শাহরুখ খান: বলিউডের 'কিং অফ রোম্যান্স' যেসব চমকপ্রদ বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন

ছবির উৎস, Getty Images
ভারতীয় সিনেমার সুপারস্টার শাহরুখ খান আজ সোমবার পালন করছেন তার ৫৫তম জন্মদিন।
তবে এরই মধ্যে ক্যারিয়ারের ৩০ বছর পূর্ণ করেছেন তিনি।
এই ত্রিশ বছরে যেমন তিনি নিজেকে সুপারস্টারে পরিণত করেছেন, তেমনি বেশ কিছু বিতর্কেও জড়িয়েছেন অনেক।
ওয়াংখেড়ে কাণ্ড
ভারতীয় টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আইপিএল-এ অন্যতম আলোচিত দল কলকাতা নাইট রাইডার্স, আর শুরু থেকেই দলটির অন্যতম মালিক শাহরুখ খান।
মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ২০১২ সালে আইপিএলের একটি ম্যাচ শেষে স্টেডিয়ামের কর্মীদের সাথে বিতণ্ডায় জড়িয়ে খবরের শিরোনাম হন তিনি।
এই ঘটনায় মি. খানকে পাঁচ বছরের জন্য ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে নিষিদ্ধ করা হয়।
মুম্বাই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন এই ঘটনার পর শাহরুখের ওপর ক্ষিপ্ত হয়। সংগঠনটি বলেছিল, ওই ঘটনায় শাহরুখ খানের ব্যবহার যথাযথ ছিল না।

ছবির উৎস, Getty Images
যুক্তরাষ্ট্রে বিমানবন্দরে ঝামেলা
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিমানবন্দরে তিনবার শাহরুখ খানকে 'আটক' করা হয়।
২০১২ সালে নিউইয়র্কের হোয়াইট প্লেইনস এয়ারপোর্টে ৯০ মিনিট আটকে রাখা হয় তাকে।
২০১৬ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস এয়ারপোর্টে একবার আটকে রাখা হয় - সেবার দু'টি টুইটও করেন শাহরুখ বিষয়টি উল্লেখ করে।
২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আরকেটি বিমানবন্দরে দুই ঘণ্টা আটক ছিলেন শাহরুখ, সেবার ভারতের দূতাবাস থেকে হস্তক্ষেপ করে তাঁকে ছাড়িয়ে নেয়া হয়।
বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:
ভারতে অসহিষ্ণুতা নিয়ে কথা বলে তোলপাড়
২০১৫ সালে শাহরুখ খান একটি টেলিভিশন চ্যানেলে ভারতে ওই সময়ে চলমান নানা রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা নিয়ে কথা বলেন এবং এ নিয়ে ঝামেলায়ও পড়েন।
শাহরুখ বলেছিলেন যে অসহিষ্ণুতা 'চরম একটা পর্যায়ে আছে এবং আমি মনে করি এটা বাড়ছে'।
ভারতে মুক্তবুদ্ধি চর্চাকারীদের হত্যা এবং গরুর মাংস খাওয়াকে কেন্দ্র করে একজনকে মেরে ফেলার ঘটনার পরে বিজ্ঞানী, ইতিহাসবিদ ও চলচ্চিত্রের সাথে জড়িতদের অনেকেই রাষ্ট্র থেকে পাওয়া নানা পুরস্কার ফেরত দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন তখন।
শাহরুখ খান বলেন, "মাংস খাওয়ার মতো একটা বিষয় নিয়ে আমরা যা করছি! মানুষের খাদ্যাভাস কী করে একটা ইস্যু হতে পারে।"

ছবির উৎস, NurPhoto
বিষয়টিকে 'নির্বুদ্ধিতা' আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, "অসহিষ্ণুতাই আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা। দেশপ্রেমিক হিসেবে ধর্মীয় ঘৃণা ছড়ানো এবং ধর্মনিরপেক্ষ না হওয়াটাই একটা বড় অপরাধ।"
শাহরুখ খানের এই বক্তব্যের পর ভারতে টুইটার ব্যবহারকারীদের মধ্যে তোলপাড় পড়ে যায়। বিশেষত ভারতের রাজনৈতিক দল বিজেপির নেতারা এ ধরনের মন্তব্যের জন্য শাহরুখের সমালোচনা করেন।
তবে বেশ অনেকেই আবার শাহরুখের পক্ষেও কথা বলেন - তাদের যুক্তি ছিল এমন যে শাহরুখ খান একটি সময়োচিত ইস্যুতে কথা বলেছেন।
সালমান খানের সাথে বিবাদ
ভারতের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির আরেক সুপারস্টার সালমান খানের সাথে এক পর্যায়ে শাহরুখ খানের বিবাদ শুরু হয়।
এর আগে বেশ কয়েকটি সফল সিনেমায় দু'জন একসাথে অভিনয় করলেও দুই খান একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দাঁড়িয়ে যান।
দুই নায়কের ভক্তরাও এটা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা তর্কে বিতর্কে জড়ান।
তবে উভয়পক্ষই এখন দাবি করছেন যে তাদের মধ্যকার সম্পর্কের দূরত্ব মিটে গেছে।
২০১৮ সালের শেষ দিকে মুক্তি পাওয়া 'জিরো' সিনেমায়, দু'জন একসাথে একটি গানে নাচেনও।
ফারাহ খানের স্বামীকে থাপ্পড়ের ঘটনা
শাহরুখ খান বলিউডের সিনেমা পরিচালক ও কোরিওগ্রাফার ফারাহ খানের স্বামী শিরিশ কুন্দারকে একবার চড় মেরেছিলেন।
অভিনেতা সঞ্জয় দত্তের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক পার্টিতে এই ঘটনা ঘটে।
ভারতের গণমাধ্যমে এই খবর বেশ ফলাও করে ছাপা হয় এবং সিনেমার ভক্তদের মধ্যে এটা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হয়।
ফারাহ খান শাহরুখের জনপ্রিয় সিনেমা 'ম্যা হু না' এবং 'ওম শান্তি ওম'-এর পরিচালক।








