অনন্ত জলিল: ধর্ষণ আর নারীদের পোশাক বিষয়ে নতুন ভিডিও-তে যা বলেছেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্র তারকা

ছবির উৎস, ANANTA CIP
"আমি মেয়েদেরকে সম্মান করি, শুধু মেয়েদের না সারা দেশের মানুষকে সম্মান করি," এই বলে নতুন প্রকাশ করা ভিডিও-তে বক্তব্য শুরু করেন অনন্ত জলিল।
বাংলাদেশের এই চলচ্চিত্র অভিনেতা এর আগে ফেসবুক পাতায় একটি ভিডিও আপলোড করেছিলেন, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা হয়।
অনেক শোবিজ তারকাও অনন্ত জলিলের এই ভিডিও নিয়ে কথা বলেছেন।
প্রথম ভিডিওটির শুরুতে মি. জলিল ধর্ষকদের বিরুদ্ধে বেশ কিছু কথা বলেছেন, তবে ভিডিওর পরবর্তী অংশে তার বেশ কিছু কথার মাধ্যমে ধর্ষণের শিকার ব্যক্তিদেরই দোষারোপ বা 'ভিকটিম ব্লেমিং' করা হয়েছে বলে অনেকেই অভিযোগ করেছেন।
কিন্তু নতুন আপলোড করা ভিডিওতে নিজের বক্তব্য পরিবর্তন করেন অনন্ত জলিল।
ভিডিওটির ক্যাপশন হলো, "ধর্ষণের জন্য নারীদের পোশাক না, পুরুষদের বিকৃত মানসিকতাই দায়ী।"
তিনি বলেন, "আমি ২০০৮ থেকে মিডিয়াতে। এখন ২০২০। অনন্ত জলিলের ক্যারেকটার সবার জানা। মেয়েদেরকে আমি সম্মান করি, মেয়েরা মায়ের জাতি।"
বাংলাদেশে ধর্ষণ বিরোধী চলমান আন্দোলনের মধ্যে অনন্ত জলিল সব মিলিয়ে তিনটি ভিডিও ফেসবুকে আপলোড করেন। এর মধ্যে প্রথম ভিডিওটিতে তিনি নারীদের পোশাক নিয়ে বক্তব্য দেয়ার পর পরের দু'টিতে তিনি নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন।
প্রথম ভিডিওতে নারীরা কী করলে ধর্ষণের শিকার হবে না, সে বিষয়ে কিছু মতামত দিচ্ছিলেন বলে জানিয়েছেন মি. জলিল।
কিন্তু এ নিয়ে তুমুল সমালোচনা শুরু হলে তিনি ড্রেসের ব্যাপারটা বাদ দিয়ে এবং আগের ভিডিও'র বিষয়ে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে ফেসবুক ও ইউটিউবে আরেকটি ভিডিও আপলোড করেন।
এরপর সর্বশেষ প্রকাশ করা ভিডিও-তে তিনি বলেন, একটি ব্যাপারে তিনি মর্মাহত।
অনন্ত জলিল বলেন, ভিডিওটিতে ৩ মিনিট ৪৯ সেকেন্ড ধর্ষকদের বিরুদ্ধে বলেছি, যারা পোশাক নিয়ে সমালোচনা করেছেন তাদের চোখে পড়েনি।
"আমি যে ধর্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর কথা বললাম, সেগুলো নিয়ে অ্যাপ্রিশিয়েট করতে পারতেন।"
তিনি আরও বলেন, "নেগেটিভটাই আপনাদের কাছে বড়।"
এরপরের অংশে তিনি আগের ভিডিওটির কিছু অংশ জুড়ে দেন।
শনিবার রাতে অনন্ত জলিলের ফেসবুক পাতায় ধর্ষণ ইস্যুতে প্রথম ভিডিওটি আপলোড করা হয়। রোববার সারাদিনই ওই ভিডিও নিয়ে ফেসবুকে বেশ আলোচনা-সমালোচনা দেখা গেছে।
অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন তার ফেসবুকে লেখেন, "আমি মেহের আফরোজ শাওন, বাংলাদেশের একজন চলচ্চিত্র ও মিডিয়াকর্মী এবং স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের সচেতন নাগরিক হিসাবে বাংলাদেশের নারীদের প্রতি কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এবং অসংলগ্ন বক্তব্য সম্বলিত ভিডিও বার্তা দেয়ার জন্য জনাব অনন্ত জলিলকে বয়কট করলাম।"
আরো পড়ুন:
প্রথম ভিডিওতে যা বলেন অনন্ত জলিল
"আমি আজ কিছু কঠিন কথা বলবো," এই বলে তার বক্তব্য শুরু করেছিলেন অনন্ত জলিল।
ধর্ষণের মতো অপরাধের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরোধিতা করে মূলত তিনি ভিডিও বার্তায় বক্তব্য রাখেন।
তবে ভিডিওর এক পর্যায়ে তিনি বলেন, "আমাদের দেশের সমস্ত মেয়েদের উদ্দেশ্যে কিছু বলি ভাই হিসেবে। সিনেমা, টেলিভিশন সোশাল মিডিয়াতে অন্য দেশের অশ্লীল ড্রেসআপ দেখে ফলো করার চেষ্টা করো। এবং ফলো করে সেইম ড্রেসআপ পরে ঘোরাঘুরি করো।
এরপর তিনি বলেন, "এই চেহারার দিকে মানুষ না তাকিয়ে তোমাদের ফিগারের দিকে তাকায়"।
"ফিগারের দিকে তাকিয়ে বখাটে ছেলেরা বিভিন্নভাবে মন্তব্য করে এবং রেপ করার চিন্তা তাদের মাথায় আসে ... তোমরা কি নিজেদের মডার্ন মনে করো? এটা কি মডার্ন ড্রেস নাকি অশালীন ড্রেস?"
তিনি মেয়েদের 'শালীন পোশাক' পরার ওপর জোর দেন।
অনন্ত জলিল বলেন, "নিজেকে একটা ভদ্র মেয়ের পাশে দাঁড় করিয়ে দেখো, কত বাজে লাগে।"
"ছেলেদের মতো একটা টি-শার্ট পরে রাস্তায় বের হয়ে যাও। খুব মডার্ন তুমি! নিজেকে অনেক মডার্ন মনে করো! তারপর ইজ্জত হারিয়ে বাসায় যাও। হয় আত্মহত্যা করো, নয়তো কাউকে আর মুখ দেখাতে পারো না।"
"শালীন ড্রেস পরলে যারা বখাটে, যারা ধর্ষণের চিন্তা-ভাবনা করে তারাও তোমার দিকে তাকাবে না। সম্মান করবে। মাটির দিকে তাকিয়ে চলে যাবে," বলেন তিনি।
ধর্ষণের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান চালু করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অনুরোধও জানান অনন্ত জলিল।








