ভারতে ধর্ষণ: যৌন সহিংসতার শিকার নারীরা কি বিচার পাচ্ছে? তিনজন নারীর অভিজ্ঞতা

- Author, দিভ্যা আরিয়া
- Role, বিবিসি নিউজ
ভারতে প্রায়শই এমন ভয়াবহ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে যা ভারতে তো বটেই এমনকি আন্তর্জাতিকভাবেও খবরের শিরোনাম হয়ে ওঠে।
দিল্লিতে ২০১২ সালে নির্মম গণধর্ষণের ঘটনার পর ভারতে ধর্ষণ মোকাবেলায় আইন আরও কঠোর করা হয়েছে এবং ওই ঘটনার পর থেকে পুলিশের কাছে ধর্ষণের ঘটনা জানানোর সংখ্যাও অনেক বেড়েছে।
অনেকে বলছেন এর কারণ নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার বিষয়টিকে এখন অনেক বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। আবার কেউ কেউ মনে করেন সরকার আইনে সংস্কার এনে এর সাজা মৃত্যুদণ্ড করায় ধর্ষণের খবর বেশি জানা যাচ্ছে।
তবে কোন কোন বিশেষজ্ঞ বলছেন এসব জনপ্রিয় পদক্ষেপ ফাঁকা বুলির মত। সমস্যার শিকড় অনেক গভীরে এবং সেদিকে আসলে নজর দেয়া হচ্ছে না।
বিবিসির ১০০ নারী মৌসুমে বিবিসি কথা বলেছে তিনজন নারীর সাথে, যারা বলছেন ভারতের কঠোর আইনও কেন ধর্ষণের শিকার নারীদের জন্য ব্যর্থ হচ্ছে।

মেয়েদের ঝুলন্ত লাশ
আজও মানুষের কাছে এই গ্রামের পরিচয় হল 'সেই গ্রাম যেখানে গাছে মেয়েদের ঝুলন্ত লাশ পাওয়া গিয়েছিল'।
ছয় বছর আগে দু্ই কাজিন বোনের মৃতদেহ পাওয়া যায় আম গাছের ডালে ঝুলন্ত অবস্থায়। একজনের বয়স ছিল ১২, অন্যজনের ১৫। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল তাদের ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে।
দিল্লিতে ২০১২ সালের গণধর্ষণের ঘটনার পর এটাই ছিল প্রথম আরেকটি চাঞ্চল্যকর ধর্ষণের ঘটনা। ছয় বছর পরেও ওই ঘটনার ভয়াবহতা এখনও এলাকার মানুষের কাছে ফিকে হয়ে যায়নি।
উত্তর প্রদেশের বাদায়ুন জেলায় পৌঁছে সরু রাস্তা ধরে গাড়ি নিয়ে এগোনর সময় পথচারীদের কাছে গ্রামের নিশানা জানার জন্য থেমেছিলাম। সাথে সাথেই কোন্ গ্রামে যাবার পথ খুঁজছি, তারা বুঝতে পেরে পথ দেখিয়ে দিলেন।
বাদায়ুনের ওই পরিবারের বিচারের জন্য লড়াইটা বেশ কঠিনই ছিল।
আরও পড়তে পারেন:

'প্রকাশ্যে ফাঁসিতে ঝোলানো উচিত'
পরিবারের সাথে আমার কথা হয় ২০১৪ সালে। একজন কিশোরীর বাবা আমার সাথে কথা বলেন সেই গাছটির নিচে বসে যে গাছে তিনি তার মেয়ে ও তার কাজিন বোনের ঝুলন্ত মৃতদেহ দেখতে পান।
তিনি বলেন তিনি তখন ভয় পেয়েছিলেন কারণ স্থানীয় পুলিশ তাকে ব্যঙ্গবিদ্রূপ করেছিল এবং সাহায্য করতে চায়নি।
তিনি চেয়েছিলেন প্রতিশোধ। "আমাদের মেয়েদের ওপর যারা এই কাজ করেছে, তাদের ঠিক এইভাবে প্রকাশ্যে ফাঁসিতে ঝোলানো উচিত- ঠিক যেভাবে তারা আমাদের মেয়েদের ঝুলিয়েছে।"
আইন কঠোর হওয়ার কারণে নারীর জন্য এখন পুলিশের কাছে অভিযোগ নথিভুক্ত করার বিষয়টা এখন সহজ হয়ে যাবার কথা।
ধর্ষণের দায়ে এখন মৃত্যুদণ্ডের বিধান আনা হয়েছে, এবং দ্রুত বিচার আদালত গঠন করা হয়েছে।

আইনে বলা আছে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের ওপর ধর্ষণের যে কোন মামলা এক বছরের মধ্য শেষ হতে হবে।
কিন্তু তা সত্ত্বেও দেখা যায় ধর্ষণের মামলা গড়াতেই থাকে।
ধর্ষণের লক্ষ মামলা অমীমাংসিত
দু হাজার তেরো সালের শেষে ৯৫ হাজার ধর্ষণের মামলা অমীমাংসিত ছিল, ২০১৯এর শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৪৫ হাজারে। এটা সরকারের সর্বসাম্প্রতিক হিসাব।
বাদায়ুনের ধর্ষিতা কিশোরীর বাবা এখনও কঠিন আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তার শরীর ভেঙে গেছে, বয়সের তুলনায় বেশি বৃদ্ধ লাগে তাকে। তিনি জানেন বিচারের এই পথ দীর্ঘ এবং তাকে লড়তে হবে একা- কিন্তু তিনি হাল ছাড়তে রাজি নন।
"আইনে বলা আছে মামলার দ্রুত শুনানি করতে হবে, কিন্তু আদালত কানে তুলো দিয়ে বসে আছে। আবেদনেও ফল হয় না। অনেকবার আদালতে গেছি, গরীব মানুষদের জন্য বিচার নেই," তিনি বলেন।
তদন্ত কাজ দ্রুত শেষ করে দেয়া হয়েছে। তদন্তকারীরা বলেছে ধর্ষণ ও হত্যার পক্ষে যথেষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই সন্দেহভাজনদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে এই তদন্তের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে। নতুন করে মামলা করা হয়েছে। কিন্তু আদালত বলছে তারা শুধু নির্যাতন ও অপহরণের মামলা নিতে রাজি আছে, যেটা লঘু অপরাধ। কিন্তু পরিবার চাইছে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করতে।

ভারতের বিচার ব্যবস্থায় অর্থ ও লোকবলের অভাব।
বাদায়ুনের মামলা নেয়া হয়েছে দ্রুত বিচার আদালতে, কিন্তু তাদের আইনজীবী জ্ঞান সিং বলছেন সেখানে বিচার প্রক্রিয়ার সুবন্দোবস্ত নেই।
"দ্রুত বিচার আদালতের উদ্দেশ্য হল মামলা দ্রুত সম্পন্ন করা, কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই ময়না তদন্তের এবং অন্যান্য রিপোর্ট সময়মত আসে না। ডাক্তার বা তদন্তকারী কর্মকর্তারা বদিলি হয়ে যান। এছাড়াও সাক্ষীদের আদালতে আনতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়," তিনি বলেন।
চারপেয়ে খাটিয়ার ওপর বসে কিশোরীর বাবা বছরের পর বছর ধরে জমে ওঠা পাহাড়প্রমাণ নথিপত্র ও ফাইল আমাকে দেখাচ্ছিলেন।
তার স্ত্রী ন্যায়বিচারের আশায় বসে আছেন। বলছিলেন, "আশা করি আমাদের জীবদ্দশায় দেখে যেতে পারব যে ধর্ষিতারা ন্যায়বিচার পেয়েছে।"
'বাবা-মা আমার ছেলেবন্ধুকে জেলে পাঠিয়েছে'
উষার বয়স যখন ১৭ তার বাবা-মা পাড়ার এক ছেলের সাথে তার প্রেমের কথা জানতে পারেন।
পশ্চিম ভারতের গুজরাতে পাঁচমহল জেলার ছোট এক গ্রামে এটা খুব একটা অস্বাভাবিক কোন ঘটনা ছিল না।
কিন্তু উষার বাবা-মা এই সম্পর্ক মেনে নিতে চাননি, তাই উষা ও তার প্রেমিক পালিয়ে যায়।
উষা বলেন তারা বেশিদিন পালিয়ে থাকতে পারেননি। বাবা ক'দিনের মধ্যেই তাদের খুঁজে বের করেন এবং উষাকে বাড়ি নিয়ে আসেন।
আরও পড়তে পারেন:

"বাবা আমাকে দড়ি বেঁধে লাঠি দিয়ে পেটান, উপোষ করিয়ে রাখেন এবং এরপর এক লোকের কাছে আমাকে এক লাখ ২৫ হাজার রুপিতে বেচে দেন," তিনি বলেন।
উষা তার বিয়ের রাতে আবার বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। তিনি তার প্রেমিককে বিয়ে করেন এবং গর্ভবতী হন। কিন্তু তার সামনে হাজির হয় আরেকটি প্রতিবন্ধক।
আইনি সংস্কারের মাধ্যমে মেয়েদের বিয়ের বয়স বাড়িয়ে আইনগতভাবে ১৬ থেকে ১৮ করা হয়েছে।
ধর্ষণের 'মিথ্যা' মামলা
কাজেই উষার বিয়েতে সম্মতি দেবার আইনগত বয়স না হওয়ায়, তার বাবা-মা উষার প্রেমিক স্বামীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেন এবং তাকে জেলে পাঠান।
ছেলেটির পরিবারও পার পায়নি। উষাকে ধর্ষণের পর তাকে অপহরণ করার জন্য ছেলেটির সাথে মিলে চক্রান্ত করার অভিযোগ তারা আনেন ছেলেটির মায়ের বিরুদ্ধে।
"আমি দু সপ্তাহ কারাগারে কাটাই। উষার পরিবার আমাদের বাসা তছনছ করে, আমাদের ঘরের দরোজা ভেঙে আমাদের গরুছাগল নিয়ে গেছে। প্রাণ বাঁচাতে আমাদের গা ঢাকা দিতে হয়," বলেন ছেলেটির মা।
এটা ছিল ধর্ষণের 'মিথ্যা' মামলা। অল্পবয়সী যে তরুণীকে আইনের রক্ষা করার কথা, সেই আইনের ব্যবহার তার জীবনকে দুঃসহ করে তুলেছিল।
এধরনের কত যে 'মিথ্যা' ধর্ষণের মামলা আদালত পর্যন্ত ওঠে, তার হিসাব নেই।

আইনজীবীরা বলছেন এধরনের মিথ্যা মামলাও ইতোমধ্যেই প্রায় ভঙ্গুর আইনি ব্যবস্থার ওপর কীভাবে বাড়তি চাপ তৈরি করছে তার প্রমাণ তারা দেখেছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন মূল সমস্যা অনেক গভীরে যা আইন বদলে সমাধান করা যাবে না।
অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের বাবা-মায়ের মতের বিরুদ্ধে যাওয়া খুবই কঠিন, এক তারা নাবালিকা, দুই তারা আর্থিকভাবে পরিবারের ওপর নির্ভরশীল, বলছেন গরিমা জৈন।
মিজ জৈন নেদারল্যান্ডসের টিলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আন্তর্জাতিক এক প্রতিষ্ঠানে ধর্ষণের শিকার নারীদের মনস্তত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করছেন।
"আমি যখন এসব মেয়েদের কাছে সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করেছি, আমি দেখেছি যখন তাদের প্রেমিকদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের 'মিথ্যা মামলা' দিয়ে তাদের জেলে পাঠানো হয়, তখন সেটা যে তাদের সম্পর্ক ধ্বংস করে দেয় তাই নয়, এই ঘটনা ওই মেয়ের মনে গভীর একটা ক্ষত তৈরি করে। শুধু তাই নয়, বাবা-মায়ের আরও কঠিন নিয়ন্ত্রণের বেড়াজালে তার জীবন দু:সহ হয়ে ওঠে।"
আনন্দী নামে একটি বেসামরিক সংস্থার সাহায্য নিয়ে উষা তার স্বামী ও স্বামীর পরিবারের সদস্যদের জেল থেকে বের করতে আনতে এবং তার বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে সক্ষম হন।
উষার বয়স ১৮ হওয়া মাত্রই তিনি নিজের বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে মানবপাচারের অভিযোগ মামলা দায়ের করেন। তিনি বলেন তার উপায় ছিল না।
"তরুণীরা যদি তাদের পছন্দের ছেলেকে বিয়ে করতে পারতো, তাহলে সংসার অনেক সুখের হতো," উষা বলেন।

উষার পরিবার আনন্দী সংগঠনের সমাজকর্মীদের বিরুদ্ধে পাচারের মামলা করার হুমকি দিয়েছিলেন।
গ্রামীণ এলাকায় মেয়ের বিয়েতে সম্মতিদানের বয়স নিয়ে আইনের অপব্যবহারের অনেক ঘটনা ঘটছে।
পুলিশে দায়ের করা প্রাথমিক অভিযোগ বা এফআইআর-যেগুলো ২০১৩, ২০১৪ এবং ২০১৫য় জমা দেয়া হয়েছে সেগুলোর ওপর একটি জরিপ চালিয়ে সংস্থাটি বলছে তার মধ্যে ৯৫% অভিযোগই বাবা-মায়ের দায়ের করা এধরনের অভিযোগ।
আনন্দীর সমাজকর্মী সীমা শাহ বলছেন: "ধর্ষণের বিচারের জন্য আইন সঠিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে না। অল্পবয়সী মেয়েরা তাদের কথা বলতে পারছেন না।"
'দলিত নারীদের হয়ে লড়তে আইন পড়েছি'
মায়া বেশ সাহসী মুখ নিয়ে কথা বলতে শুরু করেছিলেন, কিন্তু শক্ত থাকতে পারছিলেন না।
তার কাহিনি আমাকে বলতে চাইছিলেন, কিন্তু প্রায়ই মানসিক যন্ত্রণায় ভেঙে পড়ছিলেন।
মায়া দলিত সম্প্রদায়ের নারী। হিন্দু জাতপাতের বিচারে দলিতদের নিম্নবর্ণের মানুষ বলে বিবেচনা করা হয়।
তিনি প্রথমে গিয়েছিলেন এঞ্জিনিয়ারিং পড়তে। সেসময় উচ্চ বর্ণের এক পুরুষ তাকে অনুসরণ করতে শুরু করে।
ওই ব্যক্তি তার প্রেমের প্রমাণ দিতে নিজের হাত কেটে ফেলে এবং মায়ার প্রত্যাখান কিছুতেই মানতে রাজি হয় না। কিন্তু পরে মায়াকে সে ধর্ষণ করে।

"সে ছিল লম্বা-চওড়া লোক, আমি চেষ্টা করেও তাকে থামাতে পারিনি," মায়া বলছিলেন।
মায়ার বাবা-মা তাকে পুলিশে অভিযোগ ডায়রি করাতে সাহায্য করেছিলেন, কিন্তু পরে ঐ ব্যক্তি মায়াকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে সম্প্রদায়ের চাপের কাছে তারা মাথা নোয়াতে বাধ্য হন।
তারা ভেবেছিলেন একজন ধর্ষিতা নারী হিসাবে সমাজে কলঙ্কিত হবার হাত থেকে তারা তাকে রক্ষা করেছেন। কিন্তু মায়ার বিবাহিত জীবন ছিল অন্য আরেকটি নরক।
"আমার স্বামীর পরিবার বলতো তুমি একজন দলিত, নোংরা গন্ধওয়ালা ড্রেনের মত, তোমার দিকে তাকাতেও আমাদের ঘৃণা হয়," কাঁদতে কাঁদতে মায়া বললেন।
"আমার স্বামী মদ খেয়ে ঘরে ফিরত, পুলিশে তার নামে ডায়রি করার জন্য আমাকে গাল দিত, মারত, এবং আমাকে কুরুচিপূর্ণ বিভিন্ন যৌন কাজে বাধ্য করত, আমি না চাইলেও শুনত না।"
মায়া আত্মহত্যা করার কথাও ভেবেছিল।
একদিন স্বামী ভুল করে দরোজা খুলে রেখে যাওয়ায় মায়া পালিয়ে বেঁচেছিল।
দলিত একজন আইনজীবী ও অধিকার কর্মী মণীষা মাশালের সাথে আলাপ হবার পর মায়া প্রকৃত মুক্তির স্বাদ অনুভব করেন।
মণীষা হরিয়ানায় পড়াশোনা করছিলেন ধর্ষিতা দলিত মেয়েদের নিয়ে।
মণীষা দেখেছিলেন জাতপাতের বৈষম্য এবং যৌন সহিংসতা বন্ধের জন্য যেসব আইন আছে সেগুলো অকার্যকর। কারণ বহু দলিত নারী জানেই না এসব আইন আদৌ আছে বলে।

অভিযুক্তরা বেশিরভাগ সময়ই অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানের মানুষ হন।
এছাড়াও পুলিশ, বিচার বিভাগ এবং প্রশাসনে জাতিগত বৈষম্যর ব্যাপারটা প্রকটভাবে কাজ করে।
মণীষা চাইছেন দলিত নারীদের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে।
তিনি মায়ার মত ধর্ষিতা দলিত নারীদের আইন পড়ায় উৎসাহ দিচ্ছেন।
মায়াও এটাকে জীবনে এগিয়ে যাবার পথে একটা সুযোগ হিসাবে নিয়েছেন।
তিনি ধর্ষণের অভিযোগ আবার নতুন করে দায়ের করেছেন এবং নতুন অভিযোগে তাকে দিয়ে জোর করে অস্বাভাবিক যৌনকাজ করানোর বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করেছেন। মণীষার সাথে আলাপ হবার তার আত্মবিশ্বাস বেড়েছে।
"আমি আইন পড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি যাতে ধর্ষণ ও নির্যাতনের পর মুখ বন্ধ করে রাখা দলিত নারীদের হয়ে আমি লড়তে পারি।"
মায়া ও আরও জনা ছয়েক ধর্ষিতা নারী মণীষার সাথে ছোট একটি বাড়িতে থাকেন।

"উচ্চ বর্ণের মানুষ দলিত মেয়েদের সামগ্রী হিসাবে বিবেচনা করে, তাদের প্রয়োজনমত ব্যবহার করা বা ফেলে দেয়া যায়," বলছেন মণীষা।
"তাদের ওপর নির্যাতনের কথা যদি দলিতরা বলার চেষ্টা করেন, তাদের খুন করে ফেলা হয়।"
অভিযুক্তর পরিবারগুলো প্রায়ই মণীষাকে হুমকি ধামকি দেন, কিন্তু তিনি তাতে ভয় পেয়ে পিছু হঠতে নারাজ।
তিনি দলিত সম্প্রদায়ের মধ্যে একজন নেত্রী হয়ে গেছেন। তিনি দলিত তরুণী এবং বিচার ব্যবস্থার মধ্যে একটা সেতুবন্ধন।
"আমাদের সম্প্রদায়ে নারীরা সহিংসতার শিকার হন এবং মুখ বুজে মৃত্যু বরণ করেন। আমি সেটা চাই না। আমি ধর্ষণের শিকার নারী হয়ে বাঁচতে চাই না। আমি লড়তে চাই।"
(ভারতীয় আইন মোতাবেক ধর্ষিতা নারীদের নাম এখানে বদলে দেয়া হয়েছে।)
প্রতিবেদনে সহযোগিতা করেছেন তেজাস ভৈধ্য।








