্রিকেট ফ্যানরা সামাজিক মাধ্যমে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখান। বেশিরভাগ সমর্থক তার নিন্দা জানান, তবে তার প্রতি সমর্থনসূচক বাক্যও ছিল অনেক ভক্তের কাছ থেকে।

নাসুম আহমেদ বিবিসি বাংলাকে কী বলেন

বিবিসি বাংলার সঙ্গে কথা বলার সময় মুশফিকুর রহিমের সতীর্থ নাসুম আহমেদ এ নিয়ে খুব বেশি খোলাসা করে কিছু বলতে চাননি।

তার সাথে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "ম্যাচে কিছুই হয়নি। আমরা খেলেছি, জিতেছি। এর বাইরে যেটা হয়েছে সেটা ম্যাচের মধ্যে রাগের মাথায় হতেই পারে।"

"পার্ট অফ দ্য ম্যাচ" - ঘটনাটিকে এভাবেই দেখতে চেয়েছেন নাসুম আহমেদ। তিনি বলেন, এখানে খুব গুরুতর কিছু হয়নি। যা হয়েছে মাঠে এগুলো হয়ই।

এর আগে নাসুম আহমেদ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের স্কোয়াডে ডাক পেয়েছিলেন। জাতীয় দলের হয়ে না খেললেও, নির্বাচকদের রেডারে আছেন এই স্পিন বোলার।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বা টুর্নামেন্ট কর্তৃপক্ষ থেকে অবশ্য এখনও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য আসেনি।