এডিটার'স মেইলবক্স: বিবিসি ১০০ নারী নিয়ে প্রশংসা, সাকিব আর মোদী নিয়ে প্রশ্ন

রিনা আক্তার
ছবির ক্যাপশান, রিনা আক্তার: যৌন কর্মী থেকে সমাজ সেবক।
    • Author, সাবির মুস্তাফা
    • Role, সম্পাদক, বিবিসি নিউজ বাংলা

গোটা বিবিসিতে এই সপ্তাহে ১০০ নারী শিরোনামে একটি ব্যাপক অনুষ্ঠানমালা হচ্ছে, যা ২০১৩ সাল থেকে প্রতি বছর হয়ে আসছে। বিবিসি বাংলায় এ'প্রসঙ্গে কয়েকটি রিপোর্ট, সাক্ষাতকার করা হয়েছে, যা নিয়ে কয়েকটি চিঠি এসেছে।

প্রথমে লিখেছেন রংপুর থেকে দেব প্রসাদ রায়:

''গত ২৪শে নভেম্বর "করোনাভাইরাস লকডাউনের সময় উপার্জনহীন যৌনকর্মীদের খাওয়াতেন রিনা আক্তার" শিরোনামে বিবিসি'র গুরুত্বপূর্ণ ভিডিওটি চোখে পড়ল। তিনি যা করেছেন তা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করার অভিজ্ঞতা আমার নেই। সমাজে এখনো এমন মহান ব্যক্তি আছেন বলেই টিকে আছি আমরা। শ্রদ্ধা এবং স্যালুট জানাই রিনা আক্তারকে।''

তালিকায় যাদের নাম আছে এমন কয়েকজন
ছবির ক্যাপশান, বিবিসি ১০০ নারী, রিনা আক্তারের সাথে তালিকায় যাদের নাম আছে এমন কয়েকজন।

রিনা আক্তারের প্রশংসা করে আরো লিখেছেন ঢাকার ধানমন্ডি থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামল:

''বিবিসি ১০০ নারী, এবারের তালিকায় যে দু'জন বাংলাদেশি নারী রয়েছে তাদের ব্যাপারে জানলাম। এখানে রিনা আকতার খুবই প্রশংসার এবং চ্যালেঞ্জিং বিষয় নিয়ে কাজ করছেন। কেননা, বাংলাদেশের মতো দেশে যেখানে যৌনকর্মীদের পরিচয় দেয়ার মতো পরিবেশ নেই এবং যাদের উপর আক্রমণ-হামলার আশংকা থেকেই যায়, তাদের নিয়ে প্রকাশ্যে একজন নারী কাজ করছেন তা সত্যিই সাহসের এবং প্রশংসার। তিনি নিজেও একজন যৌনকর্মী ছিলেন এবং নিজের জীবনের দুঃখ-কষ্ট, সুযোগ-সুবিধা এবং সামাজিক হেয়প্রতিপন্ন হবার কথা অনুভব করে এ কাজে এগিয়ে এসেছেন জেনে ভাল লাগলো। আমি তাকে স্যালুট জানাই।''

সাহেদা বেগম: কৃষি ব্যবসায় সফল।
ছবির ক্যাপশান, সাহেদা বেগম: কৃষি ব্যবসায় সফল।

বিবিসি বাংলায় আরো একজন নারীর কথা বুধবার রেডিওতে বলা হয়েছে, যাকে নিয়ে ছোট একটি চিঠি লিখেছেন সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে গাজী মোমিন উদ্দিন:

''ফরিদপুরের পেঁয়াজের বীজ উৎপাদনকারী নারী সাহেদা বেগম চার কোটি টাকা মূল্যমানের বীজ সংরক্ষণ করায় তোলপাড়। খবরটি বিবিসিতে প্রচার হওয়ায় আমরা আনন্দিত। অনুপ্রেরণা দায়ক এই খবরটি খুবই আশাব্যঞ্জক। সাহেদা নামের এই উদ্যোক্তাকে স্যালুট।''

আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ মি. রায়, শামীম উদ্দিন শ্যামল এবং গাজী মোমিন উদ্দিন। রিনা আক্তার যে অসাধারণ একটি কাজ সাহসিকতার সাথে করে যাচ্ছেন তা নিয়ে কোন সন্দেহ। আর অন্যদিকে রংপুরের সাহেদা বেগম পুরুষ-শাসিত ব্যবসা জগতে নিজ প্রচেষ্টায় বড় সাফল্য অর্জন করছেন, সেটা প্রশংসার দাবি রাখে।

তবে ১০০ নারী মৌসুমে আরো কয়েকজনের কাহিনী অনুপ্রেরণা হিসেবে আমাদের পরিবেশনায় তুলে ধরা হয়েছে, যেমন প্রাক্তন ক্রিকেট খেলোয়াড় আরিফা জাহান বীথি এবং করোনাভাইরাস মহামারির শুরুতে যিনি বাংলাদেশে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন, অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা (ভিডিও দেখুন)।

ভিডিওর ক্যাপশান, সেব্রিনা ফ্লোরা: করোনা মহামারির সময়ে যেভাবে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেন

সমাজে সাফল্য আর অর্জন থেকে এবার দৃষ্টি দেই সংকটের দিকে। আর সেটা হচ্ছে মিয়ানমার এবং বাংলাদেশের মধ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থী নিয়ে বিবাদ। রোহিঙ্গাদের নিয়ে আমাদের অনুষ্ঠানে যে সব খবর সম্প্রতি দেয়া হয়েছে, তা নিয়ে মোটেই খুশি নন সন্দ্বীপের মুহাম্মদ শামিমুল হক মামুন:

''চব্বিশে নভেম্বর বিবিসি বাংলার একটি প্রতিবেদন ছিল, রোহিঙ্গাদের ভাসান চরে নেয়ার প্রশ্নে অনিশ্চয়তা কাটছে না। স্থানান্তরের তারিখ ও ঠিক হয়নি। এর আগে ২১শে অক্টোবর আরো একটি প্রতিবেদন ছিল, আলিশান ভবন থেকে ক্লাস্টার হাউজ যা আছে, যা নেই বঙ্গোপসাগরের এই দ্বীপে। তারও আগে ৬ই অক্টোবরের একটা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে প্রথম বারের মতো ভাসান চর দেখতে হাজির রোহিঙ্গা প্রতিনিধি দল। এ ছাড়া পহেলা অক্টোবরের বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন ছিল, বাংলাদেশের ভাসানচরে শরণার্থীদের মারধর এবং নির্যাতনের অভিযোগ।

''আমার কথা হচ্ছে রোহিঙ্গাদের জন্য বিবিসি বাংলার এতো মায়া কেন ? তিন বছর আগে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর তাণ্ডবে ১২ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এতে করে, কক্সবাজার সহ চট্টগ্রাম তথা বাংলাদেশ কি ক্ষতি হচ্ছে তার কোন ধারাবাহিক প্রতিবেদন বিবিসি বাংলায় দেখলাম না।''

জাহাজ
ছবির ক্যাপশান, বড় জাহাজ ছাড়া ভাসানচরে যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ

ব্যাপারটাকে আমি মায়া কান্না বলবো না মি. হক। আপনার হয়তো মনে আছে, ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানের এক কোটি বাঙালি ভারতে আশ্রয় নিলে তাদের নিয়ে বিশ্ব গণমাধ্যমে ব্যাপক আগ্রহ ছিল, শত শত রিপোর্ট হয়েছে। একই ভাবে, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অত্যাচার থেকে বাঁচতে এই রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের জীবন-জীবিকা, ভাল-মন্দ নিয়ে বিশ্বব্যাপী প্রবল আগ্রহ আছে। আমাদের রিপোর্টিং এর মাধ্যমে আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করছি মাত্র।

আর রোহিঙ্গাদের আগমনের কারণে কক্সবাজার এলাকার কী ক্ষতি হয়েছে তা নিয়ে বিবিসি বাংলায় একাধিক রিপোর্ট হয়েছে, যেমন পরিবেশগত ক্ষতি, অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি, নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি, সব কিছু নিয়েই রিপোর্ট করা হয়েছে। কিন্তু শরণার্থী হিসেবে রোহিঙ্গাদের যে মানবাধিকার আছে, সেটা মাথায় রেখেই আমরা রিপোর্ট করি।

কলকাতার সেই পূজামন্ডপে সাকিবকে স্বাগত জানিয়ে পোস্টার

ছবির উৎস, Subrata Acharjee

ছবির ক্যাপশান, কলকাতার সেই পূজামন্ডপে সাকিবকে স্বাগত জানিয়ে পোস্টার

আমাদের আরেকটি রিপোর্ট নিয়ে অনেক কথা হয়েছে, এবার প্রীতিভাজনেসুতে আমার এক উত্তর নিয়ে আপত্তি। গত সপ্তাহে কলকাতার একটি পূজা অনুষ্ঠানে সাকিব আল-হাসানের উপস্থিতি নিয়ে দু'টো চিঠির উত্তর দিয়েছিলাম। আমার উত্তর মন:পূত হয়নি জানিয়ে লিখেছেন মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল-আবিদ:

''সাকিবের পূজা উদ্বোধনের নিয়ে আপনারা যেভাবে খবর প্রচার করছে আমার তো মনে হয় আপনারা আরো উস্কে দিচ্ছেন মুসলিমদের, সাকিব পূজা উদ্বোধন করতে পারবে কিনা এটা যদি আপনাদের প্রশ্ন হয়, তাহলে আমার ও একটা প্রশ্ন ভিরাট কোহলি কি পারবে মুসলিমদের কুরবানির ঈদে গরু কোরবানি সময় উপস্থিত থাকতে? আশা করি জানাবেন।''

আপনি যদি আমার উত্তরটা আরেকটু মনোযোগের সাথে শোনেন বা পড়েন, তাহলে দেখবেন আমি পূজা উদ্বোধন নিয়ে কোন মন্তব্য করি নি। পূজার আয়োজকরাই বলেছেন, সাকিব আল-হাসান পূজা উদ্বোধন করেননি, সেখানে তিনি একজন অতিথি হিসেবে ছিলেন। আমিও সে'কথাই বলেছি। আমি আরো বলেছি, বাংলাদেশ বা পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের পূজার অনুষ্ঠানে যাওয়া নতুন বা অদ্ভুত কোন বিষয় নয়। অনেক মুসলমানই পূজার সামাজিকতা উপভোগ করার জন্য মণ্ডপে যেয়ে থাকেন। তাতে তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসে কোন ক্ষতি হয় না।

তবে ভিরাট কোহলি গরু জবাই দেখতে যাবেন কি না, সেটা আমার পক্ষে বলা সম্ভব না। আরেকটা বিষয় হচ্ছে, কোরবানি ঈদে গরু জবাইকে 'অনুষ্ঠান' বলা যাবে কি? আমার তা মনে হয় না। ছোট বেলা থেকে গরু জবাই দেখেছি কিন্তু সেখানে কোন আমন্ত্রিত অতিথি দেখি নি।

জোর করে যৌন সম্পর্ক মানেই ধর্ষণ

ছবির উৎস, Tinnakorn Jorruang / EyeEm

ছবির ক্যাপশান, জোর করে যৌন সম্পর্ক মানেই ধর্ষণ

এবারে ভিন্ন প্রসঙ্গে যাই। ধর্ষণের সংজ্ঞা নিয়ে প্রশ্ন করে লিখেছেন ঢাকা থেকে তাঞ্জিলুর রহমান:

''বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ আর পরে তা আপোষ করা নিয়ে প্রতিবেদন শুনলাম। যদিও এখানে আপোষের সুযোগ নেই, কিন্তু বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের কথার মধ্যেই আসলে আইনের ফাঁক রয়েছে। জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক মানেই ধর্ষণ, তাহলে বিয়ের প্রলোভন মানে কী? এর মানে কী এই, যে বিয়ের কথা বলে বিয়ের আগেই জোর করে সম্পর্ক করা? নাকি বিয়ের কথা বলে ব্যভিচার করা আর তারপর বিয়ে করতে রাজি না হলে সেটা ধর্ষণ হয়ে যাওয়া?''

এখানে আমি নিজেও বেশ বিভ্রান্তিতে আছি মি রহমান। আমার কাছে জোর করে যৌন সম্পর্ক মানেই ধর্ষণ - সে বিয়ের আগে হোক, পরে হোক, মাঝখানে হোক। ধর্ষণকারী একজন অপরাধী, তার বিচার হবার কথা, দোষ প্রমাণিত হলে তার শাস্তি হবার কথা। সেখানে ভিকটিমের সাথে বিয়ের কথা কীভাবে আসে তা আমার বোধগম্য নয়। আর প্রলোভনের ব্যাপারে যত টুকু বুঝি, মেয়ের যখন যৌন সম্পর্কে সম্মতি না থাকে, তখন তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজি করানো হয়। সেখানে শারীরিক সহিংসতা না থাকলেও, মানসিক প্রতারণা এবং নির্যাতন জড়িত আছে।

ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মানমোহান সিং-এর সাথে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, ১৮-১১-২০১১

ছবির উৎস, SAUL LOEB

ছবির ক্যাপশান, ভূয়সী প্রশংসা: ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মানমোহান সিং-এর সাথে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।

এবারে আন্তর্জাতিক বিশ্বের একটি আলোচিত বিষয় নিয়ে চিঠি। প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আত্মজীবনী সম্প্রতি প্রকাশ করা হয়েছে। সেই আত্মজীবনী নিয়ে বিবিসির রিপোর্ট-এর যে শিরোনাম ছিল, তা নিয়ে আপত্তি করেছেন ভারত থেকে অর্ক রায়:

''কয়েকদিন আগে বিবিসি বাংলার পেজে একটি নিউজ দেখলাম যার শিরোনাম ছিল, ''বারাক ওবামা তার বইতে মনমোহন সিং সম্বন্ধে ভূয়সী প্রশংসা করলেও নরেন্দ্র মোদী সম্পর্কে কোন কথা নেই''। একটা বিষয় লক্ষ করেছি যখন থেকে নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন বিবিসি বাংলা তার সম্পর্কে শুধু সমালোচনামুলক পোস্টই দিয়ে যাচ্ছে।

''বারাক ওবামা তার সেই বইতে রাহুল গান্ধিকে একজন অগোছালো ও অসংবেদনশীল নেতা বলে উল্লেখ করেছেন কিন্তু সেটার উল্লেখ বিবিসি বাংলা ইচ্ছে করেই করেনি। মুম্বাই- এ ২৬/১১র হামলার পর মনমোহন সিং পাকিস্তানের উপর কোন ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্তও নিতে চাননি বলে বারাক ওবামা তার বইতে লিখেছেন। কিন্তু সেসব কোন বিষয়ই বিবিসি বাংলাতে আসল না কিন্তু তিনি মোদীকে নিয়ে কেন কিছু লিখলেন না সেটাই বিবিসি শিরোনাম হয়ে গেল।''

ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাথে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, ০৭-০৬-২০১৬।

ছবির উৎস, Pool

ছবির ক্যাপশান, আত্মজীবনীতে অনুপস্থিত: ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাথে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।

কোন বিখ্যাত ব্যক্তির আত্মজীবনীতে অনেক বিষয় থাকে মি. রায়, কিন্তু তার দু'একটি বিষয় শিরোনামে আনা যায়। সেরকম আত্মজীবনী নিয়ে রিপোর্ট করতে গেলে অজানা তথ্য বা অবাক করার মত কোন মন্তব্য দিয়েই শিরোনাম করা হয়। রাহুল গান্ধি ভারতের প্রধানমন্ত্রী না, দক্ষিণ এশিয়ায় তিনি এখনো কোন বিশাল নেতা হয়ে উঠতেও পারেননি। অন্যদিকে, নরেন্দ্র মোদী ভারতের শুধু প্রধানমন্ত্রী নন, তাঁকে বিশ্বের সব চেয়ে আলোচিত নেতাদের মধ্যে অন্যতম বললেও ভুল হবে না।

কাজেই, সেই মি. মোদীকে নিয়ে যখন বারাক ওবামা কোন কথাই বলেন নি, তখন সেটা আশ্চর্য করার মত বিষয়ই বটে, বিশেষ করে তিনি যখন মি.মোদীর পূর্বসূরি মানমোহান সিং-এর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। সেজন্য মি. ওবামার বই-এর এই দুই দিককেই আমরা সব চেয়ে বেশি শিরোনাম যোগ্য বলে গণ্য করেছি।

আমাদের ফোন-ইন অনুষ্ঠানে ভারতীয় শ্রোতাদের অংশ গ্রহণ না করার বিষয়ে জানতে চেয়ে লিখেছেন পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ থেকে দীপক চক্রবর্তী:

''বিবিসি তিন দিন ফোন-ইন করছে এবং যারা অংশগ্রহণের জন্য মেসেজ করে তারাই কথা বলে। তাহলে কি ভারতের শ্রোতারা মেসেজ করে না? ভারতের শ্রোতাদের ফোন দেয়া কি বন্ধ? না হলে ফোন কি করা যাবে না?''

ভারতের শ্রোতারা অবশ্যই ফোন করতে পারেন মি. চক্রবর্তী। কিন্তু ভারত থেকে খুব একটা মেসেজ আসে বলে আমার মনে হয় না। হয়তো শনিবারের বিষয়-ভিত্তিক ফোন-ইনে অংশগ্রহণের খুব একটা আগ্রহ তাদের থাকে না, কারণ বিষয়গুলো সাধারণত বাংলাদেশের ঘটনাকে ঘিরে বাছাই করা হয়। তবে করোনাভাইরাস বা সাধারণ স্বাস্থ্য বিষয়ক ফোন-ইন গুলো কোন দেশ-ভিত্তিক হয় না।

ফোন ইন নিয়ে আরেকটি প্রশ্ন করেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:

''মাঝে মধ্যে ফোন-ইন অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ফোন-ইনের বিষয়টি জানিয়ে দেবার পর ফোন-ইন অনুষ্ঠানে যোগ দেবার জন্য মোবাইল ফোন নম্বরটি জানিয়ে দিয়ে বলেন, অনুষ্ঠানে যোগ দিতে চাইলে নাম ঠিকানা লিখে মেসেজ পাঠাতে পারেন। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, ফোন-ইন অনুষ্ঠান শুরুর পর ঐ ফোন-ইন অনুষ্ঠানে যোগ দেবার জন্য কোনো শ্রোতা যদি মেসেজ পাঠান তবে ঐ শ্রোতা বন্ধুকে ঐ দিনের ফোন-ইনে অংশ গ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া কি সম্ভব?''

ভাল পয়েন্ট তুলেছেন মি. সরদার। সহজ উত্তর হচ্ছে, না সম্ভব না। তবে উপস্থাপক ফোন-ইনে অংশগ্রহণের নাম্বার এবং পদ্ধতি ঘোষণা দেয় যাতে সব শ্রোতা তা জানতে পারেন এবং পরবর্তীতে অংশগ্রহণ করতে চাইলে কী করতে হবে, তা জেনে নেন।

বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা, প্রবাহ পরিবেশন করছেন মিজান খান।
ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা, প্রবাহ পরিবেশন করছেন মিজান খান।

সব শেষে, আমাদের অনুষ্ঠান প্রচার সময় নিয়ে লিখেছেন ঢাকার দক্ষিণ বনশ্রী থেকে এমদাদুল হক বাদশা:

''গত প্রায় এক বছর যাবত বিবিসির সকালের অনুষ্ঠান প্রত্যুষা ও প্রভাতী এক সাথেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এর ফলে, বাংলাদেশের অধিকাংশ মুসলমান মননশীল শ্রোতাই বর্তমানে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় প্রবাহ অনুষ্ঠান শুনতে পারছেন না, কারণ এখন এশার নামাজের জামাত শুরু হচ্ছে সাড়ে সাতটায়। হাদিসে আছে, যে লোক ফজর ও এশার নামাজ জামাতে পড়বে তিনি সারা রাত্র ঘুমিয়ে থেকেও রাত জেগে এবাদতের নেকী পাবেন।

''আপনারাই বলুন, মহান আল্লাহ পাকের এত বড় হুকুম ছেড়ে কি করে শুধু বিবিসি শোনার জন্যই এবাদত নষ্ট করা উচিত? তাই বাংলাদেশের বৃহত্তর শ্রোতাদের সুবিধার্থে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার প্রবাহ অনুষ্ঠান বাদ দিয়ে হলেও সকালের প্রত্যুষা অথবা প্রভাতী অধিবেশন চালু করা হোক। নতুবা আপনারা আমাদের এবাদত বিনষ্ট করার দোষে দুষ্ট হবেন।''

আপনার শেষ বাক্যটি আমার কাছে কোন ভাবেই গ্রহণযোগ্য না মি. হক। আপনার এবাদত কোন কারণে নষ্ট হলে তার দায়িত্ব আপনি বিবিসির ঘাড়ে চাপাতে পারেন না। বিবিসি বাংলা ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় প্রবাহ অনুষ্ঠান প্রচার করে আসছে। এই পাঁচ দশকে কত কোটি বাংলাভাষী মানুষ বিবিসি শুনেছেন, তার হিসাব আমার কাছে নেই, কিন্তু এটুকু বলতে পারবো, কেউ আজ পর্যন্ত তাদের নামাজ নষ্ট হবার জন্য বিবিসিকে দায়ী করেন নি। কোন নির্দিষ্ট সময়ে আপনি কী করবেন, সেটা একান্ত আপনার নিজ সিদ্ধান্ত।

এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:

ওয়ারেছ আলী খান, নরসিংদী সদর, নরসিংদী

মুস্তোফা আজিজ আহমেদ, ঢাকা।

বাপ্পী গোলাম, ঢাকা।

মোহাম্মদ ফাতিউর রহমান রাকিব, দুর্গাপুর, রাজশাহী।

মোহাম্মদ মাসুদ রানা, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।

মুজতাবা মাহমুদ নকীব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।