আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
নির্মানাধীন পদ্মা সেতুর ছবি বা তথ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় দিতে মানা কেন
পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ বা নির্মাণ এলাকার কোন ছবি/ভিডিও বা অন্যান্য তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ না করতে নির্দেশনা দিয়েছেন পদ্মা সেতু প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম।
শনিবার সকালে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি প্রকল্পটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক, ঠিকাদার, প্রকৌশলীসহ ৮টি জায়গায় পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান।
ওই চিঠিতে পদ্মা সেতু প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বলা হয়েছে, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবারসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে পদ্মা সেতু সংশ্লিষ্ট কোন ভিডিও, ফটো বা এ সম্পর্কিত বার্তা তারা শেয়ার করতে পারবেন না।
এখন থেকে প্রকল্প পরিচালক ও প্রকল্পের জন সংযোগ কর্মকর্তারা তথ্য শেয়ার করবেন।
পদ্মা সেতু প্রকল্পে প্রকৌশলী, ঠিকাদারসহ অন্তত চার থেকে পাঁচ হাজার মানুষ কাজ করেন। সামনে জনবলের সংখ্যা সাত থেকে আট হাজার মানুষ হবে।
সবাই ঢালাওভাবে তথ্য ও ছবি শেয়ার করলে বিভ্রান্তিকর ভুল তথ্য বা গুজব ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিতে পারে সেজন্য এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, "এখন হাজার হাজার কর্মকর্তা কর্মচারীদের সবাই তো আর পদ্মা সেতুর অগ্রগতির কথা বা প্রকল্পের তথ্যের কথা জানাতে পারে না। সবাই তো বলতে পারে না যে কয়টি স্প্যান বসানো হয়েছে। সবাই যার যার আইডি থেকে যা ইচ্ছা শেয়ার দেবে তা তো হতে পারে না। এখন থেকে নির্দিষ্ট কয়েকজনই এ বিষয়ে তথ্য দেবেন।"
তবে কাজের প্রয়োজনে পদ্মা সেতুর কোন তথ্য বা ছবি শেয়ারের প্রয়োজন হলে সেটা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইমেইলে ও ক্ষুদে-বার্তায় পাঠানো হবে। কোন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করা হবে না বলে তিনি জানান।
প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বিবিসি বাংলাকে বলেন, "বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেল এবং নামী বেনামী গণমাধ্যমে পদ্মা সেতুর নানা ছবি সংগ্রহ করে ভুল তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রচার করে আসছে- সেজন্য এ ধরণের নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।"
আরও পড়তে পারেন:
সম্প্রতি পদ্মা সেতুর কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডের অনেক জিনিষপত্র ভাঙনের কারণে তলিয়ে যায়, এমন কিছু ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
মূলত সেই সময় থেকেই প্রকল্পের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মৌখিকভাবে নানা নির্দেশনা দিয়ে আসছিলেন।
তারই ধারাবাহিকতায় এবার লিখিতভাবে এই নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে বলে ওই কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন।
তবে গণমাধ্যমের তথ্য ও ছবি সংগ্রহের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা নেই- এটি নিশ্চিত করে শফিকুল ইসলাম জানান, "গণমাধ্যম কর্মীরা যথাযথ অনুমোদন নিয়ে ছবি ও তথ্য সংগ্রহ করে এবং তার সঙ্গে কিংবা জনসংযোগ কর্মকর্তার সাক্ষাৎকার নিয়ে সংবাদ প্রচার করতে পারবেন।"