করোনা ভাইরাস: 'সৌদি আরবের সাথে বাংলাদেশের ফ্লাইট জটিলতা কাটছে'

বিমানবন্দরে শ্রমিক

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, মহামারির কারণে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ থাকায় দেশে এসে আটকে পরেছেন বহু শ্রমিক।
    • Author, শাহনাজ পারভীন
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা

সৌদি আরবের সাথে বিমান চলাচল পুনরায় চালু করা নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল তা সমাধান করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।

কর্মকর্তারা বলছেন, অক্টোবরের এক তারিখ থেকে বিমান বাংলাদেশ ও সৌদি এয়ারলাইন্স ২৩শে সেপ্টেম্বর থেকে ফ্লাইট পরিচালনা করবে।

এর আগে সৌদি আরবের কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ বিমানকে ফ্লাইট চলাচলের অনুমতি না দেয়ায় হঠাৎ করেই টিকেটের জন্য হাজার হাজার শ্রমিক সৌদি এয়ারলাইন্সের অফিসের সামনে ভিড় করছিলেন। কেননা সৌদি এয়ারলাইন্স বাংলাদেশে ফ্লাইট চালু করার ঘোষণা দিয়েছিল।

কী সিদ্ধান্ত হয়েছে?

গত কয়েকদিন যাবত হঠাৎ করে ঢাকায় সৌদি এয়ারলাইন্সের যে প্রধান বিক্রয় কেন্দ্র সেটির সামনের সড়কে টিকেটপ্রত্যাশী শত শত শ্রমিক ভিড় করছিলেন।

এরা মূলত সৌদি আরবে আগে থেকেই কাজ করতেন কিন্তু দেশে এসে করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারির কারণে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ থাকায় আটকা পরে আছেন।

তাদের মধ্যে নতুন শ্রমিক, যাদের সৌদি আরব যাওয়ার জন্য ভিসা, নিয়োগপত্রসহ সব কিছু প্রস্তুত, এমন শ্রমিকও রয়েছেন।

বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো: মহিবুল হক বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, "সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ বিমানকে সপ্তাহে আটটি কমার্শিয়াল ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দিয়েছে। রিয়াদ, জেদ্দা এবং দাম্মাম এই তিনটি গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবে বাংলাদেশ বিমান। অন্যদিকে সৌদি এয়ারলাইন্সও বাংলাদেশের কাছে যতগুলো ফ্লাইট পরিচালনা করতে চাইবে তার অনুমতি দেয়া হবে।"

আরো পড়ুন:

তবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: মোকাব্বির হোসেন জানিয়েছেন, "সৌদি আরব অক্টোবরের ১ তারিখ থেকে বিমানের বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত প্রদান করেছে কিন্তু আসন বরাদ্দ আরম্ভ করার আগে ল্যান্ডিং পারমিশন আবশ্যক। ল্যান্ডিং পারমিশন পাওয়া যায় নি। ফলে যাত্রীদের আসন বরাদ্দ আরম্ভ করার জন্য ফ্লাইট এখনই ঘোষণা করা সম্ভব হচ্ছে না। ল্যান্ডিং পারমিশন পাওয়ার সাথে সাথেই ফ্লাইট ঘোষণা করা হবে।"

তিনি আরও জানিয়েছেন, যে যাত্রীর কাছে সৌদি আরব যাওয়ার ফিরতি টিকিট ও আগে থেকেই কেনা টিকেট রয়েছে কেবল তাদের শুরুতে আসন বরাদ্দ করা হবে।

আপাতত নতুন টিকিট বিক্রি করা হবে না। আসন বরাদ্দের বিস্তারিত তথ্য আগামীকাল বিমানের ওয়েব সাইটে পাওয়া যাবে।

ভিড় এড়ানোর জন্য মার্চ, এপ্রিল, মে এরকম মাস অনুযায়ী ফিরতি টিকেট 'রিকনফার্ম' করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

বিমানবন্দরে শ্রমিক

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারির কারণে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ থাকায় দেশে এসে আটকে পরেছেন বহু শ্রমিক।

এই জটিলতা কিভাবে তৈরি হল?

মো: মহিবুল হক বলছেন, এই জটিলতা শুরু হয়েছে যখন সৌদি সরকার হঠাৎ করেই ঘোষণা দিয়েছে যে শ্রমিকদের সেপ্টেম্বরের ৩০ তারিখের মধ্যে সৌদি আরবে ফিরতে হবে।

মহামারির কারণে মার্চের শেষের দিকে সৌদি আরবের সাথে সকল আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ থাকায় অনেক শ্রমিক দেশে এসে আর ফিরতে পারেননি।

অনেক নতুন শ্রমিক রয়েছেন যাদের বৈধ পাসপোর্ট, আহকামা বা সৌদি আরবে কাজের অনুমতিপত্র এবং বিমান টিকেট থাকা সত্ত্বেও তারা যেতে পারেননি।

অনেকেরই ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে বা যাওয়ার পথে। এদের সংখ্যা দুই লাখের মতো। বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক শ্রমিকের গন্তব্য সৌদি আরব।

আরো পড়ুন

তাদেরকে এমাসের ৩০ তারিখের মধ্যে সৌদি আরবে যেতে বলা ছাড়াও সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে সৌদি আরবের সাথে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পুনরায় চালুর একটা ঘোষণা এসেছিল সেখানকার কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে।

বাংলাদেশের সরকারি বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সও সৌদি সরকারের শর্ত সাপেক্ষে ফ্লাইট আংশিকভাবে চালু করতে চেয়েছিল।

কিন্তু সৌদি আরবের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ সেই অনুমতি বাংলাদেশ বিমানকে দেয়নি। এরপর বাংলাদেশও সৌদি এয়ারের ফ্লাইট চলাচলের অনুমতি বাতিল করে দেয়।

মো: মহিবুল হক বলছেন, "শ্রমিকদের আতঙ্কিত হওয়াটা খুব যুক্তিসঙ্গত ছিল। শ্রমিকরা ফিরে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন কারণ তারা আয়হীন অবস্থায় খুব দুর্দশায় পরেছেন। কাজেই ফ্লাইট যদি না থাকে তাহলে তারা কিভাবে ফিরবে? যে জটিলতা ছিল তা নিরসন হয়ে গেছে।"

অন্যান্য খবর: