আবুধাবি বিমানবন্দরে হয়রানি: দুই কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ পাবে বাংলাদেশী যাত্রী

বাংলাদেশী যাত্রী তানজিন বৃষ্টি ও নাহিদ সুলতানা যুথী ২০১১ সালের ২৮শে জুন ক্যানাডা যাচ্ছিলেন এতিহাদ এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে।

আবুধাবি বিমানবন্দরে কোনো একটি বিষয়ে তাদের সাথে বাকবিতণ্ডা হয় এয়ারলাইন্সটির কর্মকর্তাদের এবং এর জের ধরে ওই বিমান সংস্থার কর্মকর্তারা তাদের অনেকক্ষণ ধরে আটকে রাখেন ও পরে ঢাকায় ফেরত পাঠান।

ঘটনাটি পরে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ-এর পক্ষে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ সংশ্লিষ্টদের একটি আইনি নোটিশ পাঠান।

কিন্তু নোটিশের কোনো জবাব না আসায় ওই বছরের জুলাইয়ে তিনি একটি রিট পিটিশন দাখিল করেন।

মি. মোরসেদ বিবিসি বাংলাকে বলছেন, দীর্ঘ শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার দেয়া রায়ে আদালত যাত্রীদের দু'জনকে এক কোটি করে টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে এতিহাদকে।

এ টাকা আগামী ৬০ দিনের মধ্যে পরিশোধ করারও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে ঐ রায়ে।

এই রায়ের ব্যাপারে বিবিসি বাংলা এতিহাদ এয়ারলাইন্সের সাথে যোগাযোগ করেও এখনও কোন বক্তব্য জানতে পারেনি।

তানজিন বৃষ্টি বিবিসিকে বলেছেন, এ ধরণের একটি রায় খুব জরুরি ছিলো কারণ ওখানে বাংলাদেশীদের সাথে কী ধরণের আচরণ হয় সেটা প্রমাণের জন্যই এই রায় দরকার ছিলো।

বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:

যা ঘটেছিলো আবুধাবি বিমানবন্দরে

তানজিন বৃষ্টি বলেন, তিনি ও তার মা ক্যানাডা যাচ্ছিলেন। তিনি ক্যানাডার পাসপোর্টধারী আর তার মা ছিলেন বাংলাদেশী পাসপোর্টধারী।

তিনি জানান, আবুধাবিতে তাদের স্টপওভার ছিলো এবং এক পর্যায়ে পরবর্তী ফ্লাইটে উঠার জন্য পাসপোর্ট বোর্ডিং পাস দেখিয়ে তারা লাউঞ্জে ঢুকলেন।

লাউঞ্জ থেকে যাত্রীরা আবার পাসপোর্ট ও বোর্ডিং দেখিয়ে সরাসরি ফ্লাইটে ওঠেন।

কিন্তু দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ফ্লাইটে উঠার সময় তানজিন বৃষ্টির পাসপোর্ট আর বোর্ডিং পাস দেখে তাকে ঢুকতে দেয়া হলেও তার মাকে আটকে দেয়া হলো কারণ তার আগের গেটে বোর্ডিং পাসের উল্টো দিকে সিল মারেনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

"ওই ভয়াবহ ঘটনা এখনো ভুলতে পারিনা। এক পর্যায়ে আমাদের রুমে নিয়ে ভারবালি হ্যারাস করতে শুরু করলো। শেষ পর্যন্ত দূতাবাস থেকে প্রতিনিধি এলেও শুরুতে তার সাথে দেখা করতে দিলোনা। সারাদিনের হয়রানির পর এক পর্যায়ে আমরা ছাড়া পেলাম ও নিজের টাকায় টিকেট কেটে ঢাকায় ফিরতে বাধ্য হয়েছিলাম"।

রায়ে যা বললেন আদালত

মনজিল মোরসেদ বলছেন, "রায়ে আদালত বলেন দু'জন নারীকে আবুধাবি এয়ারপোর্টে যে ধরণের হয়রানি ও নির্যাতন করা হয়েছে তা অর্থদণ্ডে পরিমাপ করা যায় না। এছাড়া আদালত এতিহাদ এয়ারলাইন্সকে সতর্ক করে বলেছে লিঙ্গ ও গায়ের রং বিবেচনায় ভবিষ্যতে কোনো যাত্রীর সাথে যেন এমন আচরণ না করা হয়।"

মি. মোরসেদ জানান, এতিহাদ কর্তৃপক্ষ লিখিত জবাবে ঘটনার সত্যতা অস্বীকার করে এবং যাত্রীর আচরণকেই দায়ী করেছিলেন। কিন্তু আদালত ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে দাখিলের নির্দেশ দিলে বলা হয় যে সেটি সংরক্ষিত নেই।

ওদিকে, বাংলাদেশের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেসুর রহমান রায়ের আগে আদালতকে বলেন যে ঘটনাটি নিয়ে এখনো তদন্ত কমিটি কাজ করছে এবং তদন্ত শেষ হতে সময় লাগবে।

মনজিল মোরসেদ বলছেন, মামলার শুনানিতে তিনি বলেছেন যে একজন বাংলাদেশী নাগরিক যখন দেশের বাইরে ভ্রমণ করবেন তখন তার সুযোগ সুবিধা ও অধিকার দেখভালের দায়িত্ব বিদেশে বাংলাদেশের মিশনের। কিন্তু আবুধাবি এয়ারপোর্টের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ করলেও বিষয়টি তারা আবুধাবি কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করেনি।

বিবিসি বাংলায় অন্যান্য খবর: