করোনা ভাইরাস টিকা: ট্রায়াল স্থগিত হলেও ভারতের সেরাম ইন্সটিটিউটের সাথে চুক্তি থাকছে বেক্সিমকোর

ছবির উৎস, Getty Images
ব্রিটেনের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি এবং অ্যাস্ট্রাজেনেকা কোম্পানির যৌথ উদ্যোগে তৈরি করোনাভাইরাস ভ্যাকসিনের ট্রায়াল স্থগিত হলেও ওই ভ্যাকসিন বাংলাদেশে সরবরাহ করার জন্য ভারতের সেরাম ইন্সটিটিউটের সাথে বাংলাদেশের যে চুক্তি হয়েছিলো তা বহাল থাকার কথা জানিয়েছে বেক্সিমকো।
বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের চিফ অপারেটিং অফিসার রাব্বুর রেজা বিবিসি বাংলাকে জানান, ট্রায়াল পর্যায়ে এসব সমস্যা হওয়া স্বাভাবিক বিষয় এবং এতে সেরামের সাথে চুক্তিতে কোনো প্রভাব ফেলবেনা।
"আমরা যোগাযোগ করেছি। ট্রায়াল বন্ধ হয়েছে যৌক্তিক কারণে। এখন আবার রিভিউ হবে এবং পরে আবার প্রক্রিয়া চলবে। এভাবেই সবার জন্য নিরাপদ ভ্যাকসিন আসবে," বলছিলেন মিস্টার রেজা।
যদিও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রাজেনেকা মিলে করোনাভাইরাসের যে টিকাটির চূড়ান্ত পরীক্ষা করছিল, একজন অংশগ্রহণকারী অসুস্থ হয়ে পড়ার পর সেটি গত নয় সেপ্টেম্বর স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
ব্যাখ্যা করা যায় না, এমন অসুস্থতার কারণে এরকম বিরতিকে 'রুটিন' কাজের অংশ হিসাবে বর্ণনা করেছিলো অ্যাস্ট্রাজেনেকা।
যদিও এই টিকার ফলাফলের দিকে সারা বিশ্বই তাকিয়ে আছে এবং করোনাভাইরাসের টিকা উৎপাদনে বিশ্ব জুড়ে যেসব চেষ্টা চলছে, তার মধ্যে অ্যাস্ট্রাজেনেকা-অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের টিকাকেই সবচেয়ে সম্ভাবনাময় হিসাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় প্রত্যাশা করা হচ্ছে যে, এই টিকাটি সবার আগে বাজারে আসবে।
ওই করোনাভাইরাস ভ্যাকসিনের পেটেন্ট নিয়ে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট টিকাটি উৎপাদন করার দায়িত্ব পেয়েছে এবং ভারতীয় এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেই বাংলাদেশের বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস একটি চুক্তি করেছে বলে জানানো হয়েছে।
বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:

ছবির উৎস, OXFORD UNIVERSITY
গত ২৮শে অগাস্ট বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, 'ভ্যাকসিনটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পেলে প্রথম যে দেশগুলো ভ্যাকসিন পাবে' বাংলাদেশ হবে তার মধ্যে একটি।
পরে নয়ই সেপ্টেম্বর টিকাটির ট্রায়াল স্থগিতের খবরের পর বেক্সিমকোর সাথে সেরামের চুক্তির পরিণতি কি হয় বা এ সম্পর্কে নতুন কোনো ঘোষণা আসে কিনা তা নিয়ে অনেকেই কৌতুহলি ছিলেন।
বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের চিফ অপারেটিং অফিসার রাব্বুর রেজা বলছেন যে এ নিয়ে তারা মোটেই উদ্বিগ্ন নন।
"এ ভ্যাকসিনের সঙ্গে জড়িত খ্যাতিমান ডোনার সংস্থাগুলোর কেউই সরে যায়নি। তাছাড়া ট্রায়াল করাই হয় এ জন্য যাতে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা যায়। ট্রায়াল বন্ধ মানে টিকা তৈরির প্রক্রিয়া বন্ধ হওয়া নয়। রিভিউতে সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধান করে ভ্যাকসিন আসবে। তখন চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশে বেক্সিমকো তা সরবরাহ করবে"।
প্রসঙ্গত সংখ্যার হিসেবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সেরাম ইনস্টিটিউট। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যাকসিনটি বাদেও করোনাভাইরাসের সম্ভাব্য আরো দু'টি ভ্যাকসিনের ট্রায়াল পরিচালনা করছে তারা।
সংবাদদাতারা বলছেন, অক্সফোর্ডের এই টিকাটির পরীক্ষা এর আগেও একবার স্থগিত করা হয়েছিল। বড় ধরণের পরীক্ষায় এ ধরণের ঘটনা অনেক সময় ঘটে থাকে।
যখন কোন অংশগ্রহণকারীর অসুস্থতার কারণ তাৎক্ষনিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়না, তখন অনেক সময় তাদের হাসপাতালেও ভর্তি করা হয়।
তবে ধারণা করা হচ্ছে, শিগগিরই আবার পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু করা হবে।

ছবির উৎস, Getty Images
টিকা আবিষ্কারের দৌড়ে এখন কোথায় রয়েছে বিশ্ব?
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যেই বলেছেন, তেসরা নভেম্বরের নির্বাচনের আগেই তিনি একটি টিকা দেখতে চান। তবে তার এই মন্তব্য আশঙ্কা তৈরি করেছে যে, রাজনীতির কারণে নিরাপত্তার দিকগুলো যাচাই না করেই টিকা উৎপাদনের চেষ্টা হতে পারে।
কোভিড-১৯ টিকা উৎপাদনে চেষ্টা করছে, এমন নয়টি প্রতিষ্ঠান গত মঙ্গলবার বিরল এক ঘোষণায় নিশ্চিত করেছে যে, টিকা উৎপাদনে তারা সবরকম বৈজ্ঞানিক এবং গুণগত মান বজায় রাখবে।
ওই ঘোষণায় অংশ নেয়া নয়টি প্রতিষ্ঠানের একটি অ্যাস্ট্রাজেনেকা, যারা বলছে, তৃতীয় ধাপের ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার পরে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমোদনের আবেদন করা হবে।
জনসন এন্ড জনসন, বাইয়োএনটেক, গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন, ফাইজার, মের্ক, মর্ডানা, সানোফি এবং নোভাভ্যাক্সও ওই ঘোষণায় স্বাক্ষর করেছে।
তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, ''তারা সবসময়েই নিরাপত্তা এবং টিকা দেয়া ব্যক্তিদের সুরক্ষার বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেবে।''
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, বিশ্ব জুড়ে প্রায় ১৮০টি টিকা আবিষ্কারের চেষ্টা চলছে। তবে এর কোনটি এখনো ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বা তৃতীয় ধাপের পরীক্ষার কার্যক্রম শেষ করতে পারেনি।
সংস্থাটি বলছে, কার্যকারিতা এবং সুরক্ষার নিয়মনীতি মেনে কোন টিকাই এই বছরের মধ্যে আসতে পারবে বলে তারা মনে করে না। কারণ এসব টিকার নিরাপত্তার দিকগুলো যাচাই করতে সময় লাগে।
তা সত্ত্বেও চীন এবং রাশিয়া স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত টিকার প্রয়োগ করতে শুরু করেছে। সেসব টিকাও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তালিকায় পরীক্ষামূলক হিসাবে রয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ, খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) আভাস দিয়ে বলছে, তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগেই হয়তো করোনাভাইরাসের টিকার অনুমোদন দেয়া হতে পারে। টিকার ট্রায়াল স্থগিত হলেও ভারতের সাথে চুক্তি থাকছে বেক্সিমকোর








