বিদেশি মদ ও অবৈধ ওয়াকিটকি রাখার দায়ে ইরফান সেলিমকে এক বছরের কারাদণ্ড

ছবির উৎস, Getty Images
বাংলাদেশে নৌবাহিনীর একজন কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনার জের ধরে বিদেশি মদ রাখার দায়ে এক ভ্রাম্যমাণ আদালত ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম এবং তার দেহরক্ষী - দু'জনের প্রত্যেককে এক বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছে।
পুরনো ঢাকার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে র্যাব ছেলে ইরফান সেলিমকে গ্রেফতার করেছে।
বাড়িটিতে প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে অভিযানের পর র্যাবের মুখপাত্র লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ্ জানিয়েছেন, অবৈধ ওয়াকিটকি এবং বিদেশি মদ উদ্ধার হওয়ায় ইরফান সেলিম এবং তার দেহরক্ষী মো. জাহিদকেআটক করা হয় এবং র্যাবের সাথে থাকা আদালত দু'জনকে এক বছর করে কারাদণ্ড দেয়।
এই অভিযানে দু'টি অবৈধ অস্ত্র, গুলি, হাতকড়া এবং বাড়ির পাশে একটি টর্চার সেলও পাওয়া গেছে বলে র্যাব জানিয়েছে।
ইরফান সেলিম ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৩০ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর।
এদেরকে আটক করার লক্ষ্যে দুপুর থেকে হাজি সেলিমের বাড়িটিকে ঘিরে অভিযান চলে।
মারধরের শিকার লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমদ খান নামে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা সোমবার সকালে ধানমন্ডি থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় আসামীদের তালিকায় প্রথমেই রয়েছে ইরফান সেলিমের নাম।
ধানমন্ডি থানার তদন্ত কর্মকর্তা আশফাক রাজীব হাসান বলছেন, মামলার এজাহারে আসামীদের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে পথরোধ করে সরকারি কর্মকর্তাকে মারধর, জখম ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা আসামীদের মধ্যে ইরফান সেলিম ছাড়াও এবি সিদ্দিক দিপু, মোহাম্মদ জাহিদ এবং গাড়ি চালক মিজানুর রহমানের নাম উল্লেখ করা আছে। এছাড়া ২/৩ জন অজ্ঞাতনামা আসামীর কথাও বলা আছে।
গাড়ি চালক মিজানুর রহমানকে আগেই আটক করা হয়েছে বলে জানাচ্ছে পুলিশ।
আরো পড়ুন:
কী ঘটেছিল:
মামলার এজাহারে বেআইনিভাবে পথরোধ, সরকারি কর্মকর্তাকে মারধর, জখম ও প্রাণনাশের হুমকি এবং হত্যা চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, রাস্তায় গাড়ি থেকে নেমে মোটরসাইকেল আরোহী ওই নৌবাহিনী কর্মকর্তাকে মারধর করা হয় রবিবার রাতে।
খবরে বলা হচ্ছে, তিনি সস্ত্রীক মোটরসাইকেলযোগে ফিরছিলেন। এসময় একটি গাড়ির সঙ্গে মোটরসাইকেলটির ধাক্কা লাগার পর গাড়িটি থেকে অভিযুক্তরা নেমে এসে ওই কর্মকর্তাকে মারধর করেন।
এমনকি তিনি নিজের পরিচয় দেয়ার পরও অভিযুক্তরা মারধর অব্যহত রেখেছে বলে খবরে উল্লেখ করা হয়।
গাড়িটিতে সংসদ সদস্যের স্টিকার লাগানো ছিল বলে খবরে বলা হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে এরইমধ্যে একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে যাতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি তার ওপর হওয়া হামলার বর্ণনা দিচ্ছেন।
তিনি বলছেন, তাকে বিনা কারণে একতরফাভাবে আঘাতের পর আঘাত করা হয়। এতে তার একটি দাঁতও ভেঙ্গে যায়।
তার স্ত্রীর গায়েও হাত তোলা হয়েছে বলে ভিডিওতে তিনি দাবি করেন।
এই ভিডিওটি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
তবে বাংলাদেশের স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোতে ভিডিওর এই ব্যক্তিকে লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমদ খান বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগের ব্যাপারে ইরফান সেলিমের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
বিবিসি বাংলায় আরো খবর:








