করোনা ভাইরাস: বিজ্ঞানীরা এখন কেন মনে করছেন কোভিডের জন্য বাদুড় দায়ী নয়

ছোট নাকওয়ালা ফলগাছের বাদুড়, থাইল্যান্ড

ছবির উৎস, Science Photo Library

ছবির ক্যাপশান, বাদুড় পৃথিবীতে রয়েছে পাঁচ কোটি বছরের ওপর

ড. ম্যাথিউ বুওরগারেল মাঝেমধ্যেই গ্রামের প্রবীণদের অনুমতি নিয়ে পবিত্র গুহার ভেতরে ঢোকেন। সেখানে যেসব জিন বা প্রেতাত্মা থাকেন, তাদের তুষ্ট করতে উপহার নিয়ে যান।

মাস্কে মুখ ঢেকে, সারা গা ঢাকা পোশাক ও তিন পরতের দস্তানা পরে তিনি গুহার অন্ধকারে দড়ির মই বেয়ে নামেন। গুহার এক কুঠুরি থেকে আরেক কুঠুরিতে ঢুকতে তাকে রীতিমত কসরৎ করতে হয়।

আফ্রিকার জিম্বাবোয়েতে এই গুহার ভেতরে সর্বত্র বাদুড়ের দুর্গন্ধ, মেঝেতে তাদের বিষ্ঠা জমে আছে পরতে পরতে। সেখান দিয়ে তাকে সন্তর্পণে হাঁটতে হয়। তাজা বরফের ওপর দিয়ে হাঁটলে পায়ের নিচে যেমন বরফ ভাঙে, তেমনি তার পায়ের চাপে বিষ্ঠার পরত ভাঙে গুহার মধ্যে।

হঠাৎ হঠাৎ বাদুড়গুলো আচমকা ঘুম ভেঙে ডানা ঝাপটায়। ভেতরে উড়ে বেড়ায়।

জিম্বাবোয়ের মানুষ বাদুড়কে ডাকেন ''ডানাওয়ালা ড্রাগন'', ''উড়ন্ত ইঁদুর'' বা শুধু ''শয়তান'' নামে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই স্তন্যপায়ী জীবটিকে বহু রোগের উৎস হিসাবে দেখা হয়। কিন্তু এর ভিত্তি কতটা সঠিক?

জিম্বাবোয়ের একটি গুহা

ছবির উৎস, M Bourgarel/Cirad

ছবির ক্যাপশান, ছোট প্রজাতির বাদুড় সাধারণত বাস করে গুহার ভেতরে

ড. বুওরগারেল ফরাসি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিরাড-এর জন্য ভাইরাস অনুসন্ধানীর কাজ করেন। তিনি কাজ করেন জিম্বাবোয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে। তিনি এবং তার সহকর্মীরা জিম্বাবোয়েতে বাদুড়ের গুহা থেকে বাদুড়ের বিষ্ঠা এবং অন্যান্য নমুনা সংগ্রহ করেন।

এরপর গবেষণাগারে, বিজ্ঞানীরা বাদুড়ের ভাইরাস থেকে জিন আলাদা করেন এবং সেই জিনের গঠন ও প্রকৃতি নিয়ে গবেষণা করেন। তারা ইতোমধ্যেই বাদুড়ের শরীরে বিভিন্ন ধরনের করোনাভাইরাস আবিষ্কার করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে সার্স এবং সার্স-কোভ-২ ভাইরাসও।

বাদুড় যেসব ভাইরাসের বাহক সেগুলোর জিনগত গঠন এবং তার বৈচিত্র বোঝার জন্য বিশ্ব ব্যাপী যেসব গবেষণা চলছে তার অংশ হিসাবে কাজ করছেন ড. বুওরগারেল ও তার সহকর্মীরা। তাদের গবেষণার একটা লক্ষ্য হলো বাদুড়বাহী ভাইরাসে মানুষ আক্রান্ত বা অসুস্থ হলে কীভাবে তার মোকাবেলা করতে হবে সে বিষয়ে প্রস্তুত থাকা।

"স্থানীয় মানুষ প্রায়শই বাদুড়দের বাসস্থান এই গুহাগুলোতে যায় বাদুড়ের বিষ্ঠা সংগ্রহ করতে। স্থানীয়রা ফসল ক্ষেতে সার হিসাবে এই বিষ্ঠা ব্যবহার করে। কাজেই এই বাদুড় কীধরনের জীবাণু বহন করে তা জানা একান্তই জরুরি। কারণ খাদ্যের মাধ্যমে এসব ভাইরাস মানুষকে সংক্রমিত করতে পারে কিনা তা জানার প্রয়োজন রয়েছে," বলছেন জিম্বাবোয়ে ইউনিভার্সিটির ড. এলিজাবেথ গোরি।

আরও পড়তে পারেন:

গুহায় ঢুকছেন বিজ্ঞানীরা

ছবির উৎস, M Bourgarel/Cirad

ছবির ক্যাপশান, বাদুড়ের গুহায় ঢোকার সময় বিজ্ঞানীরা পুরো সুরক্ষা পোশাক পরেন।

বাদুড় বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভিত্তিহীন ভয় আর পৌরাণিক ধারণা থেকে কোনরকম ভাইরাস সংক্রমণ হলেই বাদুড়কে তার জন্য দায়ী করার একটা প্রবণতা রয়েছে। তারা বলছেন বাদুড় সম্পর্কে মানুষের সবচেয়ে বেশি ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে এবং পৃথিবীতে বাদুড়ের মূল্যায়ন হয়েছে সবচেয়ে কম। তাদের মতে এই ভ্রান্ত ধারণার কারণে বাদুড় একটা বিপন্ন প্রজাতিতে পরিণত হয়েছে।

পুরাকাহিনি, গল্পগাঁথা ও নানা সংস্কারের কারণে বাদুড়কে দেখা হয় মানুষের জন্য একটা অভিশাপ বয়ে আনা প্রাণী হিসাবে। আর সংস্কৃতির শিকড়ে গেঁথে যাওয়া এসব ভয়ভীতি ও পৌরাণিক সংস্কার কোভিডের পর আরও তীব্র হয়েছে।

Presentational white space

বাদুড় সম্পর্কে কিছু তথ্য

  • বাদুড় একমাত্র স্তন্যপায়ী প্রাণী যারা সত্যিকার অর্থে উড়তে সক্ষম
  • পোকামাকড় খাওয়া বাদুড় আমেরিকান কৃষকদের জন্য বছরে ৩৭০ কোটি ডলারের ফসলের ক্ষতি রোধ করতে পারে
  • শত শত প্রজাতির উদ্ভিদ পরাগায়নের জন্য বাদুড়ের ওপর নির্ভরশীল
  • বাদুড়ের বাসস্থান ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন, শিকার এবং অন্যান্য নানা কারণে যার ফলে বাদুড় বিপন্ন প্রজাতি হিসাবে হুমকিতে

তথ্য সূত্র: ব্যাট কনজারভেশন ইন্টারন্যাশানাল

Presentational white space

যে করোনা ভাইরাস বিশ্ব ব্যাপী বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে সেই কোভিড-১৯এর সঠিক উৎস এখনও নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। তবে বিজ্ঞানীদের একটা ব্যাপক অংশ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, এই ভাইরাস কোন প্রাণী প্রজাতি থেকে মানুষের শরীরে প্রবেশ করেছে এবং সেই প্রাণী খুব সম্ভবত বাদুড়।

তবে এর মানে এই নয় যে এর জন্য বাদুড়রা দায়ী। বাদুড় বিশেষজ্ঞ এবং বাদুড় সংরক্ষণকে জরুরি বলে মনে করেন যেসব বিশেষজ্ঞ তারা বলছেন এর জন্য দায়ী মানুষের আচরণ। বাদুড় মানুষকে এই ভাইরাস দেয়নি, তারা বলছেন মানুষ যেভাবে বন্য প্রাণীর স্বাভাবিক জীবন যাপনে হস্তক্ষেপ করছে সেটাই এই ভাইরাস মানুষের শরীরে ঢোকার মূলে।

মানুষ প্রকৃতি ধ্বংস করছে, বন্য প্রাণীর আবাসস্থলে হানা দিচ্ছে নানা কারণে এবং নতুন নতুন রোগ ছড়িয়ে পড়ছে সে কারণেই - বলছেন এই বিশেষজ্ঞরা। নেচার সাময়িকীর এক নিবন্ধ বলছে, যখন বনাঞ্চল কেটে বা জমির ঘাস তুলে গরুর খাবার বানানো হয়, বা সয়াবীন চাষের জন্য অথবা রাস্তা ও বসতি নির্মাণের জন্য জমি ও জঙ্গল কেটে সাফ করা হয়, তখন বন্য প্রাণীদের স্বাভাবিক বাসস্থান ধ্বংস হয়, তারা মানুষ ও গবাদি পশুর কাছাকাছি এসে বাসা বাঁধতে বাধ্য হয় এবং এর ফলে এসব প্রাণীদেহ থেকে ভাইরাস মানুষের শরীরে সহজে ঢোকার সুযোগ তৈরি হয়।

"এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে সম্ভাব্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ রোগগুলোর বাহক হিসাবে অন্যান্য অনেক প্রজাতির প্রাণীর মধ্যে বাদুড় অবশ্যই একটি,'' বলছেন পর্তুগালের পোর্তো বিশ্ববিদ্যালয়ের রিকার্ডো রোশা।

তবে তিনি বলছেন ১,৪০০ বা তার বেশি প্রজাতির বাদুড় রয়েছে। সেদিক দিয়ে দেখতে গেলে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, পোষা জন্তু এবং ইঁদুর প্রজাতির বড় সংখ্যক পশুর শরীরের ভাইরাস থেকে মানুষের সংক্রমিত হওয়ার আশংকাও কিন্তু কোন অংশে কম নয়। কারণ এসব পশুপাখি মানুষের বাসস্থানের খুব কাছাকাছি থাকে।

আরও পড়তে পারেন:

বোর্নিওর হারানো বনাঞ্চল
ছবির ক্যাপশান, ২০০০ সাল থেকে বোর্নিওতে ২০ হাজার বর্গ মাইল জঙ্গল কেটে ফেলা হয়েছে

বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন মানুষের শরীরে নতুন যেসব সংক্রমণ হচ্ছে তার প্রতি চারটির মধ্যে তিনটিরই উৎস কোন প্রাণী। ২০০২ সালে এই ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করে দেয়া হয়েছিল, যখন চীনে রহস্যজনক রোগ সার্সের প্রাদুর্ভাব ঘটে। সার্সে বিশ্বে মারা গিয়েছিল প্রায় ৮০০ মানুষ।

গবেষকরা ২০১৭ সালে চীনের ইউনান প্রদেশে প্রত্যন্ত অঞ্চলে গুহার ভেতরে হর্স-শু ব্যাট নামে বিশেষ এক প্রজাতির বাদুড়ের আস্তানা খুঁজে পান। যাদের শরীরে মানুষের শরীরে পাওয়া সার্স ভাইরাসের জিন পাওয়া গিয়েছিল। এই বাদুড়ের নাকের উপরটা ঘোড়ার খুরের আকৃতির বলে এদের হর্স-শু বাদুড় বলা হয়। তখন ওই গবেষকরা হুঁশিয়ার করে দিয়েছিলেন যে, একই ধরনের একটা রোগ আবার আসতে পারে এবং তাদের কথাই এখন সত্যি হয়েছে।

কিন্তু বিজ্ঞানীরা যেটা বলার চেষ্টা করছেন সেটা হলো, এই রোগ ছড়ানোর জন্য পুরো দায় বাদুড় বা অন্য কোন প্রজাতির প্রাণীর ওপর চাপানোটা ঠিক নয়। প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত, কোভিড মহামারির পর সেটা মূল্যায়ন করা এখন সবচেয়ে জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে বলছেন ড. রোশা। তিনি বলছেন স্বাস্থ্যসম্মত একটা পরিবেশগত ভারসাম্য তৈরি করতে এবং মানুষের ভালোর জন্য পৃথিবীতে বাদুড়ের প্রয়োজন আছে। ভাইরাসের বাহক বলে তাদের নির্মূল করাটা মানবজাতির জন্য সঠিক হবে না।

ফসলের ক্ষতি করে এমন পতঙ্গের শত্রু হলো বাদুড়। তারা উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলে বহু প্রজাতির গাছের পরাগায়ন করে, যা ফসল ফলানোর জন্য জরুরি। বিশেষ করে ফলের গাছের বাদুড় পরাগায়ন না করলে সেসব গাছে ফল ধরবে না। এছাড়াও জঙ্গলে অনেক গাছের বীজ বাদুড় ছড়ায়, যা জঙ্গলে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য আবশ্যিক। প্রাকৃতিক নিয়মে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা করতে হলে বাদুড়ের প্রয়োজন।

মেক্সিকোয় বাদুড়
ছবির ক্যাপশান, মেক্সিকোর একটা চুনাপাথরের গুহা থেকে বাদুড় বেরচ্ছে

ব্রিটেনে গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. ডেভিড রবার্টসনও বলছেন, প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে ভাইরাস সংক্রমণের জন্য শুধু বাদুড়কে দায়ী করে তাদের নিধনের কথা ভাবলে সেটা "নিতান্তই দু:খজনক পরিণতি" ডেকে আনবে। তিনি বলছেন পশুপাখির বাসভূমি মানুষ যাতে ধ্বংস না করে, তাদের কাছাকাছি আসার পথগুলো যদি মানুষ বন্ধ করে তবেই এধরনের সংক্রমণের পথ বন্ধ করা সম্ভব হবে।

বাদুড় তার শরীরে এধরনের ভাইরাস বহন করছে বহু যুগ ধরে। তিনি বলছেন সার্স-কোভ-টু-র ভাইরাস বাদুড়ের শরীরে রয়েছে অনেক দশক ধরে, এবং সবসময়ই এই ভাইরাসের অন্য প্রাণীকে সংক্রমিত করার ক্ষমতা ছিল, কিন্তু সম্প্রতি মানুষ যেহেতু প্রাণীর কাছাকাছি আসছে বেশি বা তাদের স্বাভাবিক বাসস্থান নষ্ট করে দিচ্ছে তাই মানুষের জন্য সংক্রমণের ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে।

কোভিড-১৯ সংক্রমণ ছড়ানোর পর পেরু, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, চীন এবং ইন্দোনেশিয়ায় বাদুড় নিধন অভিযান হয়েছে। কোথাও কোথাও বাদুড় মারার চেষ্টা হয়েছে, কোথাও কোথাও অনেক বাদুড় মেরে ফেলা হয়েছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন এই মহামারির মধ্যে বাদুড় মারার অভিযানে হিতে বিপরীত হতে পারে এবং বাদুড়ের মধ্যে ভাইরাস থাকলে এসব অভিযানের মাধ্যমে তা পরিস্থিতি আরও বিপদজনক করে তুলতে পারে।

মিশরের ফ্রুট ব্যাট
ছবির ক্যাপশান, উষ্ণমণ্ডলে ফলের গাছের বাদুড় তাদের শরীরের ভেতর অনেক সময় গাছের বীজ বহন করে এবং তা অনেক দূর দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে দেয়

''সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, অনেক প্রজাতির বাদুড় এখন বিপন্ন এবং নিশ্চিহ্ণ হয়ে যাবার ঝুঁকিতে রয়েছে। কাজেই ভুল ধারণার বশবর্তী হয়ে মানুষ এখন তাদের মারতে শুরু করলে পরিবেশের বন্ধু হিসাবে তারা যে কাজগুলো করে সেগুলো পুরো হারিয়ে যাবে, যেটা মানবজাতির ভবিষ্যতের জন্য শুভ হবে না,'' বলছেন কেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাগলাস ম্যাকফারলেন।

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বাদুড় আর মানুষ সহাবস্থান করেছে। পর্তুগালের কয়ম্ব্রা শহরের ১৮শ শতাব্দীতে তৈরি এক বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে ৩০০ বছরের বেশি সময় ধরে বাদুড় বাস করছে। তারা লাইব্রেরির পোকামাকড় খেয়ে বাঁচে। তারা যদি ওসব পোকা না খেত, লাইব্রেরির বহু প্রাচীন পুঁথি ও পাণ্ডুলিপি পোকায় খেয়ে শেষ করে দিতো। সন্ধ্যাবেলা যদি সেখানে যান, দেখবেন লাইব্রেরির জানালা দিয়ে বাদুড় বাইরে বেরিয়ে আসছে এবং পাথুরে রাস্তার ঢাল বেয়ে নিচে নেমে আসছে।

রিকার্ডো রোশা বলছেন আমাদের মনে রাখতে হবে জটিল প্রাণী চক্রের সঙ্গে বাদুড়ও অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে আছে। পৃথিবীর প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় তাদেরও ভূমিকা আছে। "আমরা যদি সেই প্রাকৃতিক নিয়মকে উপেক্ষা করে তাকে অসুস্থ করে তুলি, তার মূল্য দিতে আমাদের অসুস্থ হতে হবে," তিনি বলছেন ইতিহাসের এই কঠিন সময়ে মহামারির এই বিপর্যয় থেকে আমাদের এখন এটা ভাবার সময় এসেছে।